জয় দিয়ে শুরু করল নাজমুল একাদশ

মাহমুদউল্লাহদের অল্পতে আটকে দিল আল আমিন-তাসকিনরা
Vinkmag ad

দিনের হিসেবে ২০৮ দিন, আর মাসের হিসেবে প্রায় ৭ মাস পর কোন প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে খেলতে নামলো বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। বিসিবি প্রেসিডেন্ট’স কাপ ওয়ানডে সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ একাদশকে ৪ উইকেটে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলো নাজমুল (শান্ত) একাদশ।

১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই বিপাকে পড়ে নাজমুল একাদশ। মুশফিকুর রহিম, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত’র ব্যর্থতার দিনে খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তুলেন তৌহিদ হৃদয় ও ইরফান শুক্কুর। ১০৫ রানের জুটিতে দলকে উপহার দেন জয়।

পেসার এবাদত হোসেনের তোপে ৭৯ রানেই হারায় ৫ উইকেট হারায় নাজমুল একাদশ। টপ অর্ডার ভেঙে দেওয়ার কাজটা একাই করেন এবাদত। তুলে নেন দুই ওপেনার সাইফ হাসান (১৭), সৌম্য সরকারের (২১) উইকেট, সাথে ফেরান মুশফিকুর রহিমকেও (১)। সাইফ-সৌম্য ক্যাচ দিয়ে ফিরলেও মুশফিক ফিরেছেন বোল্ড হয়ে। তিনজনকে ফিরিয়েই স্যালুট উদযাপন করতে দেখা যায় এবাদতকে।

এরপর আঘাত হানেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও রাকিবুল হাসান। অধিনায়ক শান্ত ২৮ রান করে বোল্ড হন বাঁহাতি অর্থোডক্স রাকিবুলের বলে। রিয়াদের বলে আউট হওয়ার আগে আফিফ করতে পারেন মাত্র ৪ রান। এরপরই দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে যান হৃদয়-শুক্কুর।

শত রানের জুটি গড়ার পথে দুজনেই দেখান পান ফিফটির। দলকে জয় থেকে মাত্র ১৩ রান দূরে রেখে আউট হন তৌহিদ হৃদয়। আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের বলে এবাদত হোসেনের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৬৭ বলে খেলেন সমান দুটি করে চার-ছক্কায় ৫২ রানের ইনিংস। হৃদয় ফিরে গেলেও নাইম হাসানকে (৭) নিয়ে ৫৩ বল হাতে রেখে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন ইরফান শুক্কুর। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৭৮ বলে ৬ চারে ৫৬ রান করে।

এর আগে বৃষ্টি শঙ্কা নিয়ে যথাসময়েই শুরু হয় ম্যাচ। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে অবশ্য বৃষ্টি বাঁধায় পড়ে মাহমুদউল্লাহ একাদশ। দুই ওপেনার লিটন দাস ও নাইম শেখ স্বাচ্ছন্দ্যে শুরু করে ৩ ওভারে তোলেন ১৭ রান। এরপর বৃষ্টি হানা দিলে ৪২ মিনিট বন্ধ থাকে খেলা, তবে এতেই ছন্দপতন হয়।

বৃষ্টির পর প্রথম বলেই ভুল বোঝাবুঝিতে ফেরেন নাইম শেখ (৯)। রিশাদ হোসেনের দুর্দান্ত এক থ্রোতে থামতে হয় তাকে। এরপর ৪ রানের ব্যবধানে মাহমুদউল্লাহ একাদশের আরও দুই ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফেরে। লিটন দাসকে (১১) নিজের প্রথম শিকারে পরিণত করেন তাসকিন আহমেদ। কোন রান না করতে দিয়ে মুমিনুলক হককে বোল্ড করেন পেসার আল আমিন হোসেন।

এরপর দলের হাল ধরার চেষ্টা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও ইমরুল কায়েসের। দুজনের ৭৩ রানের জুটিতে শুরুর বিপর্যয় কাটলেও শেষদিকে কেউ থিতু হতে না পারায় ৪৭.৩ ওভারে অলআউট হওয়া মাহমুদউল্লাহ একাদশ করতে পারেনি ১৯৬ রানের বেশি। ইমরুল কায়েস নাইম হাসানের বলে স্কয়ার লেগ অঞ্চলে সাইফ হাসানের ক্যাচে পরিণত হলে ভাঙ্গে ইমরুল-রিয়াদের জুটি।

ইমরুল ফিরে গেলেও ফিফটি তুলে নেন অধিনায়ক রিয়াদ। ৮২ বলে ৩ চার ১ ছক্কায় মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধের বলে আউট হওয়ার আগে খেলেন ৫১ রানের ইনিংস। শেষদিকে সাব্বির রহমানের ব্যাট থেকে আসে ২২ রান। সমান ১৪ রান করে আসে নুরুল হাসান সোহান ও আবু হায়দার রনির ব্যাট থেকে। রাকিবুল হাসান করেন ১৫ রান। নাজমুল একাদশের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট শিকার তাসকিন আহমেদ, আল আমিন হোসেন, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধের, একটি করে নেন নাইম হাসান ও সৌম্য সরকার।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

মাহমুদউল্লাহ একাদশ ১৯৬/১০ (৪৭.৩), লিটন ১১, নাইম ৯, মুমিনুল ০, ইমরুল, ৪০, মাহমুদউল্লাহ ৫১, সোহান ১৪, সাব্বির ২২, বিপ্লব ৬, রনি ১৪*, রাকিবুল ১৫, রুবেল ১; তাসকিন ১০-০-৩৭-২, আল আমিন ১০-১-৪০-২, মুগ্ধ ৯-০-৪৪-২, নাইম ১০-১-৩৯-১, সৌম্য ০.৩-০-১-১

নাজমুল একাদশঃ ১৯৭/৬ (৪১.১), সাইফ ১৭, সৌম্য ২১, শান্ত ২৮, মুশফিক ১, ধ্রুব ৪, তৌহিদ হৃদয় ৫২, শুক্কুর ৫৬*, নাইম ৭*; এবাদত ৯-০-৪৬-৩, রিয়াদ ৭-০-২৭-১, রাকিবুল ৮-১-৩৩-১, বিপ্লব ৫.১-০-৩১-১।

ফলাফলঃ নাজমুল একাদশ ৫৩ বল ও ৪ উইকেট হাতে রেখে জয়ী।

সেরা ফিল্ডারঃ রিশাদ হোসেন (নাজমুল একাদশ)
সেরা ব্যাটসম্যানঃ ইরফান শুক্কুর (নাজমুল একাদশ)
সেরা বোলারঃ তাসকিন আহমেদ (নাজমুল একাদশ)
ম্যাচ সেরাঃ তৌহিদ হৃদয় (নাজমুল একাদশ)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

বিসিবির সাথে এখনও কন্টাক্টে নেই বিপিএলের কোন ফ্র্যাঞ্চাইজি

Read Next

বিদেশিদের খামাখা বেশি টাকা দিয়ে আনার যুক্তি দেখেন না বিসিবি সভাপতি

Total
19
Share