লো স্কোরিং ম্যাচে বেক্সিমকো ঢাকার জয়

লো স্কোরিং ম্যাচে জয় পেল বেক্সিমকো ঢাকা

রবিউল ইসলাম রবির স্পিন মায়াজালে আঁটকে যাওয়া ফরচুন বরিশালকে ৭ উইকেটে হারিয়ে টুর্নামেন্টে প্রথম জয়ের দেখা পেল বেক্সিমকো ঢাকা। চলমান বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচে হেরেছিল দলটি। ছোট লক্ষ্য তাড়ায় ব্যাট হাতে বেক্সিমকো ঢাকাকে জয় এনে দেয় ইয়াসির আলি রাব্বির হার নামা ৪৪ রানের ইনিংস।

১০৯ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়ায়ও বেক্সিমকো ঢাকার টপ অর্ডার হয়েছে ব্যর্থ। বল হাতে চার উইকেট নেওয়া রবিউল ইসলাম রবি ব্যাট হাতে নিজের মূল কাজটাই ঠিকভাবে করতে পারেননি। দলীয় ২৩ রানেই ফিরে যান দুই ওপেনার রবিউল ইসলাম রবি (২) ও নাইম শেখ (১৩)। দুজনেই কাটা পড়েন রান আউটে। ক্রিজে টিকেও ইনিংস বড় করতে পারেননি তানজিদ হাসান তামিম। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ফিরেছেন ২২ রান করে।

৫৪ রানে তিন উইকেট হারানো ঢাকাকে পথ দেখান অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও ইয়াসির আলি রাব্বি। ব্যক্তিগত ৯ রানে জীবন পাওয়া ইয়াসির আলি রাব্বি মাঠ ছেড়েছেন দলকে জিতিয়েই। কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। মুশফিক-রাব্বি অবিচ্ছেদ্য জুটিতে যোগ করেন ৫৫ রান।

৭ বল হাতে রেখে দলকে জয় এনে দেওয়ার পথে রাব্বি খেলেন অপরাজিত ৪৪ রানের ইনিংস। ৩০ বলে বলে ৩ চার ২ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান রাব্বি। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেওয়া মুশফিক অপরাজিত ছিলেন ৩৪ বলে ২৩ রানে। ৪ ম্যাচে তিন হারে পয়েন্ট টেবিলে ব্যাকফুটে চলে গেল ফরচুন বরিশাল।

এর আগে টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমে বল হাতে অসাধারণ কিছু করে বসেন রবিউল ইসলাম রবি। পার্টটাইম বোলার হিসেবে হাত ঘুরিয়ে ফরচুন বরিশালের ব্যাটিং লাইনআপকে একাই ধসিয়ে দেন। শুধু বল হাতে নয় ফিল্ডিংয়েও ফরচুন বরিশালের টপ অর্ডা, মিডল অর্ডারকে সাজঘরের পথ দেখিয়েছন রবি। বরিশালের প্রথম ৬ উইকেটে বল হাতে কিংবা ফিল্ডার হিসেবে জড়িয়ে আছে তার নাম।

শুরুটা করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজের পরিবর্তে তামিম ইকবালের সাথে ওপেন করতে নামা সাইফ হাসানকে দিয়ে। টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা এই ওপেনারকে করতে দেননি ৯ রানের বেশি। এরপর একে একে তুলে নেন আরও তিন উইকেট। আফিফ হোসেন ও পারভেজ হোসেন ইমনকে ফিরিয়েছেন খালি হাতে। দলের হাল ধরার চেষ্টা করা অধিনায়ক তামিমও ফিরেছে তার অফ স্পিনে উড়িয়ে মারতে গিয়ে।

৩১ বলে ৩ চার ১ ছক্কায় তামিমের ব্যাট থেকে আসে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩১ রান। তামিমের বিদায়ের পর ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়ার মিছিল চলতেই থাকে। শেষদিকে ৩৩ রানের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস খেলা তৌহিদ হৃদয়ের ব্যাটে চড়ে কোন রকমভাবে ১০০ পার করে ফরচুন বরিশাল। রবিউল ইসলাম রবির ৪ উইকেট শিকারের দিনে দারুণ বোলিং করেছেন আগের ম্যাচে অভিষেক হওয়া পেসার শফিকুল ইসলামও।

তিন ওভারে ১০ রান খরচায় তুলে নেন দুই উইকেত। যেখানে প্রথম ওভারে ১০ রান খরচ করা বাঁহাতি এই পেসার দ্বিতীয় ওভার মেডেন নেন, তৃতীয় ওভারে ছিলেন আরও দুর্দান্ত। তৌহিদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজকে (১২) ফিরিয়ে তুলে নেন ডাবল মেডেন উইকেট। ফরচুন বরিশাল থামে ৮ উইকেটে ১০৮ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

ফরচুন বরিশালঃ ১০৮/৮ (২০), তামিম ৩১, সাইফ ৯, ইমন ০, আফিফ ০, হৃদয় ৩৩, ইরফান ৩, মিরাজ ১২, তাসকিন ৬*, তানভীর ৩, রাব্বি ১*; শফিকুল ইসলাম ৩-২-১০-২,রুবেল হোসেন ৪-০-৩০-১, নাসুম আহমেদ ৪-০-২৪-০, নাইম হাসান ৪-১-৮-১, রবিউল ইসলাম রবি ৪-০-২০-৪, মুক্তার আলী ১-০-৯-০

বেক্সিমকো ঢাকাঃ ১০৯/৩ (১৮.৫), নাইম শেখ ১৩, রবি ২, মুশফিক ২৩* , তানজিদ ২২, ইয়াসির ৪৪* ; তাসকিন ৩.৫-০-২৮-০, মিরাজ ৪-০-১৩-১, তানভীর ৪-০-২৫-০, আবু জায়েদ ৩-০-১৯-০, আফিফ ১-০-৪-০, রাব্বি ৩-০-২০-০

ফলাফলঃ বেক্সিমকো ঢাকা ৭ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ রবিউল ইসলাম রবি (বেক্সিমকো ঢাকা)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ইনজুরিতে ছিটকে গেলেন রাবাদা

Read Next

১ রানে ম্যাচ জিতল চট্টগ্রাম

Total
4
Share