তামিমদের বিদায় করে দিয়ে ফাইনালে নাজমুল একাদশ

তামিমদের বিদায় করে দিয়ে ফাইনালে নাজমুল একাদশ
Vinkmag ad

গত ১১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ। আজ (২১ অক্টোবর) ষষ্ঠ ম্যাচে একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে তামিম একাদশ ও নাজমুল একাদশ। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি পরিণত হয়েছে অঘোষিত সেমিফাইনালে। এই ম্যাচের খুটিনাটি হালনাগাদ এই লাইভ রিপোর্টে।

তামিমদের বিদায় করে দিয়ে ফাইনালে নাজমুল একাদশঃ

জয়ের পথটা কঠিন হয়ে গেলেও মোহাম্মদ মিঠুনের ব্যাটের আশা দেখছিল তামিম একাদশ। তবে ৪০ তম ওভারে আল আমিন হোসেনের বলে মিড উইকেটে নাইম হাসানের দুর্দান্ত এক ক্যাচে তাকে ফিরতে হয় ২৯ রান করে। শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৭ রান, মিঠুনের উইকেট হারানো ৪০ তম ওভারের পর যা দাঁড়ায় ৬ বলে ১৫।

সৌম্য সরকারে করা শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে শরিফুল ইসলাম রান আউট হলেও স্ট্রাইক ধরে রাখেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তৃতীয় বলে ছক্কা হাকালেও চতুর্থ বলে রিশাদ হোসেনের হাতে লং অনে ক্যাচ দিলে ৭ রানের হার মেনে নিতে হয় তামিম একাদশকে। ফলে এই ম্যাচের ফলের দিকে তাকিয়ে থাকা মাহমুদউল্লাহ একাদশই ফাইনালে সঙ্গী হচ্ছে নাজমুল একাদশের।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

নাজমুল একাদশ ১৬৫/১০ (৩৯.৩ ওভার), ইমন ১০, সৌম্য, ৭, শান্ত ৫, মুশফিক ৫১, আফিফ ৪০, তৌহিদ ১৩, ইরফান ১১, নাসুম ১২* , রিশাদ ১, তাসকিন ১, আল আমিন ১; সাইফউদ্দিন ৮.৩-১-২৬-৫, মেহেদী ৮-০-৩৪-২, খালেদ ৮-০-৩৩-০, মুস্তাফিজ ৮-১-৩৬-৩, শরিফুল ৭-০-৩৬-০।

তামিম একাদশ ১৫৬/১০ (৪০.৪), তামিম ৫৭, বিজয় ৭, অঙ্কন ২২, রাব্বি ৬, মিঠুন ২৯, সৈকত ৬, মেহেদী ৪, আকবর ১, সাইফউদ্দিন ১০, শরিফুল ০, মুস্তাফিজ ০*; তাসকিন ৮-০-৩৬-৪, আল আমিন ৯-০-১৮-১, রাহি ৮-০-৩৮-১, নাসুম ৮-০-২৭-১, সৌম্য ০.৪-০-৭-১।

ফলাফলঃ ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে নাজমুল একাদশ ৭ রানে জয়ী।

সেরা ব্যাটসম্যানঃ মুশফিকুর রহিম (নাজমুল একাদশ)
সেরা বোলারঃ মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন (তামিম একাদশ)
সেরা ফিল্ডারঃ তামিম ইকবাল (তামিম একাদশ)
ম্যাচ সেরাঃ তাসকিন আহমেদ (নাজমুল একাদশ)

তাসকিনের চতুর্থ শিকার আকবরঃ

তামিমের ফিফটিতে সহজ জয় হাতছানি দিচ্ছিল মনে হলেও দ্রুত উইকেট হারিয়ে ম্যাচ কঠিন করে তুলেছে তামিম একাদশ। ১৯ রানের ব্যবধানে ফিরেছেন তিন ব্যাটসম্যান। তাসকিন আহমেদের বলে থার্ডম্যানে দাঁড়ানো পারভেজ হোসেন ইমনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৬ষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিরেছেন শেখ মেহেদী হাসান (৪)। ৭ম ব্যাটসম্যান হিসাবে ফিরেছেন আকবর আলি। ৭ বলে ১ রান করে তাসকিন আহমেদের বলে তৌহিদ হৃদয়কে ক্যাচ দেন আকবর।

রাব্বিকে ফেরালেন নাসুমঃ

তামিমের পর ফিরে গেলেন ইয়াসির আলি রাব্বিও। ৩৩ বল ক্রিজে টিকে করতে পারেননি ৬ রানের বেশি। তার বিদায়ে তামিম একাদশ পরিণত হয়েছে ৩ উইকেটে ১০১ রানে। মোহাম্মদ মিঠুনকে সঙ্গ দিতে এসে বেশিক্ষণ টেকেননি মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তাসকিনের বলে ইরফান শুক্কুরের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ৯ বলে ৬ রান করা সৈকত।

মাঠ ছাড়লেন মুশফিকঃ

কাঁধের চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন নাজমুল একাদশের উইকেট রক্ষক মুশফিকুর রহিম। ২৬ তম ওভারের চতুর্থ বলে আল আমিন হোসেনের বাউন্সারে দ্বিধায় ভোগা ব্যাটসম্যান ইয়াসির আলি রাব্বি শেষ মুহূর্তে ব্যাটে লাগান। যা গালি অঞ্চলে উড়ে মাটীতে পড়ার আগেই ধরতে উইকেট রক্ষক মুশফিক। দৌড়ে পৌঁছে বলের পুরোপুরি নাগাল না পেলেও আঘাত পান কাঁধে। খেলা চালিয়ে যাওয়ার মত অবস্থা না থাকায় মাঠ ছাড়েন এই উইকেট রক্ষক। তার পরিবর্তে উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে দাঁড়িয়েছেন ইরফান শুক্কুর। মুশফিক মাঠ ছাড়ার পর সাজঘরে ফিরেছেন তামিম। ৮৫ বলে ৬ চারে ৫৭ রান করেন তিনি। আউট হন আবু জায়েদ রাহির বলে ইরফান শুক্কুরকে ক্যাচ দিয়ে।

 

তামিমের ফিফটিঃ

পুরো টুর্নামেন্টে ব্যর্থ হলেও ফাইনালে যেতে দলের জয় প্রয়োজন এমন ম্যাচেই হেসেছে তামিম একাদশের অধিনায়ক তামিম ইকবালের ব্যাট। শুরুতে বেশ দেখেশুনে খেলা তামিম ফিফটি ছুঁয়েছেন ৭৭ বলে। দলীয় ১০ রানে এনামুল হব বিজয় ফিরে গেলে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের সাথে গড়েন ৬৮ রানের জুটি। ৪৫ বলে ২২ রান করে অঙ্কন রান আউটে কাটা পড়লে ভাঙে জুটি। অঙ্কন ফিরলেও ইয়াসির আলি রাব্বিকে নিয়ে জয়ের পথেই ছুটছেন তামিম।

দ্রুত ফিরলেন বিজয়ঃ

বৃষ্টি বাঁধায় ৪১ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ফাইনালে যেতে তামিম একাদশ ১৬৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই ওপেনার এনামুল হক বিজয়কে হারায়। ১৩ বলে ১ চারে ৭ রান করে তাসকিন আহমেদের বলে তৌহিদ হৃদয়ের হাতে ধরা পড়েন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। অন্যপ্রান্তে সংগ্রাম করছেন অধিনায়ক তামিম ইকবালও। তিনে ব্যাট করতে নেমেছেন মাহিদুল অঙ্কন।

নাজমুল একাদশকে অল্পতে আটকে দিল সাইফউদ্দিন-মুস্তাফিজরাঃ

মুশফিকুর রহিমের ফিফটি (৫১) ও আফিফ হোসেনের ৪০ রানের পর খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি নাজমুল একাদশের অন্য কোন ব্যাটসম্যান। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ৫ উইকেটের সাথে মুস্তাফিজুর রহমানের তিন ও শেখ মেহেদী হাসানের দুই উইকেটে ১৬৫ রানেই গুটিয়ে যায় নাজমুল একাদশের ইনিংস। শেষদিকে অপরাজিত থাকা নাসুম আহমেদের ব্যাট থেকে আসে ১২ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ প্রথম ইনিংস শেষে

নাজমুল একাদশ ১৬৫/১০ (৩৯.৩ ওভার), ইমন ১০, সৌম্য, ৭, শান্ত ৫, মুশফিক ৫১, আফিফ ৪০, তৌহিদ ১৩, ইরফান ১১, নাসুম ১২* , রিশাদ ১, তাসকিন ১, আল আমিন ১; সাইফউদ্দিন ৮.৩-১-২৬-৫, মেহেদী ৮-০-৩৪-২, খালেদ ৮-০-৩৩-০, মুস্তাফিজ ৮-১-৩৬-৩, শরিফুল ৭-০-৩৬-০।

ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে তামিম একাদশের জন্য লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে ৪১ ওভারে ১৬৪ রান।

ছক্কা মেরেও আউট শুক্কুরঃ

মুস্তাফিজুর রহমানের বলে দারুণ শটে ছক্কা আদায় করে নিয়েছিলেন। তবে আনন্দে মাতলেন মুস্তাফিজরা। ছক্কা মারতে যেয়ে যে স্টাম্প ভেঙে দিয়েছেন শুক্কুর নিজেই। হিট উইকেট হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় শুক্কুরকে।

ফিরেছেন আফিফ-হৃদয়ঃ

মুশফিকুর রহিম ফিরে যাবার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না আফিফ হোসেন ধ্রুব। দলকে ১২৯ রানে রেখে ৬২ বলে ৪ চারে ৪০ রান করে মেহেদী হাসানের বলে বোল্ড হন আফিফ। ইরফান শুক্কুরের সঙ্গে জুটি জমাতে পারেননি তৌহিদ হৃদয়। ১৭ বলে ১ চারে ১৩ রান করে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি।

ফিফটি করেই থামলেন মুশফিকঃ

আগের ম্যাচের মত টপ অর্ডারের ব্যর্থতার দিনে আবারও নাজমুল একাদশের হাল ধরেন মুশফিকুর রহিম ও আফিফ হোসেন ধ্রুব। ২৫ রানে তিন উইকেট হারানো নাজমুল একাদশ দুজনের ব্যাটে ২৪.৫ ওভারে দলীয় ১০০ রানে পৌঁছায়। ফিফটি তুলে নেন মুশফিকুর রহিম। ৭৪ বলে ৩ চার ১ ছক্কায় ফিফটি পূর্ণ করেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। তবে ফিফটি তুলে নেওয়ার পরের বলেই মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ধরা পড়েন শরিফুলের হাতে। তার বিদায়ে ভাঙে আফিফের সাথে ৯০ রানের জুটি। ৩৪ রান নিয়ে ক্রিজে আছেন আফিফ, নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে এসেছেন তৌহিদ হৃদয়।

কমেছে ওভারঃ

২ টা ৪৬ মিনিটি শুরু হওয়া বৃষ্টি থেমেছে ৪ টা নাগাদ। তবে মাঠ খেলার উপযোগী করে তুলতে লেগেছে সময়। খেলা শুরু হবে বিকাল ৫ টা ২০ মিনিটে। কমেছে ম্যাচের দৈর্ঘ্যও, ৫০ ওভারের ম্যাচটি নেমে এসেছে ৪১ ওভারে।

বৃষ্টি বাধাঃ

বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে টপ অর্ডারের ব্যর্থতা আর বৃষ্টি বাধা সৃষ্টি হওয়া একদম নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফাইনালের লড়াইয়ে অঘোষিত সেমি ফাইনালে আজ নাজমুল একাদশ বনাম তামিম একাদশের মধ্যকার ম্যাচেও দেখা মিলেছে একই চিত্রের। আগে ব্যাট করা নাজমুল একাদশ ১৫ ওভার ব্যাট করতেই ৫৪ রানে হারিয়েছে তিন উইকেট। এরপর পানি পানের বিরতিতেই নামে বৃষ্টি। ১৭ রানে মুশফিকুর রহিম ও ৮ রানে অপরাজিত আফিফ হোসেন ধ্রুব।

প্রথম বলেই মুস্তাফিজের উইকেটঃ

ইনিংসের ৯ম ওভারে প্রথমবারের মত বল করতে আসেন মুস্তাফিজুর রহমান। নিজের করা প্রথম বলেই নাজমুল একাদশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে কাটারে বোকা বানান। ১৭ বলে ৫ রান করা শান্ত ক্যাচ দেন বৃত্তের ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডার এনামুল হক বিজয়ের হাতে। ২৫ রানেই নেই নাজমুল একাদশের ৩ উইকেট। উইকেটে মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গ দিতে এসেছেন আফিফ হোসেন ধ্রুব।

সৌম্য সরকারের ব্যাট কথা বলেনি আজওঃ

সৌম্য সরকারের ব্যাট কথা বলেনি আজও। ৮ বলে ১ চারে ৭ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে। উইকেটের পেছনে আকবর আলিকে ক্যাচ দেন সৌম্য। সৌম্যের সঙ্গে ওপেন করতে নামা পারভেজ হোসেন ইমন ফিরেছেন দ্রুতই। ১৮ বলে ১ চারে ১০ রান করা ইমন মেহেদী হাসানের বলে তুলে মারতে যেয়ে মোসাদ্দেক হোসেনের হাতে ধরা পড়েন। ১৯ রানেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে বিপাকে নাজমুল একাদশ, উইকেটে নতুন দুই ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম।

খেলছেন যারাঃ

বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপের নিয়ম অনুযায়ী (প্লেয়িং কন্ডিশন) এক ম্যাচে প্রতি দলে ১২ জন ক্রিকেটার থাকবে। যদিও মাঠে একসঙ্গে ফিল্ডিং এ নামবে ১১ জন, ব্যাটিং করতে পারবে ১১ জন। উল্লেখ্য, এই টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো লিস্ট-এ ম্যাচের তকমা পাবে না।

তামিম একাদশে আজ আছেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক আকবর আলি। আকবর আলি খেলছেন উইকেটরক্ষক হিসাবে। তবে বাদ পড়েছেন নিজের নামের প্রতি সুবিচার না করতে পারা তানজিদ হাসান তামিম। তাইজুল ইসলাম খেলছেন না আজ, পেসার শরিফুল ইসলাম খেলবেন সেই জায়গায়। নাজমুল একাদশ আছে অপরিবর্তিত।

তামিম একাদশ-

তামিম ইকবাল খান (অধিনায়ক), এনামুল হক বিজয়, মাহিদুল অঙ্কন, ইয়াসির আলি চৌধুরী রাব্বি, মোহাম্মদ মিঠুন, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত (সহ অধিনায়ক), আকবর আলি (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মেহেদী হাসান, মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান ও সৈয়দ খালেদ আহমেদ।

নাজমুল একাদশ-

নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার (সহ অধিনায়ক), আফিফ হোসেন ধ্রুব, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), তৌহিদ হৃদয়, ইরফান শুক্কুর, পারভেজ হোসেন ইমন, তাসকিন আহমেদ, আল আমিন হোসেন, আবু জায়েদ রাহি, নাসুম আহমেদ ও রিশাদ আহমেদ।

টস আপডেটঃ

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতেছেন নাজমুল একাদশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। টসে জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

দল হারলেও ম্যাচসেরা রেকর্ড গড়া ধাওয়ান

Read Next

বাটলারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ স্মিথ

Total
22
Share