দুই সেঞ্চুরি, ১ হ্যাটট্রিক; মিরপুরে এক ম্যাচে একাধিক রেকর্ড

পারভেজ হোসেন ইমনের দাপুটে সেঞ্চুরি
Vinkmag ad

ঝড়ের বিপরীতে টর্নেডোর দেখা মিলেছে মঙ্গলবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীর দেওয়া টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ২২১ রান তাড়া করে জিতেছে ফরচুন বরিশাল। ৪৪১ রানের ম্যাচে এসেছে দুই সেঞ্চুরি। রাজশাহী অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তের ১০৯ রানের বিপরীতে বরিশালের পারভেজ হোসেন ইমন ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছেন ঠিক ১০০ রান করে।

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তের সেঞ্চুরির সাথে আনিসুল ইসলাম ইমনের ঝড়ো ৬৯ রানের ইনিংসে রাজশাহীর দেওয়া ২২১ রানের লক্ষ্য ঠিক হয় ফরচুন বরিশালের জন্য। তামিম ইকবালের ৫৩ রানের সাথে পারভেজ হোসেন ইমনের সেঞ্চুরিতে ১১ বল ও ৮ উইকেট হাতে রেখে জয় পায় ফরচুন বরিশাল।

আগের ৫ ম্যাচে মাত্র ১ জয়, দলের ব্যাটিং বিভাগ ছিল পুরোদমে ব্যর্থ। আজকের আগে ফরচুন বরিশালের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ছিল ১৫২। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে জয়ের বিকল্প নেই এমন ম্যাচেই ব্যাট হাতে অনন্য কীর্তি গড়ে বসেন ফরচুন বরিশালের ব্যাটসম্যানরা। নির্দিষ্ট করে বললে যুব বিশ্বকাপ জয়ী দলের বাঁহাতি ব্যাটসম্যান পারভেজ হোসেন ইমন ও অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

উইকেট ও টুর্নামেন্টের পরিসংখ্যান বিবেচনায় বরিশাল তাড়া করতে নামে পাহাড়সম ২২১ রানের লক্ষ্য। শুরু থেকেই তেড়েফুঁড়ে খেলতে থাকেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সাইফ হাসান। ৪.৩ ওভার স্থায়ী জুটিতে আসে ৪৪ রান, ১৫ বলে ২৭ রান করে সাইফ হাসান বিদায় নিলে ভাঙে জুটি। তবে তার বিদায়ের পর পারভেজ হোসেন ইমন ক্রিজে এসে শুরু করেন তান্ডব।

দুজনে মিলে ৫৩ বলে জুটিতে যোগ করেন ১১৭ রান। রান আউটে কাটা পড়ে ৩৭ বলে ৫৩ রানে থামে অধিনায়ক তামিমের ইনিংস। ততক্ষণে জয়ের পথটা অবশ্য সহজ হয়ে যায় বরিশালের। তামিম যখন সাজঘরে ফেরেন তখন দলের প্রয়োজন ছিল ৪০ বলে ৬০ রান। রাজশাহীর বোলারদের নিয়ে ছেলে খেলা করা ইমন এই রানকেই বানিয়ে ফেলেন মামুলি। আফিফ হোসেনকে নিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছাতে খরচ করেন মাত্র ২৯ বল।

শেষদিকে বরিশালের জয়ের চাইতে ইমনের সেঞ্চুরি হওয়া নিয়ে জাগে শঙ্কা। শেষ তিন ওভারে বরিশালের জয়ের জন্য প্রয়োজন ১৪, ইমনের সেঞ্চুরির জন্য প্রয়োজন ছিল ১২ রান। অন্যপ্রান্তে আফিফ হোসেন দারুণ সঙ্গ দেওয়ায় শেষদিকে যা দাঁড়ায় ইমনের সেঞ্চুরি ও দলের জয়ে প্রয়োজন সমান ১১ রান।

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের করা ১৮তম ওভারের শেষ দুই বলে যথাক্রমে বাউন্ডারি ও সিঙ্গেল নিয়ে স্টড়াইক ধরে রাখেন ইমন। শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন মাত্র ৪! আনিসুল ইসলাম ইমনের করা ১৯তম ওভারের প্রথম বলেই মিড উইকেট অঞ্চল দিয়ে চার হাঁকিয়ে নিজের সেঞ্চুরি ও দলের জয় নিশ্চিত করেন ইমন। ৪২ বলে সেঞ্চুরি তোলার পথে ইমন হাকিয়েছেন ৯ চারের সাথে ৭ ছক্কা। ৪২ বলে ১০০ রানে অপরাজিত থাকা ইমন গড়েছেন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ানের রেকর্ড।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

ছক্কা বৃষ্টির ম্যাচে হয়েছে আরও একটি রেকর্ড। দুই ইনিংস মিলিয়ে এসেছে ২৮ ছক্কা যা বাংলাদেশি কোন ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড।

এর আগে টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়া বরিশাল বোলারদের উপর রীতিমত তান্ডব চালিয়েছে মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীর ব্যাটসম্যানরা। নির্দিষ্ট করে বললে দুই ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত ও আনিসুল ইমনের শত রানের জুটিতে স্কোরবোর্ডে ৭ উইকেটে ২২০ তোলে রাজশহী।

আনিসুল ফিফটির পর থামলেও টুর্নামেন্টের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন অধিনায়ক শান্ত। শেষ ওভারে হ্যাটট্রিক সহ চার উইকেট তুলে নেন ফরচুন বরিশাল পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি।

এমনিতে ব্যাট হাতে চলতি টুর্নামেন্টে বেশ ধারাবাহিক শান্ত। পাওয়ার প্লে তে দলকে ভালো শুরু এনে দেওয়াতে বড় ভূমিকা রাখা আনিসুলও মঙ্গলবার যেন আরও বেশি আক্রমণাত্মক খেলতে থাকেন। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৬৪ রান তোলা দুই ওপেনার জুটি লম্বা করেন ১২.২ ওভার পর্যন্ত।

ততক্ষণে স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ১৩১ রান। ২৫ বলে নিজের দ্বিতীয় ফিফটিতে পৌঁছানো আনিসুল ইমন থেমেছেন ৩৯ বলে ৭ চার ৩ ছক্কায় ৬৯ রান করে। সুমন খানের বলে আফিফ হোসেনের দারণ এক ক্যাচে পরিণত হন এই ওপেনার।

আনিসুল ফিরে গেলেও ব্যাট হাতে অশান্তই থাকেন অধিনায়ক শান্ত। অন্য প্রান্তে রনি তালুকদার (১৮) ও শেখ মেহেদী হাসান (০) ফিরে যান দ্রুতই। ৩২ বলে ফিফটি তুলে নেওয়া শান্ত সেঞ্চুরির আগে আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেন। পরের ২০ বলেই পৌঁছে যান তিন অঙ্কে।

ফরচুন বরিশালের বোলারদের তুলোধুনো করে ছক্কা বৃষ্টি নামান শান্ত। মাত্র ৪ চারের বিপরীতে সেঞ্চুরিতে পৌঁছান ১০ ছক্কা হাঁকিয়ে। ইনিংসের শেষ ওভারে কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে আউট হওয়ার আগে করেছেন ৫৫ বলে ৪ চার ১১ ছক্কায় ১০৯ রান। শান্ত সহ শেষ ওভারের প্রথম তিন বলে নুরুল হাসান সোহান (১২) ও ফরহাদ রেজাকে (০) ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক তুলে নেন কামরুল ইসলাম রাব্বি।

এক বল বিরতি দিয়ে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকেও (৪) ফেরান ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। ফলে ওভারে রাব্বি শিকার করেন চার উইকেট। নিজের প্রথম ওভারে ২১ রান হজম করা রাব্বির ইনিংস শেষে ফিগার দাঁড়ায় ৪-০-৪৯-৪! ফরচুন বরিশালের দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ২২০ রান।

এদিকে দলের বাজে বোলিং পারফরম্যান্সের দিনে ফরচুন বরিশালের দুঃসংবাদ হয়ে আসে দারুণ বোলিং করতে থাকা পেসার আবু জায়েদ রাহির চোট। নিজের তৃতীয় ওভারের দ্বিতীয় বল করতে গিয়ে বাঁ পায়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। ব্যথার তীব্রতা বেশি হওয়াতে স্ট্র্যাচারে করে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। যদিও পরে ফরচুন বরিশাল সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে চোট গুরুতর নয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী ২২০/৭ (২০), শান্ত ১০৯, আনিসুল ৬৯, রনি ১৮, মেহেদী ০, নুরুল ১২, সাইফউদ্দিন ৪, ফরহাদ ০, রাব্বি ৬*, মুগ্ধ ০*; সুমন ৪-০-৪৩-২, রাব্বি ৪-০-৪৯-৪

ফরচুন বরিশাল ২২১/২ (১৮.১), সাইফ ২৭, তামিম ৫৩, ইমন ১০০*, আফিফ ২৬*; সাইফউদ্দিন ৪-০-৪০-১

ফলাফলঃ ফরচুন বরিশাল ৮ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ পারভেজ হোসেন ইমন (ফরচুন বরিশাল)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

মাথায় আঘাত পেয়ে মাঠ ছেড়েছেন উইল পুকভস্কি

Read Next

সান্ত্বনার জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল অস্ট্রেলিয়া

Total
11
Share