ঢাকার পর খুলনাকেও উড়িয়ে দিল চট্টগ্রাম

ঢাকার পর খুলনাকেও উড়িয়ে দিল চট্টগ্রাম

টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল হয়ে মাঠে নামা জেমকন খুলনার ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হয়েছে টানা তিন ম্যাচেই। অন্যদিকে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচেই দেখিয়েছে ভেল্কি। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বেক্সিমকো ঢাকাকে ৮৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর আজ (২৮ নভেম্বর) জেমকন খুলনাকে করতে দেয়নি ৮৬ রানের বেশি। সৌম্য সরকার-লিটন দাসের ব্যাটে টানা দুই ম্যাচে ৯ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয় তারা।

আগের ম্যাচে বেক্সিমকো ঢাকার দেওয়া ৮৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় সৌম্য-লিটন উদ্বোধনী জুটিতে তুলে নেয় ৭৯ রান। লিটন ফিরে যাওয়ায় সেদিন ৯ উইকেটের জয় পায় গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম। আজ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেও এক উইকেট হারিয়েই জেমকন খুলনার দেওয়া ৮৭ রানের লক্ষ্যে পৌঁছায় মোহাম্মদ মিঠুনের দল। আগেরদিন লিটন ফিরলেও আজ দলকে জয় থেকে ১৪ রান দূরে রেখে সৌম্য সাজঘরে ফিরে যান।

শুরু থেকেই সাবলীল সৌম্য-লিটন। আগের ম্যাচে ৪৪ রানে অপরাজিত থাকা সৌম্য যেন সেখান থেকেই শুরু করেছেন। ইনিংসের প্রথম বলেই আল আমিনকে চার মেরে শুরু করেন। তবে এদিন সৌম্যের চাইতে লিটনই যেন প্রতিপক্ষ বোলারের উপর বেশি চড়াও হন। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে হাসান মাহমুদকে হাঁকান টানা ৪ চার।

দলীয় ৭৩ রানে ২৯ বলে ৪ চারে ২৬ রান করে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বলে আরিফুল হকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন সৌম্য সরকার। মুমিনুল হককে (৫) নিয়ে ৩৮ বল হাতে রেখে বাকি কাজ অনায়েসেই করেছেন লিটন দাস। তার আগে তুলে নেন ফিফটিও। ৪২ বলে ৯ চারে ফিফটিতে পৌঁছানো লিটন শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৪৬ বলে ৫৩ রানে।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করা জেমকন খুলনার টপ অর্ডার যথারীতি ব্যর্থ, যা পরে আর নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি মিডল, লোয়ার মিড অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা। দলীয় ৬ রানে রান আউটে কাটা পড়ে এনামুল হক বিজয়ের সাজঘরে ফিরে যাওয়া দিয়ে শুরু আসা যাওয়ার মিছিল।

এরপর স্পিনার নাহিদুল ইসলামের জোড়া আঘাতে দ্রুতই ফিরে যান সাকিব আল হাসান (৩) ও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (১)। ৩ রানে ফিরে গেলেও সাকিব এদিন পূর্ণ করেছেন স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি পাঁচ হাজার রান। ডোয়াইন ব্রাভোর পর দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ৩৫০ এর বেশি উইকেট ও পাঁচ হাজার রানের কীর্তিও গড়েছেন এই অলরাউন্ডার।

অন্য প্রান্তে আসা যাওয়া মিছিলে ইমরুল কায়েস কিছুটা আশা আলো দেখান। কিন্তু ২৬ বলে ২১ রান করে তাইজুল ইসলামের বলে মুমিনুল হককে ক্যাচ দিয়ে ইমরুল ফিরে গেলে ৫৭ রানেই ৫ উইকেট হারায় জেমকন খুলনা। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল।

শরিফুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমানদের তোপে ৮৬ রানেই গুটিয়ে যায় জেমকন খুলনা। ইমরুল কায়েসের ২১ ছাড়া দুই অঙ্কই ছুয়েছেন মাত্র তিনজন। দ্বিতীয় ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৫ রান আসে আরিফুল হকের ব্যাট থেকে। জহরুল ইসলাম অমি ও শামীম পাটোয়ারী করেন যথাক্রমে ১৪ ও ১১ রান।

গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের হয়ে ৩.৫ ওভার বল করে ৫ রান খরচায় ৪ উইকেট তুলে নেন মুস্তাফিজুর রহমান। দুইটি করে উইকেট ভাগাভাগি করেন নাহিদুল ইসলাম ও তাইজুল ইসলাম।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

জেমকন খুলনাঃ ৮৬/১০ (১৭.৫ ওভার), বিজয় ৬, সাকিব ৩, ইমরুল ২১, মাহমুদউল্লাহ ১, জহুরুল ১৪, আরিফুল ১৫, শামীম ১১, শহিদুল ৫, রিশাদ ০, হাসান ১*, আল-আমিন ০; নাহিদুল ৪-০-১৫-২, শরিফুল ৩-০-১৯-০, মুস্তাফিজ ৩.৫-০-৫-৪, তাইজুল ৩-০-৩০-২, মোসাদ্দেক ৩-০-৯-০, সৌম্য ১-০-৬-০

গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামঃ ৮৭/১ (১৩.৪ওভার), লিটন ৫৩* সৌম্য ২৬, মমিনুল ৫*; মাহমুদউল্লাহ ৩-০-১৬-১

ফলাফলঃ গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম ৯ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ মুস্তাফিজুর রহমান (গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

সাকিবের মাইলফলক স্পর্শ করার দিনে খুলনার ‘৮৬’

Read Next

ম্যাচ হেরে জরিমানাও গুনতে হল কোহলিদের

Total
11
Share