ঢাকার পর খুলনা, রাজশাহীর দুইয়ে দুই

শুরুর বিপর্যয় সামলে খুলনার ১৪৬

টুর্নামেন্টের খর্ব শক্তির দলের তকমা নিয়ে প্রথম দুই ম্যাচেই বাজিমাত মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীর। বেক্সিমকো ঢাকার বিপক্ষে শেষ ওভারেরর রোমাঞ্চে জয়ের পর জেমকন খুলনার বিপক্ষে তারা পেল সহজ জয়। দলের জয়ের দিন ব্যাট হাতে ফিফটি তুলে নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত শুরু থেকেই খেলেছেন তেড়েফুঁড়ে। আগের ম্যাচে দারুণ শুরু করা আনিসুল ইমন অবশ্য ব্যর্থ হয়েছেন এদিন। ২.৫ ওভার স্থায়ী জুটিতে আসে ২৫ রান। ২ রান করে ইমন ফিরে গেলেও সাবলীল ছিলেন শান্ত। রনি তালুকদারকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৪৭ রান।

২০ বলে ২৬ রান করে রনি তালুকদার ফিরেছেন রিশাদ হোসেনের শিকার হয়ে। এরপর দলকে জয়ের পথে আরও একটু এগিয়ে দিয়ে সাজঘরে ফিরেন অধিনায়ক শান্তও। ততক্ষণে তুলে নেন ফিফটিও, রিশাদ হোশেনের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরার আগে করেন ৩৪ বলে ৬ চার ৩ ছক্কায় ৫৫ রান।

ফজলে মাহমুদ ও নুরুল হাসান সোহানকে নিয়ে বাকি পথ অনায়েসেই পাড়ি দেন মোহাম্মদ আশরাফুল। ফজলে রাব্বি খেলেছেন ১৬ বলে ২৪ রানের ইনিংস। আশরাফুল ২৫ ও সোহান ১১ রানে অপরাজিত ছিলেন। দুজনের অবিচ্ছেদ্য ২৭ রানের জুটিতে ১৬ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয় পায় মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী। জেমকন খুলনার হয়ে সর্বোচ্চ দুইটি উকেট রিশাদ হোশেনের। একটি করে নেন আল আমিন হোসেন ও শহিদুল ইসলাম।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বিপাকে জেমক খুলনা। শেখ মেহেদী হাসানের শিকার হয়ে আগের ম্যাচের মত খালি হাতেই ফিরতে হয় ওপেনার ইমরুল কায়েসকে। তবে আরেক ওপেনার এনামুল হক বিজয় দিয়েছেন ভালো কিছুর ইঙ্গিত। রান আউটে কাটা পড়ায় তাকে ফিরতে হয় ২৬ রান করে।

তার আগেই অবশ্য ফিরে গেছেন সাকিব আল হাসানও, করতে পেরেছেন ১২ রান। দ্রুত ফিরে গেছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (৭) ও জহরুল ইসলাম অমি (১)। ৫১ রানেই ৫ উইকেট হারায় জেমকন খুলনা। এরপর শামীম হোসেন পাটোয়ারী ও আরিফুল হকের ৪৯ রানের জুটিতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে জেমকন খুলনা।

২৫ বলে ৩ চার ২ ছক্কায় ৩৫ রান করে এবাদত হোসেনের বলে উইকেট রক্ষক নুরুল হাসান সোহানকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান শামীম। শামীম ফিরে গেলেও আরিফুল হক ইনিংস টেনে নেন শেষ পর্যন্ত।

আরিফুলের ব্যাট থেকে আসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৩১ বলে ২ চার ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৪১ রান। শেষদিকে শহিদুল ইসলামের ১২ বলে অপরাজিত ১৭ রানও ছিল কার্যকর। জেমকন খুলনা থামে ৬ উইকেটে ১৪৬ রানে। মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীর হয়ে সর্বোচ্চ দুইটি উইকেট নেন মুকিদুল ইসলাম। একটি করে ভাগাভাগি করেন এবাদত হোসেন, শেখ মেহেদী হাসান ও আরাফাত সানি।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

জেমকন খুলনাঃ ১৪৬/৬ (২০ ওভার), এনামুল ২৬, কায়েস ০, সাকিব ১২, মাহমুদউল্লাহ ৭, জহুরুল ১, আরিফুল ৪১*, শামীম ৩৫, শহিদুল ১৭*; এবাদত ১/২৭, মেহেদী ১/২৩, মুকিদুল ২/৪৪, আরাফাত সানি ১/১৭, ফরহাদ ০/২৯, ইমন ০/৫

মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীঃ ১৪৭/৪ (১৭.২ ওভার) ,শান্ত ৫৫ , ইমন ২, রনি ২৬, আশরাফুল ২৫* , রাব্বি ২৪, সোহান ১১*; আল-আমিন ১/১৩, শহিদুল ১/২৭, রিশাদ ২/৩৪

ফলাফলঃ মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী ৬ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ নাজমুল হোসেন শান্ত (মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

আজও খুলনার ত্রাণকর্তা আরিফুল হক

Read Next

দাপুটে জয় দিয়ে শুরু করল চট্টগ্রাম

Total
13
Share