ফাইনালের আশা টিকে রইল মাহমুদউল্লাহ একাদশের

মাহমুদউল্লাহ একাদশ রুবেল হোসেনের উইকেট উদযাপন
Vinkmag ad

গত ১১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ। আজ (১৯ অক্টোবর) পঞ্চম ম্যাচে একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে তামিম একাদশ ও মাহমুদউল্লাহ একাদশ। এই ম্যাচের খুটিনাটি হালনাগাদ এই লাইভ রিপোর্টে।

ফাইনালের আশা টিকে রইল মাহমুদউল্লাহ একাদশের:

মাহমুদুল হাসান জয় ৫৮ রান করে বিদায় নিলেও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও নুরুল হাসান সোহানের ব্যাটে ৪ উইকেটের জয় তুলে নিল মাহমুদউল্লাহ একাদশ। দলীয় ১৪৪ রানে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফেরেন মাহমুদুল হাসান জয়। তরুণ এই ব্যাটসম্যান ১০১ বলে ৫৮ রানের ইনিংসটি সাজান ৬ চারে।

তার বিদায়ের পর সোহানকে নিয়ে বাকি পথ অনায়েসেই পাড়ি দেওয়ার পথে ছিলেন রিয়াদ। তবে সাইফউদ্দিনের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ধরা পড়েন দলকে জয় থেকে ৯ রান দূরত্বে রেখে। ৭০ বলে ফিফটি তুলে নেওয়া রিয়াদ ফিরেছেন ৮৭ বলে ৪ চার ১ ছক্কায় ৬৭ রান করে। ক্রিজে আসা নতুন ব্যাটসম্যান সাব্বির (৩) ফিরেছেন জয় থেকে ১ রান দূরত্বে থেকে। অবশ্য দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন সোহান (২৬)। ৫ বল ও ৪ উইকেট হাতে রেখে তুলে নেওয়া এই জয়ে ফাইনালের আশা টিকে থাকলো মাহমুদউল্লাহ একাদশের।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

তামিম একাদশ ২২১/৮ (৫০), তামিম ৯, তানজিদ তামিম ১, বিজয় ১, রাব্বি ৬২, মিঠুন ২, অঙ্কন ৫৭, সৈকত ৪০, সাইফউদ্দিন ৩৮, মেহেদী ১*, তাইজুল ০*; রুবেল ১০-৩-৩৪-৪, রনি ১০-০-৪০-১, এবাদত ১০-১-৬০-২।

মাহমুদউল্লাহ একাদশ ২২২/৬ (৪৯.১ ওভার), নাইম ৩, লিটন ৫, মাহমুদুল ৫৮, ইমরুল ৪৯, মাহমুদউল্লাহ ৬৭ , সোহান ২৬*, সাব্বির ৩, মিরাজ ০* ; সাইফউদ্দিন ১০-১-৪৯-৩, মুস্তাফিজ ১০-১-৫৩-১, খালেদ ১০-০-৩৯-১, তাইজুল ১০-০-৪০-১, মেহেদী ৯.১-০-৩৬-০।

ফলাফলঃ মাহমুদউল্লাহ একাদশ ৪ উইকেটে জয়ী।

সেরা ব্যাটসম্যান– মাহমুদুল হাসান জয় (মাহমুদউল্লাহ একাদশ)
সেরা বোলার– রুবেল হোসেন (মাহমুদউল্লাহ একাদশ)
সেরা ফিল্ডার– লিটন দাস (মাহমুদউল্লাহ একাদশ)
ম্যাচসেরা– রুবেল হোসেন (মাহমুদউল্লাহ একাদশ)

ফিরলেন জয়ঃ

ইমরুল কায়েসের সঙ্গে ৮৪ রানের জুটি গড়ার পর অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে গড়েছিলেন ৫৬ রানের জুটি। ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে দারুণ ব্যাটিং করছিলেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য মাহমুদুল হাসান জয়। ১০১ বলে ৬ চারে ৫৮ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি। তাইজুল ইসলামের বলে ক্যাচ দিয়েছেন মেহেদী হাসানকে। উইকেটে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে সঙ্গ দিতে উইকেটে এসেছেন ফর্মে থাকা নুরুল হাসান সোহান।

ইমরুল না পারলেও পারলেন জয়ঃ

১ রানের জন্য ইমরুল কায়েস মিস করলেও ফিফটি তুলে নিয়েছেন মাহমুদুল হাসান জয়। ৮৬ বলে ৬ চারে ফিফটি ছুঁয়েছেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। চলতি টুর্নামেন্টে এটি কোন টপ অর্ডার (১-৩ নম্বর পজিশন) ব্যাটসম্যানের প্রথম ফিফটি। তার সাথে ক্রিজে আছেন ১৭ রান নিয়ে ব্যাট করা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

ফিফটি করা হল না ইমরুলেরঃ

৮ রানে দুই উইকেট হারানো মাহমুদউল্লাহ একাদশকে টেনে নিচ্ছিলেন ইমরুল কায়েস ও মাহমুদুল হাসান জয়। তবে ফিফটি থেকে ১ রান দূরে থেকে সৈয়দ খালেদ আহমেদের ছোঁড়া বাউন্সারে শেখ মেহেদী হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ইমরুল ফিরলে ভাঙে ৮৬ রানের জুটি। আউট হওয়ার আগে ৫৫ বলে ৭ চারে ৪৯ রানের ইনিংসটি সাজান বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। অন্যদিকে ৩২ রানে ব্যাট করছেন মাহমুদুল হাসান জয়।

সাজঘরে মাহমুদউল্লাহ একাদশের দুই ওপেনারঃ

২২২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে মাহমুদউল্লাহ একাদশ শুরুতেই হারালো দুই ওপেনার নাইম শেখ ও লিটন দাসকে। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের করা ইনিংসের প্রথম বলেই দারুণ এক ডেলিভারিতে পরাস্ত হন নাইম। তবে ওভারের শেষ বলে আর শেষ রক্ষা হয়নি, অনেকটা একই রকমের ভেতরে ঢোকা বলে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন ৩ রান করে। পরের ওভারের প্রথম বলেই মুস্তাফিজুর রহমান ফেরান লিটন দাসকে। শর্ট মিড উইকেটে মোসাদ্দেকের হাতে ধরা পড়ার আগে লিটন করতে পারেননি ৫ রানের বেশি।

শুরুর বিপর্যয় সামলে তামিম একাদশের ২২১ঃ

শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে ইয়াসির আলি রাব্বি ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের জোড়া ফিফতিতে কিছুটা স্বস্তির দেখা পায় তামিম একাদশ। তাদের গড়ে দেওয়া ভীতকে কাজে লাগিয়ে শেষদিকে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ব্যাটে লড়াইয়ের পুঁজি পায় তামিম একাদশ। দুজনের ৭৫ রানের জুটিতে ৮ উইকেটে ২২১ রানে থামে তামিমের দল। শেষ ওভারে টানা দুই বলে সাইফউদ্দিন-মোসাদ্দেককে ফেরান এবাদত হোসেন। ৩৯ বলে ৩ চার ১ ছক্কায় মোসাদ্দেক ৪০ রান করেন, ২৯ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় সাইফউদ্দিনের ব্যাট থেকে আসে ৩৮ রান।

ইনিংস শেষ হওয়া মাত্রই মিরপুরে নামে বৃষ্টি

121801768 383975415975610 4514144128893332286 n.jpg? nc cat=101& nc sid=ae9488& nc eui2=AeF8AxGgVSMgJ0QKnKFE9c0gcatCyrq2N1Nxq0LKurY3Uwk2zNq2raMpNprJNilvdYW0OdTUzjs4xD23b39e1euy& nc ohc=YkBH TEP4asAX8c1und& nc ht=scontent.fdac15 1

সংক্ষিপ্ত স্কোর (১ম ইনিংস শেষে)-

তামিম একাদশ ২২১/৮ (৫০), তামিম ৯, তানজিদ তামিম ১, বিজয় ১, রাব্বি ৬২, মিঠুন ২, অঙ্কন ৫৭, সৈকত ৪০, সাইফউদ্দিন ৩৮, মেহেদী ১*, তাইজুল ০*; রুবেল ১০-৩-৩৪-৪, রনি ১০-০-৪০-১, এবাদত ১০-১-৬০-২।

ফিরেই রুবেলের সাফল্যঃ

৬ ওভারের প্রথম স্পেলে তিন মেডেনে তিন উইকেট শিকার করে তামিম একাদশকে বেশ বিপাকে ফেলেন রুবেল হোসেন। মাঝে ইয়াসির আলি রাব্বি-মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের জোড়া ফিফটিতে কিছুটা স্বস্তি মেলে তামিম একাদশের। কিন্তু রান আউটে কাটা পড়া রাব্বির (৬২) পর নিজের দ্বিতীয় স্পেলের প্রথম বলেই অঙ্কনকে ফেরান রুবেল। সাব্বির রহমানের হাতে ক্যাচে পরিণত হয়ে উইকেট রক্ষক এই ব্যাটসম্যান ফিরেছেন ১১০ বলে ৩ চার ২ ছক্কায় ৫৭ রানে। তার বিদায়ে দল পরিণত হয় ৬ উইকেটে ১৪৪ রানে।

রান আউটে ভাঙল রাব্বি-অঙ্কন জুটিঃ

রুবেল হোসেন-আবু হায়দার রনির বোলিং তোপে মাত্র ১৭ রানে ৪ উইকেট হারানো তামিম একাদশকে টেনে নিচ্ছিলেন টুর্নামেন্টে প্রথমবার খেলতে নামা ইয়াসির আলি রাব্বি ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। দুজনের একশোর্ধ্ব জুটিতে পথ খুঁজে পাচ্ছিল দল। যে পথে ফিফটিও তুলে নেন রাব্বি। তবে ভুল বুঝাবুঝিতে রান আউটে কাটা পড়ে ভাঙে দুজনের ১১১ রানের জুটি। ৮১ বলে ৫ চার ১ ছক্কায় ৬২ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন রাব্বি। ১০৩ বলে ২ টি করে চার ও ছক্কায় ৫০ পূর্ণ করেছেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনও। । ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে এসেছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

রুবেলের তৃতীয় শিকার মিঠুনঃ

পাঁচ নম্বরে নেমে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি মোহাম্মদ মিঠুন। রুবেল হোসেনের তৃতীয় শিকার হয়ে ফিরেছেন সাজঘরে। ৯ বলে ২ রান করা মিঠুন অফ স্টাম্পের বাইরের বল খোঁচা দিয়ে পাঠান নুরুল হাসান সোহানের কিপিং গ্লাভসে। ৮.১ ওভারে ১৭ রান তুলতেই নেই তামিম একাদশের ৪ উইকেট।

সাজঘরে বিজয়ঃ

আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত সঠিক প্রমাণে ব্যর্থ তামিম একাদশ। ৬.১ ওভারেই সাজঘরে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান। ১ রান করে তানজিদ হাসান তামিম, ৯ রান করে তামিম ইকবাল ফেরার পর ৯ বলে ১ রান করে ফিরেছেন তিনে নামা এনামুল হক বিজয়। রুবেল হোসেনের বলে মাহমুদুল হাসানকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

দুই তামিমই সাজঘরেঃ

যুব বিশ্বকাপ মাতানো তানজিদ হাসান তামিমের সামনে বড় এক সুযোগ হয়ে এসেছিল বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ। তবে এখন অব্দি সুযোগের সঠিক ব্যবহার করতে পারেননি এই প্রতিভাবান ওপেনার। আগের দুই ম্যাচে যথাক্রমে ২৭ ও ৮ রান করা তামিম আজ নিজের খেলা তৃতীয় ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ একাদশের বিপক্ষে আউট হয়েছেন ১ রান করে। রুবেল হোসেনের বলে ক্যাচ দিয়েছেন স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা মোহাম্মদ নাইম শেখকে। তামিম-তামিম জুটিতে এসেছে কেবল ৯ রান।

ছোট তামিম ফিরে যাবার কিছুক্ষণ পর ফিরেছেন তামিম ইকবালও। আবু হায়দার রনির অফ স্টাম্পের বাইরে করা বল মারতে যেয়ে ধরা পড়েন পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা সাব্বির রহমানের হাতে। ১৩ বলে ২ চারে ৯ রান করেন তিনি।

খেলছেন যারাঃ

বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপের নিয়ম অনুযায়ী (প্লেয়িং কন্ডিশন) এক ম্যাচে প্রতি দলে ১২ জন ক্রিকেটার থাকবে। যদিও মাঠে একসঙ্গে ফিল্ডিং এ নামবে ১১ জন, ব্যাটিং করতে পারবে ১১ জন। উল্লেখ্য, এই টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো লিস্ট-এ ম্যাচের তকমা পাবে না।

তামিম একাদশে সুযোগ পাননি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক আকবর আলি, উইকেটরক্ষকের ভূমিকায় থাকবেন মাহিদুল অঙ্কন। অন্যদিকে মাহমুদউল্লাহ একাদশে আজ নেই মুমিনুল হক।

তামিম একাদশ-

তামিম ইকবাল খান (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, এনামুল হক বিজয়, ইয়াসির আলি চৌধুরী, মোহাম্মদ মিঠুন, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত (সহ অধিনায়ক), মাহিদুল অঙ্কন (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মেহেদী হাসান, তাইজুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান ও সৈয়দ খালেদ আহমেদ (সুপার সাব)।

মাহমুদউল্লাহ একাদশ-

মোহাম্মদ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), মোহাম্মদ নাইম শেখ, লিটন কুমার দাস (সহ অধিনায়ক), ইমরুল কায়েস, নুরুল হাসান সোহান (উইকেটরক্ষক), সাব্বির রহমান রুম্মন, মেহেদী হাসান মিরাজ, রুবেল হোসেন, এবাদত হোসেন চৌধুরী, আবু হায়দার রনি, মাহমুদুল হাসান ও রাকিবুল হাসান।

টস আপডেটঃ

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতেছে তামিম একাদশের অধিনায়ক তামিম একাদশ। টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

আতহার আলি খানের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন মঞ্জুরুল ইসলাম

Read Next

‘জানুয়ারির আগে ডিপিএল শুরু করা সম্ভব না’

Total
14
Share