কিউরেটরের হয়ে ব্যাট করলেন মুশফিকুর রহিম

বোলারদের দুষলেন মুশফিক, বললেন আকবরের উইকেট ছিল গুরুত্বপূর্ণ

সময় গড়ানোর সাথে সাথেই বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে রান খরার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টানা খেলায় স্পোর্টিং উইকেট তৈরিতে বেগ পেতে হচ্ছে কিউরেটরকে। বুধবার ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে ১০৯ রানের লক্ষ্য তাড়াও ১৯ তম ওভার পর্যন্ত খেলতে হয় বেক্সিমকো ঢাকাকে। দলটির অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম উইকেটের চরিত্রের জন্য বাস্তবতা টেনে কিউরেটরকে দায় দিতে নারাজ।

টানা তিন হারের পর টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম জয় পেল বেক্সিমকো ঢাকা। ফরচুন বরিশালের দেওয়া ১০৯ রানের লক্ষ্য ৭ উইকেট ও ৭ বল হাতে রেখে টপকায় মুশফিকুর রহিমরা। ছোট লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই টপ অর্ডার ব্যর্থ হয় বেক্সিমকো ঢাকার। ৫৪ রানে হারায় তিন উইকেট।

তবে ইয়াসির আলি রাব্বিকে নিয়ে এরপর আর কোন বিপদ ঘটতে দেননি অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। রাব্বির ৩০ বলে ৪৪ রানের বিপরীতে মুশফিক ছিলেন কিছুটা ধীরগতির। ৮৩ মিনিট ক্রিজে টিকে ৩৪ বলে অপরাজিত ছিলেন ২৩ রানে।

উইকেটে দুই দলের ব্যাটসম্যানদের লড়াইটা ছিল স্পষ্ট। মুশফিক অবশ্য জানিয়েছেন টানা খেলা আর কম বিরতির কারণে কিউরেটরকে দোষ দেওয়ার কোন সুযোগ নেই।

ম্যাচ পরবর্তী পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আপনি যদি উইকেটের দিকে তাকান দেখবেন এটা ব্যবহৃত উইকেট। আপনি আশা করতে পারেননা এটা শুকনো উইকেট হবে। সূর্যের তাপ পড়েনি খুব একটা। একদিনের মধ্যে কিউরেটরের পক্ষে সম্ভব না একটা ফ্রেশ উইকেট তৈরি করা। কারণ ঘাসে অনেক পানি দিতে হয়। তার উপর সূর্যের আলো পড়েনি। আমি মনে করি কিউরেটরের জন্য বেশ কঠিন কাজ।’

তবে টসের আগেই উইকেট সম্পর্কে ধারণা পেয়ে নিজেদের কাজ ঠিকঠাকভাবে করতে পেরেছে ঢাকার ক্রিকেটাররা। মুশফিক বলেন, ‘দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে যা করার আমাদেরই করতে হত, যেটা আমরা করেছিও। আমরা দেখেছি উইকেট কিছুটা কঠিন ছিল। যে কারণে আমি টসের সময় বলেছি কি ধরনের লক্ষ্য তাড়া করতে হতে পারে তা অনুমান করা কঠিন ছিল।’

‘কিন্তু আমি বেশ আত্ববিশ্বাসী ছিলাম যে আমাদের বোলাররা যদি তাদের কাজ ঠিকমত করতে পারে এবং ফিল্ডাররা সুযোগ নিতে পারে তাহলে তাদের অল্পতে আঁটকে দেওয়া সম্ভব। আর এটা আমরা ভালোভাবে করতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ।’

ছোট লক্ষ্য তাড়ায় ১৯তম অভার পর্যন্ত খেলতে হয়েছে বলে রান রেটে কিছুটা প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন বেক্সিমকো ঢাকা অধিনায়ক। কিন্তু যে কোন জয়ই আনন্দের মানছেন মুশফিক, ‘আপনি যখন ছোট লক্ষ্য তাড়া করবেন তখন কিছুটা কৌশলী হতে হবে কারণ প্রতিপক্ষের কিন্তু হারানোর কিছুই থাকেনা। তারা ২০ ওভারে আক্রমণাত্মক ভূমিকাই পালন করবে। আপনাকে ক্যালকুলেটিভ রিস্ক নিতে হবে।’

‘তারা সেটা করেছে এবং আমরাও শুরুতে দ্রুত উইকেত হারিয়ে ফেলি। ফলে আমাকে একটু সাবধানী হতে হয়েছে। আমার বসিহ্বাস ছিল আমি যদি এক পাশ আগলে রাখি পুরো ইনিংসে তবে অন্য প্রান্তে দুইজন ব্যাটসম্যান যদি দাঁড়াতে পারে এবং ৩০-৪০ রানের একটা ইনিংস খেলে তাহলে জয় পাবো। আরো আগেই ম্যাচটা শেষ করতে পারলে আমাদের জন্য ভালো হত কারোন নেট রান রেটে আমরা পিছিয়ে আছি। কিন্তু জয় তো জয়ই, আমরা খুশি।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ব্যাটসম্যানদের দুষলেন তামিম ইকবাল

Read Next

মুশফিকের চোখে লিটন ‘মিলিয়ন ডলার ম্যান’

Total
2
Share