দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে আলো ছড়ালেন মুমিনুল

দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে আলো ছড়ালেন মুমিনুল
Vinkmag ad

সাড়ে ৬ মাস পর ম্যাচের স্বাদ পেল বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। আন্তর্জাতিক কিংবা ঘরোয়া টুর্নামেন্টের কোন ম্যাচ না হলেও নিজেদের মধ্যে ভাগ হয়ে খেলা দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা বেশ ভালো করেই টের পাওয়া গিয়েছে।

প্রথমদিন ওটিস গিবসন একাদশের করা ২৩০ রানের জবাবে রায়ান কুক একাদশ শেষদিন ৫ উইকেটে ২৪৮ রানে থেমেছে। দীর্ঘ বিরতির পর ফিরে হার না মানা সেঞ্চুরি করেছেন অধিনায়ক মুমিনুল হক।

আগের দিন সাইফ হাসানের ৬৪ রানের সাথে সৌম্য সরকারের ৫১ রানে ভর করে অল আউট হওয়ার আগে ওটিস গিবসন একাদশ স্কোরবোর্ডে যোগ করে ২৩০ রান। তাসকিন আহমেদের আগুন ঝরানো বোলিংয়ের সাথে শেষ বিকেলে তাইজুল ইসলাম ও পার্ট টাইম মোহাম্মদ মিঠুনের স্পিন ঘূর্ণিতে ৬ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারায় ওটিস নাজমুল হোসেন শান্তের নেতৃত্বাধীন দল।

আজ (৩ অক্টোবর) ব্যাট করতে নামা রায়ান কুক একাদশ শুরুতেই বড় ধাক্কা খায়। পেসার এবাদত হোসেন ও হাসান মাহমুদ বেশ কঠিন পরীক্ষা নেন সাদমান ইসলাম, মুশফিকুর রহিমদের।

২৪ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে বেশ বিপাকে পড়তে হয় রায়ান কুক একাদশকে। যেখানে ওপেনার সাদমান ইসলাম (১৩) ও ইয়াসির আলি রাব্বির (২) উইকেট দুইটি শিকার এবাদতের। মুশফিকুর রহিমকে (৩) দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন হাসান মাহমুদ।

তবে এরপরই ওটিস গিবসন একাদশের বোলারদের ধৈর্য পরীক্ষা নিতে থাকেন মুমিনুল হক ও মোহাম্মদ মিঠুন। দুজনে মিলে চতুর্থ উইকেট জুটিতে যোগ করেন ১৫৭ রান। মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, এবাদত হোসেনদের বেশ সাবলীলভাবেই খেলেন দুজনে।

তবে কিছুটা ভুগিয়েছে পেসার হাসান মাহমুদ ও স্পিনার নাইম হাসান। সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া মুমিনুল হক ১১৭ রানের মাথায় স্বেচ্ছা অবসরে যান, মোহাম্মদ মিঠুন ফেরেন নাইম হাসানের বলে মিড উইকেট অঞ্চলে ইমরুল কায়েসের দুর্দান্ত এক ক্যাচে।

১৭৪ বলে সেঞ্চুরিতে পৌঁছানো মুমিনুল মাঠ ছাড়ার আগে ২২০ বলে ১৪ চার ১ ছক্কায় ১১৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। অন্যদিকে আউট হওয়ার আগে মিঠুনের ব্যাট থেকে আসে ৬২ রান, ১১৯ বলে ৭ চার ১ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান মিঠুন। শেষদিকে নুরুল হাসান ২৯ রান করে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের শিকার হন। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ১০ ও তাইজুল ইসলাম ৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।

৭৬ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৪৮ রান তুলে ড্রয়ের মাধ্যমে ম্যাচের ইতি টানে রায়ান কুক একাদশ। ওটিস গিবসন একাদশের হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট শিকার এবাদত হোসেনের। একটি করে নেন হাসান মাহমুদ, নাইম হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

ওটিস গিবসন একাদশঃ ২৩০/১০ (৬৩.৪), সাইফ ৬৪, ইমরুল ৭, শান্ত ৪২, মাহমুদউল্লাহ ৩৪, লিটন ৭, সৌম্য ৫১, মোসাদ্দেক ১৩, নাইম ২, মুস্তাফিজ ০, এবাদত ৪, হাসান ০*; তাসকিন ১৭-৪-৪৫-৩, সাইফউদ্দিন ৭-১-৩০-১, খালেদ ১৩-০-৫৯-১, তাইজুল ১৭-১-৭০-৩, মিঠুন ১.৪-০-৫-২।

রায়ান কুক একাদশঃ ২৪৮/৫ (৭৬), সাদমান ১৩, রাব্বি ২, মুশফিক ৩, মুমিনুল হক ১১৭* (স্বেচ্ছা অবসর), মোহাম্মদ মিঠুন ৬২, নুরুল হাসান ২৯, সাইফউদ্দিন ১০*, তাইজুল ইসলাম ৬*; মুস্তাফিজ ১৪-৩-৩৪-০, হাসান ৯-১-২১-১, নাইম হাসান ১৫.২-১-৭৬-১, সৌম্য সরকার ১-০-৭-০, এবাদত ১৩-২-৩৪-২, রুবেল হোসেন ১০-১-২৩-০, মাহমুদউল্লাহ ৫-০-২১-১, মোসাদ্দেক ৫.৪-১-১৭-০।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

মিরপুরে অধিনায়ক মুমিনুলের সেঞ্চুরি

Read Next

খেলা শুরুর আগে নার্ভাস ছিলেন মুমিনুল

Total
6
Share