বাংলাদেশের স্টার্ক-আর্চার হতে পারেন যারা

রাসেল ডোমিঙ্গো

তাসকিন আহমেদ নিজেকে কতটা বদলেছেন তা বুঝতে পারবে যে কোন সাধারণ ক্রিকেট ভক্তও। তার বাড়তি পরিশ্রম, স্কিল, ফিটনেসে বেশ মনযোগী হওয়াটা নজরে এসেছে সবারই। বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে বল হাতে দিয়েছেন সেটিরই প্রমাণ। তার মানসিকতা বদলে ফেলা বেশ মুগ্ধ করেছে কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোকে। মোটা দাগে পেসারদের নিয়েই খুব উচ্ছ্বসিত এই দক্ষিণ আফ্রিকান।

টেস্টে পরিস্থিতি বুঝে উইকেট শিকারে পারদর্শীতার জন্য জাসপ্রীত বুমরাহ, মিচেল স্টার্ক, জফরা আর্চার, কাগিসো রাবাদা বর্তমান সময়ে যে কারও সেরা পছন্দ হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ দলে এখনো এমন কেউ থিতু হতে না পারলেও রাসেল ডোমিঙ্গোকে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন বেশ কয়েকজন। যাদের মধ্যে তাসকিন আহমেদ ও খালেদ আহমেদ অন্যতম।

গতকাল এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে টাইগার কোচ বলেন, ‘সব আন্তর্জাতিক দলেই সাদা বলের ক্রিকেটে এমন একজন ফাস্ট বোলার আছে, দলের উইকেট দরকার হলে যাকে আক্রমণে আনা হয়। ইংল্যান্ড আনে আর্চারকে, অস্ট্রেলিয়া স্টার্ককে, দক্ষিণ আফ্রিকা রাবাদাকে এবং ভারত বুমরাহকে।’

‘এটা তাই দারুণ যে, আমাদের হাতে এখন সেরকম কিছু বিকল্প আছে। খেলায় যখন তীব্র লড়াই হয়, তখন গতিময় বল করতে পারে এমন কাউকে আমরা ডাকতে পারি। তাসকিন বা খালেদের মতো কেউ বাউন্সারে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানকে বিদায় করে দিতে পারে। আমার জন্য এটা খুবই সন্তুষ্টির।’

বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে পেসারদের সাফল্য টিম ম্যানেজমেন্টের অন্যদের মত কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোর চোখেও বড় প্রাপ্তি, ‘এই ওয়ানডে টুর্নামেন্ট (বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ) থেকে একটি প্রাপ্তির কথা বলতে হলে, আমি ফাস্ট বোলারদের পারফরম্যান্সের কথা বলব। গণমাধ্যম ও ভক্তরা এটা নিয়ে রোমাঞ্চিত হতে পারে।’

‘আমরা একমাত্রিক দল হতে চাই না। বিশেষ করে, যখন আমরা দেশের বাইরে যাই। ওরা যখন ব্যাটসম্যানদের জীবন কঠিন করে তোলে, আমি তাতে রোমাঞ্চিত হই। ম্যাচ জিততে হলে আপনাকে ১০ বা ২০ উইকেট নিতে হবে।’

‘যখন আমি এখানে এসেছি, তখন থেকেই বলছি যে, কিছু ভালো ফাস্ট বোলার গড়ে তোলা জরুরি। তাদেরকে যত বেশি সম্ভব খেলাতে হবে। বিশেষ করে, দেশের বাইরে লড়াই করতে হলে। যা দেখেছি এখন পর্যন্ত, তাতে আমি খুবই রোমাঞ্চিত। দেখুন, তাসকিন কীভাবে বল করছে।’

পেসারদের পরিশ্রম, নিবেদন নিয়ে এই দক্ষিণ আফ্রিকান আরও যোগ করেন, ‘গত ছয়-সপ্তাহে ছেলেরা যা কাজ করেছে, কোনো প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। তাসকিনের শরীরের দিকে তাকান, দেখুন রুবেল কীভাবে ছুটছে এবং খালেদ ফিরে এসেছে বড় এক চোট থেকে। ফিটনেস নিয়ে ছেলেরা অনেক পরিশ্রম করেছে। আমরা চেষ্টা করছি ওদের স্কিলের উন্নতি করাতে এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে যেন পারফর্ম করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে।’

‘তাসকিন সবচেয়ে বড় যে কাজটি করেছে, ওয়ার্ক এথিক বদলে ফেলেছে। আগের চেয়ে এত বেশি পরিশ্রম করেছে সে…খুব ভালো শারীরিক অবস্থায় আছে এখন। এখন সে এক-দুই স্পেলের চেয়েও বেশি করতে পারে। তার পরের স্পেলগুলিও ছিল গতিময়, যা আমাদের জন্য সন্তুষ্টির। আমরা এটা নিশ্চিত করায় জোর দিচ্ছি, ছেলেরা যেন সকাল ১০ টা আর বিকেল ৫টায় একই গতিতে বল করতে পারে।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি কপিল দেব

Read Next

জিম্বাবুয়ের দুই ক্রিকেটার কোভিড-১৯ পজিটিভ

Total
21
Share