আমি বলবো উইকেট খুবই খারাপঃ সুজন

খালেদ মাহমুদ সুজন

টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানদের খেলা। কিন্তু বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের প্রায় ম্যাচই হয়েছে লো-স্কোরিং। মিরপুরের উইকেটে যে ব্যাটসম্যানদের কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়, নিয়মিত দেখা যায় সেটি। উইকেট নিয়ে আবারও মন্তব্য করলেন খালেদ মাহমুদ সুজন। এ ধরনের উইকেটে টি-টোয়েন্টি খেলা কঠিন, তাই ব্যাটসম্যানদের মানিয়ে ব্যাট করার পরামর্শও দিলেন বেক্সিমকো ঢাকার কোচ।

জেমকন খুলনা টুর্নামেন্টের পঞ্চম ম্যাচে সর্বনিম্ন ৮৬ রানে অলআউট হয়েছে। সর্বোচ্চ ১৭৬ গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের। তবে শেষ ১০ ম্যাচে বেশিরভাগ ইনিংস ছিল লো স্কোরিং।

নিজেদের শেষ ম্যাচে বরিশালের করা ১০৮ রান টপকাতে ১৯ ওভার পর্যন্ত যেতে হয় ঢাকার ব্যাটসম্যানদের। বেক্সিমকো ঢাকার কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন মিরপুরের উইকেটের আচরণ বোঝাতে যেয়ে বলেছেন,

‘ছেলেদের মতে বল একটু গ্রিপ করছে। অন্য দলের ছেলেদের কাছ থেকেও শুনি। আমি নিজে যেহেতু ব্যাটিং করিনা তাই বলতে পারিনা। কিন্তু যেহেতু লো স্কোরিং হচ্ছে বুঝাই যাচ্ছে উইকেটে ওরকম পেস ছিলনা। মারার মত যে পেস থাকা দরকার সেটা ছিলনা। দুই দলের বোলাররা ভালো ব্যবহার করেছে।’

রাতের খেলায় শিশিরের প্রভাব থাকে। স্পিনারদের বল গ্রিপ করতে একটু সমস্যা হয়। আর মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটের অবস্থা নতুন কিছু নয়। চার-ছক্কার হাহাকার, টি-টোয়েন্টির গর্জন দেখা যায় না তেমন, ব্যাটসম্যানরা রানের জন্যে ধুঁকে মরেন, ম্যাচ হয় ম্যাড়ম্যাড়ে। মিরপুরের উইকেটের খারাপ অবস্থা আবার মনে করিয়ে দিলেন খালেদ মাহমুদ সুজন।

‘রাতের খেলায় যেহেতু কুয়াশা তাই বল স্লিপ করে ব্যাটে চলে গেছে। যার জন্য বড় স্কোরের একটা ম্যাচ হয়েছে। এমনিতে আমি বলবো উইকেট খুবই খারাপ। আমার মনে হয় আমাদের মানিয়ে নিয়ে ব্যাটিং করতে হবে।’

দারুণ বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়ে ওপেন করতে আসেন রবিউল ইসলাম রবি। অবশ্য বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি রবি। বেক্সিমকো ঢাকার ম্যানেজমেন্ট রবিকে একাদশে রেখে বোলিংয়েও কাজে লাগাচ্ছেন সঙ্গে তার ঘরোয়া ক্রিকেটের ব্যাটিং পারফর্ম ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় রয়েছে। কারণ ঘরোয়া ক্রিকেটে যে তার মূল পরিচয় ছিল ব্যাটসম্যান। তাই কয়েকম্যাচ খেললেই রবি নিজেকে প্রমাণ করতে পারবে বলে বিশ্বাস ঢাকার কোচের,

‘এটা আসলে আমাদের টিম কম্বিনেশনের কারণে করতে হচ্ছে। ৫-৬ টা বোলার নিয়ে খেলতে হবে আর এই ৫-৬ টা বোলারই সাকসেস হবে তা না। আমাদের ৬ নম্বর বোলারের সুযোগটা তৈরি করতে হয়। আপনি যদি দেখেন তিনটা পেসার বেসিক্যালি যদি দেখেন নাইম ও নাসুমকে নিয়ে যদি খেলি তাহলে রবি আমাদের ৬ নম্বর অপশন। এ ছাড়াতো বিকল্প নেই। রবি ঘরোয়া ক্রিকেটেও ওপেন করে বেসিক্যালি। টপ অর্ডারেই ব্যাট করে। হয়তোবা এখনো পর্যন্ত এরকম কিছু করতে পারেনি ব্যাট হাতে। ৭-৮ মাস মাঠের বাইরে থাকায় ওর জন্য যে কঠিন হচ্ছে সেটা সত্য কথা। কয়টা ম্যাচ খেললে কাভার করে ফেলবে।’

তানজিদ হাসান তামিম, মোহাম্মদ নাইম শেখ, ইয়াসির আলি রাব্বি ও শেষ ম্যাচে রবিউল ইসলাম রবি ওপেনিংয়ে ব্যাট হাতে আলো ছড়াতে পারেনি চলমান বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে। এই টপ-অর্ডার দায়িত্ব নিয়ে দেখে-শুনে ইনিংসের শুরুটা করলে মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা সংগ্রহ বড় করতে পারবে। কোচ সুজন মনে করছেন এমনই,

‘আর ওপেনিংটা আসলে আমরা সেভাবে করতে পারেনি। আমাদের টপ অর্ডার এখনো ক্লিক করতে পারেনি। আমরা চাই টপ অর্ডার ক্লিক করুক, তাহলে আমাদের ভালো একটা মিডল অর্ডার আছে। টপ অর্ডার রান না করলেও উইকেট যদি কম দেই আমার মনে হয় সুযোগ থাকবে লম্বা রান করার।’

বঙ্গবন্ধু টি টোয়েন্টি কাপে নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচের তিনটিতেই হারের স্বাদ পায় বেক্সিমকো ঢাকা। অনেকটাই বিপর্যস্ত ছিল। বুধবার লো স্কোরিং ম্যাচে স্বস্তির জয় পেয়েছে দলটি। তিন পরাজয় আর এক জয় নিয়ে রান রেটে পিছিয়ে থেকে পয়েন্ট টেবিলে সবার নিচে বেক্সিমকো ঢাকা।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ শেষ শফিউলের

Read Next

আবারও উইকেট উদযাপন করতে গিয়ে হাসান আলির চোট

Total
6
Share