টানা তিন জয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখল চট্টগ্রাম

টানা তিন জয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখল চট্টগ্রাম

গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের দুই ওপেনার লিটন দাস ও সৌম্য সরকার নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষের দেওয়া ছোট লক্ষ্য তাড়ায় যেভাবে ব্যাট করেছেন তাতে দলটির আগে ব্যাটিং দেখতে মুখিয়ে ছিল দর্শকরা। তবে ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে সোমবার আগে ব্যাট করে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি দলটি। কয়েকটি ছোট তবে কার্যকরী ইনিংসে ৭ উইকেটে ১৫১ রানে থামে তারা।

কিন্তু জয়ের জন্য এই রানকেই যথেষ্ট প্রমাণ করেন গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের বোলাররা। ফরচুন বরিশালকে ১০ রানের হারিয়ে টানা তিন জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে মোহাম্মদ মিঠুনের দল।

১৫২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি তামিম ইকবালের সাথে টানা তৃতীয় ম্যাচে ইনিংস ওপেন করা মেহেদী হাসান মিরাজ। আগের দুই ম্যাচে যথাক্রমে ০ ও ১ রানের পর শরিফুল ইসলামের বলে আজ ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ১৩ রান করে।

মিরাজ বিদায় নিলেও অধিনায়ক তামিম ইকবাল দলকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ৩২ বলে ৩২ রানের ইনিংসটি অবশ্য পরিস্থিতি বিবেচনায় ছিলনা যথেষ্ট। তামিমের আগেই অবশ্য ফিরে গেছেন পারভেজ হোসেন ইমন (১১)। এরপর আর কোন ব্যাটসম্যান দল জেতানোর মত পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেননি। মুস্তাফিজ-শরিফুলদের তোপে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো ফরচুন বরিশাল থামে ৮ উইকেটে ১৪১ রানে।

মিডল অর্ডারে আফিফ হোসেনের ২৪ ও তৌহিদ হৃদয়ের ব্যাট থেকে আসে ১৭ রান। লোয়ার অর্ডারের সুমন খান অপরাজিত ছিলেন ১৪ রানে। গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট নেন মুস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম। একটি করে শিকার মোসাদ্দেক হোসেন ও সৌম্য সরকারের।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করা গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের দুই ওপেনার লিটন দাস ও সৌম্য সরকার অবশ্য এদিন জুটি জমাতে পারেননি। আগেরদুই ম্যাচে ৭৯ ও ৭৩ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়া সৌম্য-লিটন জুটি থামে ২২ রানে। আবু জায়েদ রাহির বলে ফেরার আগে সৌম্য করেছেন ৫ রান।

অন্যপ্রান্তে লিটন অবশ্য ছন্দেই ছিলেন, তবে মেহেদী মিরাজকে ফাইন লেগ দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ধরা পড়েন শর্ট ফাইন লেগে। ২৫ বলে ৪ চারে তাকে ফিরতে হয় ৩৫ রান করে। যা দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস। মাঝে অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন আউট হয়েছেন ১৭ রান করে।

ক্রিজে থিতু হয়েও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি শামসুর রহমান। ২৮ বলে করেছেন ২৬ রান। ১০২ রানে ৫ উইকেট হারানো গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামকে শেষদিকে লড়াইয়ের পুজি এনে দেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও সৈকত আলি। দুজনে ৬ষ্ঠ উইকেটে যোগ করেন ১৮ বলে ৪০ রান। ২৪ বলে মোসাদ্দেকের ব্যাট থেকে আসে ২৮ রান অন্যদিকে রান আউটে কাটা পড়া সৈকত আলি রান তুলেছেন আরও দ্রুতগতিতে। ১১ বলে ১ চার ৩ ছক্কায় করেছেন ২৭ রান।

গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামকে ৭ উইকেটে ১৫৭ রানে আঁটকে দেওয়ার পথে ফরচুন বরিশালের হয়ে সর্বোচ্চ দুইটি উইকেট নেন আবু জায়েদ রাহি। একটি করে উইকেট ভাগাভাগি করেন সুমন খান, তাসকিন আহমেদ, কামরুল ইসলাম রাব্বি ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামঃ ১৫১/৭ (২০), লিটন ৩৫ , সৌম্য ৫, মিঠুন ১৭, শামসুর ২৬ , মোসাদ্দেক ২৮, জিয়া ২, সৈকত আলি ২৭, নাহিদুল ৮*; সুমন ৪-০-৩১-১, তাসকিন ৪-০-৩০-১, আবু জায়েদ ৪-০-৪২-২, রাব্বি ৪-০-২৩-১, মিরাজ ৪-০-২৫-১

ফরচুন বরিশালঃ ১৪১/৮ (২০), মিরাজ ১৩, তামিম ৩২, ইমন ১১, আফিফ ২৪, হৃদয় ১৭, ইরফান ২, মাহিদুল ১০, তাসকিন ২, রাব্বি ২, সুমন ১৫; নাহিদুল ৪-০-২৬-০, শরিফুল ৪-০-২৭-৩, মোসাদ্দেক ৩-০-১৭-১ , সঞ্জিত ৩-০-২০-০, মুস্তাফিজ ৪-০-২৩-৩, সৌম্য ২-০-২০-১

ফলাফলঃ গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম ১০ রানে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ শরিফুল ইসলাম (গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

হোয়াটমোরের বাছাইকৃত সেরা টেস্ট একাদশ, আছেন সাকিব

Read Next

বিকেএসপি ও এভারকেয়ার পরিদর্শন করল ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরিদর্শক দল

Total
28
Share