‘৩০ বলে ৩০ রান করাতে আমি খারাপ কিছু দেখি না’

ক্যাপ্টেন্সির প্রেশার আসলে আপনাদের বানানো-তামিম ইকবাল

বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে এখনো পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ফরচুন বরিশাল অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তবে তার বেশিরভাগ ইনিংসই থেমেছে ৩০ পেরোনোর পরপর। তামিম নিজেই অবশ্য বলেছেন টি-টোয়েন্টিতে ৩০ রান করে আউট হওয়াটা পাপের মত। কিন্তু সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে তামিমের স্ট্রাইক রেট নিয়ে। পাঁচ ইনিংসের মাত্র দুটিতে রান করেছেন ১০০ এর বেশি স্ট্রাইক রেটে। তামিম নিজে অবশ্য এটিকে দারুণ কিছু না বললেও খুব খারাপ বলতে নারাজ।

টি-টয়েন্টি ফরম্যাটে তামিম বরাবরই খোলস বন্দী। হোক জাতীয় দল কিংবা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট, তামিমের ধীরগতির শুরু নিয়মিত ঘটনা। এ নিয়ে বিশ্লেষণও কম হয়না। সরাসরি তার দিকেও এ নিয়ে প্রশ্ন ছোঁড়া হয় গণমাধ্যমের পক্ষ থকে। জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম প্রতিবারই নিজের পক্ষে যুক্তি দিয়ে স্ট্রাইকরেটের বিষয়টিকে এড়ানোর চেষ্টা করেন।

তামিমের স্ট্রাইক রেটের প্রভাব পড়েছে ফরচুন বরিশালের দলীয় পারফরম্যান্সেও। পাঁচ ম্যাচে মাত্র এক জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে দলটি। আজ (৬ ডিসেম্বর) মিরপুরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তামিম ইকবাল জানিয়েছেন তার ধীরে খেলার কারণ।

তামিম বলেন, ‘আমার সাথে যারা খেলছে তারা কোন স্ট্রাইক রেটে খেলছে এটাও তো খেয়াল রাখতে হবে। ৩০ বলে ৩০ রান করাতে আমি খারাপ কিছু দেখি না, যদি পরিস্থিতি ওরকম থাকে। যখন আমরা ১৫০ রান তাড়া করছি, ঐসময় যদি ৩টা উইকেট পড়ে যায় তখন ২০ বলে ৩০-৪০ রান করা কঠিন। গত ম্যাচে দেখুন, দেড়শ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করছিলাম, আবারো ৩২ রানে আউট হয়ে গেছি। এ সময় বেশি না মেরে আরেকটু সময় নিয়ে খেললে ইনিংস বড় করা যেত। স্ট্রাইক রেট বলুন, ৩০ রান বলুন- প্রশ্ন সবসময় থাকবে, আপনারা সবসময়ই প্রশ্ন তুলবেন। এতে কোনো অসুবিধাও নেই।’

‘দিনশেষে যদি আমি ৪০ বলে ৪০ করাতে দল জিতে, এটা ভালো। আমি ১৫ বলে ৪০ করে দল হারলে এটা ভালো ইনিংস হল না। দিনশেষে কথা হল আমার দলে আমাকে কীভাবে খেলতে হবে। স্ট্রাইক রেটের চেয়েও আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হল যতক্ষণ উইকেটে থাকতে পারি, যত লম্বা ইনিংস খেলতে পারি। এই দলে আমি ৩০ রান করা ভালো বিষয় না। আমি যদি ৪০-৪২ বলেও ৫০ করতাম, হয়তবা ১০৯ রানে অলআউট না হয়ে ১৩০-১৩৫ রান হত, বোলারদের তখন চেষ্টার সুযোগ দেওয়া যায়। ১০০-১২০ রান করে অলআউট হয়ে গেলে তো কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হল না।’

এদিকে কোন কিছু যথেষ্ট না উল্লেখ করে তামিম ইঙ্গিত দিয়েছেন মানুষকে সন্তুষ্ট করা কঠিন। টুর্নামেন্টে এখনো পর্যন্ত নিজের ব্যাটিং পারফরম্যান্সকে একদম খারাপ বলতে নারাজ এই ওপেনার।

তিনি বলেন, ‘কোনোকিছুই যথেষ্ট না- এটাই বলব। এই টুর্নামেন্টে যতটুক ব্যাটিং করেছি আমার মনে হয় ভালোই ব্যাটিং করেছি। তবে হ্যাঁ, গত তিন ম্যাচে ৩০-৩০-৩০ করে আউট হয়ে যাওয়া আমার কাছ থেকে অগ্রহণযোগ্য। বিশেষ করে যে দলে আমি খেলছি যেখানে আমার পারফরম্যান্সের উপর অনেক কিছু নির্ভর করে।’

 

‘আমি ৩০ করে আউট হয়ে গেলে এটা আসলে একটা অপরাধ। ৩০ রানের ইনিংসগুলোকে যদি আমি ৫০, ৬০, ৭০ করতাম… অন্তত তিন ইনিংসের একটাও যদি করতাম তাহলে হয়ত ফলাফল অন্যরকম হত। তবে ব্যাটিং নিয়ে যদি বলি, যেভাবে বল স্ট্রাইক করছি, যে ধরণের ব্যাটিং করছি, ইটস ওকে। আমি বলব না এটা দারুণ। তবে খুব খারাপও নয়।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ফিটনেস টেস্টে উতরে গেছেন মাশরাফি, এবার লটারির পালা

Read Next

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড ঘোষণা

Total
19
Share