তারকাদের দলে ভিড়িয়ে বড় কিছুর স্বপ্ন দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

তারকাদের দলে ভিড়িয়ে বড় কিছুর স্বপ্ন দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়ার পর নিজেদের সম্প্রসারিত করছে ইউএসএ ক্রিকেট। সে লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভালো মানের ক্রিকেটারদের দিকে হাত বাড়িয়েছে তারা। এ কৌশলগত দিককে বেগবান করছে তাদেরই বাণিজ্যিক সহযোগী আমেরিকান ক্রিকেট এন্টারপ্রাইজ (এসিই)।

নিজেদের মাইনর ও মেজর ক্রিকেট লিগকে আরও জনপ্রিয় করতে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান সামি আসলাম এবং নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার কোরি অ্যান্ডারসনকে তিন বছরের জন্য অভিবাসনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং আমেরিকার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে তারা।

সম্প্রতি পাকিস্তানের টেস্ট ওপেনার সামি আসলামকে মেজর ক্রিকেট লিগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অন্যদিকে অ্যান্ডারসন মেজর লিগ টি-টোয়েন্টিতে ডালাস দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাবেন। তিনি নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলে ২ বছর ধরে সুযোগ পাচ্ছেন না। করোনার বেশিরভাগ সময় তিনি টেক্সাসে বসবাস করছেন, যেখানে তার বাগদত্তাও রয়েছেন। ডালাসের হয়ে কিছু লোকাল ম্যাচে খেলেছেন এবং এ বছর নিউজিল্যান্ডের কোন ঘরোয়া ম্যাচও খেলছেন না।

দুইদিন আগে মেজর লিগ ক্রিকেট নিজেদের বাণিজ্য বিস্তারের লক্ষ্যে আমেরিকার ক্রিকেটের সাথে কাজ করার জন্য পরিকল্পনা করেছে কোলকাতা নাইট রাইডার্স এবং ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের মালিক নাইট রাইডার্স গ্রুপ।

‘আমাদের দেশের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য এটি অবশ্যই দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া,’ বলেন ইউএসএ ক্রিকেটের প্রধান নির্বাহী ইয়ান হিগিন্স।

‘এটি অবশ্যই একটি নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতি। বিশ্বে আমাদের ক্রিকেটের মান বাড়াতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ভালো ক্রিকেটারদের দিয়ে আমাদের দল গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। অন্যান্য দেশের মত এখানেও বয়সভিত্তিক, মাইনর লিগ,মেজর লিগের আয়োজন করা হবে। অন্য দেশের পেশাদার ক্রিকেটাররা এখানকার ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে আমাদের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করলে তা আমাদের জন্য অনেক বেশি ইতিবাচক হবে।’

‘আমরা ক্রিকেটে জয় পেতে চাই। বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টিতে প্রতিনিধিত্ব করতে চাই, বিশ্বকাপে অংশ নিতে চাই। তাই জয়ের লক্ষ্যে আমাদের দল আরও সুগঠিত করতে হবে। আমাদের দেশে অনেকে নাগরিকত্ব পেতে চায়। আমরা চাই সহজভাবে বিভিন্ন দেশের তারকা ক্রিকেটারদের এখানকার নাগরিকত্ব দিতে, যাতে করে তারা আমাদের দেশের ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।’

আমেরিকার ক্রিকেট এন্টারপ্রাইজের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সমীর মেহতা বলেন, ‘আমেরিকার ক্রিকেটের জন্য যারা পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করতে আগ্রহী, আমরা এখানে তাদেরকে নিশ্চিত করছি। এখানে তারা বিভিন্ন বয়সভিত্তিক, ঘরোয়া ম্যাচ খেলতে পারবে এবং পরবর্তীতে জাতীয় দলের হয়ে খেলারও সুযোগ থাকছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ইউএসএ ক্রিকেট এ কর্মসূচি নিয়েছে।’

তিন বছরের অভিবাসনের ভিত্তিতে রাস্টি থেরনের ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে আমেরিকার হয়ে অভিষেক হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট থেকে অবসরের পর ফ্লোরিডায় চলে আসেন থেরন। এখানে এখন তিনি শিক্ষকতায় ডিগ্রি নিয়েছেন এবং আমেরিকার ক্রিকেটের সাথে কেন্দ্রীয় চুক্তি সম্পন্ন করেছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার অফ স্পিনার ড্যান পিডটও আমেরিকায় চলে এসেছেন এবং এই বছর চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে অনুর্ধ্ব ১৯ প্রতিনিধিত্ব করা উইলিয়াম লুডিকও নিউজিল্যান্ড ছেড়ে আমেরিকার টেক্সাসে চলে এসেছেন।

আরও কিছু খেলোয়াড়কে আনার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে ইউএসএ ক্রিকেট। তন্মধ্যে বার্বাডোজ এবং অ্যান্টিগার অ্যারন জোন্স, হেইডেন ওয়ালশ জুনিয়র এবং কারিমা গোর রয়েছেন। এছাড়াও তিন অস্ট্রেলিয়ান ক্যামেরন গ্যানন, ক্যামেরন স্টিভেনসন, ইয়ান হল্যান্ডের গত বছর আমেরিকার হয়ে অভিষেক হয়েছে।

ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপজয়ী দলের পেসার লিয়াম প্লাংকেটের স্ত্রী পেন্সিলভেনিয়ায় বসবাস করছেন এবং প্লাংকেটও প্রায়ই সেখানে থাকছেন। এ তাকে আমেরিকার নাগরিকত্ব দিয়ে ক্রিকেটে দলভুক্ত করতে চাইছে ইউএসএ ক্রিকেট বোর্ড।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

ভারতের জাদেজা-চাহাল কনকাশন সাব, বিতর্কের ঝড়

Read Next

মুমিনুলের বদলে চট্টগ্রামে রেকর্ড গড়া পেসার রুয়েল

Total
97
Share