শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে শেষ হাসি রাজশাহীর

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে শেষ হাসি রাজশাহীর

৫ দলের মোট ৮০ জন বাংলাদেশি ক্রিকেটার নিয়ে আজ (২৪ নভেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় বেক্সিমকো ঢাকা ও মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী। এই ম্যাচের খুটিনাটি আপডেট এই লাইভ রিপোর্টে।

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে শেষ হাসি রাজশাহীরঃ

শেষ ২ ওভারে বেক্সিমকো ঢাকার দরকার ছিল ৩০ রান। পেনাল্টিমেট ওভারে বল করতে এসে ফরহাদ রেজা হজম করেন ২১ রান। ঐ ওভারে ৩ টি ছক্কা হাকান মুক্তার আলি। শেষ ওভারে ৮ রান ডিফেন্ড করার দায়িত্ব পড়ে মেহেদী হাসানের কাঁধে। মাত্র ৬ রান দেন মেহেদী। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ২ রানে ম্যাচ জেতে মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীঃ ১৬৯/৯ (২০ ওভার), শান্ত ১৭, ইমন ৩৫, রনি ৬, আশরাফুল ৫, রাব্বি ০, সোহান ৩৯, মেহেদী ৫০, ফরহাদ ১১* , সানি ০, মুগ্ধ ০, ইবাদত ২* ; রুবেল ০/২৯ , রানা ১/৩১, নাসুম ১/৪১, মুক্তার ৩/২২, নাইম ১/৩২, সাব্বির ০/১১

বেক্সিমকো ঢাকাঃ ১৬৭/৫ (২০ ওভার), তানজিদ ১৮, রাব্বি ৯, নাইম, ২৬, মুশফিক ৪১, আকবর ৩৪, সাব্বির ৫*, মুক্তার ২৩*; মেহেদী ১/২২, এবাদত ১/৩৬, মুকিদুল ০/৩৫, সানি ১/৩৮, ফরহাদ ১/৩৩

ফলাফলঃ মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী ২ রানে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ মেহেদী হাসান (মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী)।

আকবরের পর ফিরলেন মুশফিকওঃ

আকবরের ফেরার পর বেশিক্ষণ টিকলেন না মুশফিক। ৩৪ বলে ৪১ রান করে এবাদতের বলে সোহানের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি। ১৩৪ রানের মাথায় ৫ উইকেটের পতন। সাব্বিরের সাথে ক্রিজে এসেছেন মুক্তার আলি।

মুশফিক-আকবর জুটিতে এল ৭১ঃ

ব্যাট করতে নেমে মুশফিকুর রহিমকে দারুণ সঙ্গ দিচ্ছিলেন আকবর আলি। জুটির রান যখন ৭১ তখন ২৯ বলে ৩৪ রান করে ফরহাদ রেজার বলে স্কয়ার লেগে মুকিদুল ইসলামের হাতে ধরা পড়েন আকবর আলি। দলীয় ১২৬ রানে ৪র্থ উইকেটের পতন ঢাকার। অধিনায়ক মুশফিককে সঙ্গ দিতে ক্রিজে এসেছেন সাব্বির।

ইনিংস বড় করতে পারলেন না নাইম শেখঃ

ভালো শুরুর পরুও ইনিংস বড় করতে পারলেন না নাইম শেখ। ১৭ বলে ২টি করে চার ও ছয়ের মারে ২৬ রান করে আরাফাত সানির বলে ডিপ মিড উইকেটে রনি তালুকদারের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ৫৫ রানে ৩ উইকেটের পতন হয় ঢাকার। মুশফিককে সঙ্গ দিতে ক্রিজে এসেছেন আকবর আলি।

তানজিদ হাসান তামিমের দুর্ভাগ্যজনক রান আউটঃ

১৭০ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে বেক্সিমকো ঢাকা ইতিবাচকভাবে শুরু করেছিল। এবাদত হোসেনকে চার ও ছক্কা হাঁকানোর পরের বলে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউটের শিকার হন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। দলীয় ১৯ রানে প্রথম উইকেট হারায় ঢাকা। ১১ বলে ১৮ রান করেন তিনি। অপর ওপেনার ইয়াসির আলিও ফিরেছেন দ্রুত। ৮ বলে ২ চারে ৯ রান করে মেহেদী হাসানের বলে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়েন তিনি।

দলীয় ৪০ রানে ২য় উইকেটের পতন হয় ঢাকার। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পর দারুণ বোলিং করছেন মেহেদী হাসান। ব্যক্তিগত ৩য় ওভারে ইয়াসির আলিকে রাব্বিকে ৯ রানে এলবিডব্লিউ করেন তিনি। নাইম শেখকে সঙ্গ দিতে ক্রিজে এসেছেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (১ম ইনিংস শেষে):

মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীঃ ১৬৯/৯ (২০ ওভার), শান্ত ১৭, ইমন ৩৫, রনি ৬, আশরাফুল ৫, রাব্বি ০, সোহান ৩৯, মেহেদী ৫০, ফরহাদ ১১* , সানি ০, মুগ্ধ ০, ইবাদত ২* ; রুবেল ০/২৯ , রানা ১/৩১, নাসুম ১/৪১, মুক্তার ৩/২২, নাইম ১/৩২, সাব্বির ০/১১

ঝড়ো ফিফটি করে সাজঘরে মেহেদীঃ 

ক্রিজে আসার পর থেকেই মারমুখী ভঙ্গিতে ব্যাট করতে থাকেন মেহেদী হাসান। সাতে নেমে ৩১ বলে ৫০ রান পূর্ণ করেন তিনি। ফিফটি করার পথে হাঁকিয়েছেন ৩টি চার এবং ৪টি বিশাল ছয়। অপরপ্রান্তে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন নুরুল হাসান সোহান। ২০ বলে ২ চার ও ৩ ছয়ে ৩৯ রান করে মুক্তারের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন সোহান। তাতে ভাঙে ৮৯ রানের জুটি।

এরপর বেশিক্ষণ টেকেননি মেহেদী। মেহেদী হাসান রানার বলে মুক্তার আলির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি (৩২ বলে ৫০)।

দ্রুত উইকেট হারিয়ে বিপাকে রাজশাহীঃ

শুরুটা দারুণ করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি ওপেনার আনিসুল ইসলাম ইমন। ৫টি চার ও ১টি ছয়ের সহায়তায় ২৩ বলে ৩৫ রান করেন নাইম হাসানের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরত যান ইমন। দলীয় ৬৫ রানে ৪র্থ উইকেট হারায় রাজশাহী।

দ্রুত উইকেট হারিয়ে বিপাকে রাজশাহী। ইমনের বিদায়ের পর একই ওভারে রানআউটের শিকার হন ফজলে মাহমুদ রাব্বি। দলীয় ৬৫ রানেই ৫ উইকেট হারিয়েছে রাজশাহী। ক্রিজে নুরুল হাসান সোহানকে সঙ্গ দিতে ৭ নম্বরে নামেন মেহেদী হাসান।

ভক্তদের হতাশ করে সাজঘরে আশরাফুল:

ভক্তদের হতাশ করে দ্রুতই সাজঘরে ফিরলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। ৯ বলে মাত্র ৫ রান করে নাইম শেখের দুর্দান্ত ক্যাচে মুক্তার আলির দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফিরে যান আশরাফুল।

পাওয়ার প্লে-র পর ফিরলেন রনি তালুকদারঃ

পাওয়ারপ্লের প্রথম ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৪৭ রান তোলে মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী। নারায়নগঞ্জের ছেলে ২৩ বছর বয়সী আনিসুল ইসলাম ইমন শুরুটা করেন দারুণ। পাওয়ার প্লেতে ১৩ বলে ৫টি চারের সহায়তায় ২৩ রান করেন। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ভাল কিছুর ইঙ্গিত দিয়ে ফেরেন ১৬ বলে ১৭ রান করে।

পাওয়ারপ্লের পরের ওভারে মুক্তার আলীর বলে লং অফে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ৬ রান করে ফিরে যান রনি তালুকদার। দলীয় ৪৮ রানে রাজশাহীর ২য় উইকেটের পতন হয়। ক্রিজে ইমনকে সঙ্গ দিতে নেমেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল।

ঝড়ের আভাস দিয়ে ফিরলেন শান্তঃ

নাসুম আহমেদের করা চতুর্থ ওভারে দুইটি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে আবার ছক্কার হাঁকাতে গিয়ে লং অনে তানজিদ হাসান তামিমের ক্যাচে পরিণত হন। ১৬ বলে ১৭ রান করে আউট হয়ে ফিরে যান। দলীয় ৩১ রানে প্রথম উইকেট হারায় রাজশাহী। ওপেনার আনিসুল ইমনকে সঙ্গ দিতে উইকেটে এসেছেন রনি তালুকদার।

একাদশ আপডেট-

মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী-

মোহাম্মদ আশরাফুল, ফরহাদ রেজা, আরাফাত সানি, ফজলে মাহমুদ রাব্বি, কাজী নুরুল হাসান সোহান (উইকেটরক্ষক), রনি তালুকদার, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), শেখ মেহেদী হাসান, এবাদত হোসেন, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ, আনিসুল ইমন।

বেক্সিমকো ঢাকা-

মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক, উইকেটরক্ষক), রুবেল হোসেন, তানজিদ হাসান তামিম, নাসুম আহমেদ, নাইম শেখ, নাইম হাসান, আকবর আলি, ইয়াসির আলি রাব্বি, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান রানা, মুক্তার আলি।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

টস আপডেটঃ

টসে জিতেছেন বেক্সিমকো ঢাকার অধিনায়ক মশফিকুর রহিম। আগে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছেন মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীকে।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

আকাশ চোপড়ার চোখে আইপিএল ও পিএসএলের সেরা একাদশ

Read Next

মেহেদী-সোহানের ব্যাটে চড়ে রাজশাহীর ১৬৯

Total
22
Share