গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের জয়রথ ছুটছেই

গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের জয়রথ ছুটছেই

দিনের প্রথম ম্যাচেই দেখা গিয়েছিল উইকেটে কতটা সংগ্রাম করতে হচ্ছিল ব্যাটসম্যানদের। ফরচুন বরিশালের ১০৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় বেক্সিমকো ঢাকাকে খেলতে হয়েছে ১৯তম ওভার পর্যন্ত। অথচ বুধবার দিনের দ্বিতীয় ম্যাচেই মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দেখা গেল রান উৎসব।

আগে ব্যাট করা গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম লিটন দাসের অপরাজিত ৭৮ রানে ভর করে পায় ৫ উইকেটে ১৭৬ রানের দলীয় সংগ্রহ। যা টুর্নামেন্টের এখনো পর্যন্ত সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলানো ম্যাচে আনিসুল ইসলাম ইমনের ফিফটির পরও যা তাড়া করতে পারেনি মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী। শেষ ওভারের রোমাঞ্চে ১ রানের জয়ে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম নিশ্চিত করে নিজেদের টানা চতুর্থ জয়।

উইকেট বিবেচনায় ১৭৭ রানের বড় লক্ষ্য তাড়ায় যেমন শুরুর দরকার ছিল তেমনই করেন মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীর দুই ওপেনার আনিসুল ইসলাম ইমন ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ইনিংসের প্রথম বলেই স্কয়ার লেগে সুইপ শটে চার মেরে শুরু ইমনের। ৫.৪ ওভারে দুজনে উদ্বোধনী জুটিতে তোলেন ৫৬ রান। মাত্র ১৪ বলে ২ চার ২ ছক্কায় ২৫ রান করে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে লিটন দাসকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শান্ত।

শান্তের বিদায়ের পর সাবলীল ছিল তরুণ ব্যাটসম্যান ইমনের ব্যাট। মোহাম্মদ আশরাফুলকে নিয়ে যোগ করেন আরও ৪৪ রান। ততক্ষণে তুলে নেন ফিফটিও। কিন্তু মোসাদ্দেকের বলে জীবন পেয়েও ২ বলের বেশি টিকতে পারেননি আশরাফুল। ১৯ বলে তার ব্যাট থেকে আসে ২০ রান।

আশরাফুলের পর বেশিক্ষণ টিকেনি ইমনও। ৩৪ বলে ফিফটিতে পৌঁছানো এই ওপেনার ফিরেছেন ৪৪ বলে ৫৮ রান করে। জিয়াউর রহমানের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ইনিংসটি সাজিয়েছেন ৬ চার ১ ছক্কায়। ইমনের বিদায়ে বলের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ে প্রয়োজনীয় রান। শেষ ৩৬ বলে রাজশাহীর প্রয়োজন ছিল ৬৯ রান।

শরিফুল ইসলামের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ার আগে ১৭ বলে ২৫ রান করে চেষ্টা করেন শেখ মেহেদী হাসান। শেষ ১২ বলে সমীকরণ দাঁড়ায় ২৭ রানে। শরিফুল ইসলামের করা ১৯তম ওভারে ১ চার ১ ছক্কায় ফরহাদ রেজা- নুরুল হাসান সোহান নেন ১৩ রান। চার-ছক্কা দুটোই হাঁকান ফরহাদ রেজা, অবশ্য ফিরেছেন ওভারের পঞ্চম বলে ৫ বলে ১২ রান করে।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য রাজশাহীর প্রয়োজন ১৪। মুস্তাফিজের করা প্রথম বলেই উড়িয়ে মারতে গিইয়ে শামসুর রহমানের হাতে ধরা পড়েন সোহান (৮)। পরপর দুই ডটে ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ চট্টগ্রামের দিকেই ঝুঁকে পড়ে। কিন্তু চতুর্থ বলে রনি হাঁকান ছক্কা, পঞ্চম বলে ইনসাইড এজ হয়ে বাউন্ডারির দেখা পেলে শেষ বলে প্রয়োজন পড়ে ৪ রান। তবে এই যাত্রায় শেষ হাসি মুস্তাফিজের সাথে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের। দুই রানের বেশি নিতে পারেনি রনি তালুকদার।

মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীকে ৭ উইকেটে ১৭৫ রানে আঁটকে দেওয়ার পথে দলের সেরা বোলারও মুস্তাফিজুর রহমান। ৩৭ রান খরচায় নিয়েছেন ৩ উইকেট। দুইটি উইকেট শিকার শরিফুল ইসলামের। একটি করে ভাগাভাগি করেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও জিয়াউর রহমান।

টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সফল জুটি গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের সৌম্য সরকার ও লিটন দাসের। রাজশাহীর বোলারদের দর্শক বানিয়ে এদিনও দুজনে জুটিতে যোগ করেন ৬২ রান। ৭.২ ওভার স্থায়ী জুটির অবসান ঘটে ২৫ বলে ৪ চার ২ ছক্কায় ৩৪ রান করে সৌম্য বিদায় নিলে।

সৌম্যের পর দ্রুত ফিরেছেন অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন (১১) ও শামসুর রহমান শুভও (১)। এরপরের গল্পটা অবশ্য লিটন দাস ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের। ইনিংসের ১৩ তম ওভারের প্রথম বলেই টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নেওয়া লিটন দাসের সামনে ছিল সেঞ্চুরি হাঁকানোর সুযোগ। তবে অন্যপ্রান্তে মোসাদ্দেকও ঝড়ো ইনিংস খেললে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় লিটনকে।

দুজনে মিলে জুটিতে যোগ করেন ৭২ রান। উইকেটের চারপাশে দারুণ সব শটের পসরা সাজিয়ে লিটন শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৭৮ রানে। ৫৩ বলে ৯ চার ১ ছক্কায় ইনিংসটি খেলেন এই উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান। এর আগে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল ফরচুন বরিশাল অধিনায়ক তামিম ইকবালের (৭৭)। শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে মোসাদ্দেকের ব্যাট থেকে আসে ২৮ বলে সমান দুইটি করে চার-ছক্কায় ৪২ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামঃ ১৭৬/৫ (২০), লিটন ৭৮* , সৌম্য ৩৪, মিথুন ১১, শামসুর ১ , মোসাদ্দেক ৪২, সৈকত আলি ০; মেহেদি ২-০-১৯-০, এবাদত ৪-০-৪৩-০, ফরহাদ ৪-০-৪৪-১, সানি ৩-০-১৮-০, মুগ্ধ ৪-০-৩০-৩, ইমন ৩-০-২২-১।

মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীঃ ১৭৫/৭(২০), ইমন ৫৮, শান্ত ২৫, আশরাফুল ২০, রাব্বি ১১, মেহেদি ২৫, সোহান ৮, ফরহাদ ১২, রনি ১২*, মুগ্ধ ০*; নাহিদুল ২-০-২৫-০, শরিফুল ৪-০-৪১-২, মোসাদ্দেক ৪-০-৩১-১, মুস্তাফিজ ৪-০-৩৭-৩, তাইজুল ২-০-১৭-০, সৌম্য ৩-০-১৯-০, জিয়া ১-০-৩-১

ফলাফলঃ গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম ১ রানে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ লিটন দাস (গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

মুশফিকের চোখে লিটন ‘মিলিয়ন ডলার ম্যান’

Read Next

অন্যদের মত ‘জোরাজুরি’ করছেন না লিটন

Total
6
Share