দুর্নীতি বন্ধে আইপিএলে ‘স্পোর্টরাডার’

দুর্নীতি বন্ধে আইপিএলে স্পোর্টরাডার

ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) আইপিএলে দুর্নীতি বন্ধ করার উদ্দেশ্যে বোর্ডে স্পোর্টরাডার রাখার পরিকল্পনা করেছে। খেলাধুলা সম্পর্কিত তথ্য সরবরাহ ভিত্তিক একটি বড় প্রতিষ্ঠানকে এ দায়িত্ব দিয়েছে বিসিসিআই। এই প্রতিষ্ঠান বোর্ডের দুর্নীতি দমন ইউনিটের সাথে স্পোর্টরাডারের সাহায্যে আইপিএলে দুর্নীতি বিষয়ক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে।

বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, ‘স্পোর্টরাডার ইন্টেগ্রিটি সার্ভিসেস এবারের আইপিএলের পুরো ৫৪টি ম্যাচ পর্যবেক্ষণ করবে। যেকোন ধরণের অনৈতিক বা ঝুকিপূর্ণ কাজ ঘটতে দেখলে বোর্ড থেকে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সম্প্রতি স্পোর্টরাডারের মধ্য দিয়ে গোয়া প্রফেশনাল লিগের ছয়টি ম্যাচকে সন্দেহজনক হিসাবে ধরা হয়েছে।

‘কোম্পানিটির ৬০০টি গ্রন্থসঙ্কলক বিশিষ্ট প্রতারণা সনাক্তকরণ পদ্ধতি রয়েছে। একেকটি গ্রন্থসঙ্কলকের কাজ একেক রকম এবং তারা বিভিন্ন দেশ ও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত। যদিও তাদের কার্যক্রমকে অবৈধ বলেও ধরা যায়, কেননা তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে অবস্থান করে,’ জানিয়েছেন স্পোর্টরাডার গ্লোবাল অপারেশন্স প্রধান টম ম্যাস।

স্পোর্টরাডারের এই পদ্ধতির মধ্য দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অসঙ্গতিমূলক বা সন্দেহজনক কোন কার্যক্রম ঘটতে দেখলে সতর্কতা সংকেত দিবে।

এবারই প্রথম দুর্নীতি প্রতিরোধে বিসিসিআই এমন কার্যক্রম হাতে নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত দুর্নীতি দমন ইউনিটকে নির্ভরযোগ্য মনে করতো বিসিসিআই এবং সে অনুযায়ী শুধুমাত্র স্থানীয় পুলিশের উপর নিরাপত্তা দায়িত্ব বর্তাতো। ফলে পুরো দেশব্যাপী ছড়িয়ে যাওয়া খুব একটা নজরে পড়তো না বিসিসিআই-এর।

জানা গেছে আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত এবারের আইপিএলের মধ্য দিয়ে এই প্রথম প্রতারক ধরার জন্য কোন বড়সড় অনলাইন কার্যক্রম হাতে নিচ্ছে কোম্পানিটি।

স্পোর্টরাডার ইন্টেগ্রিটি সার্ভিসেস ২০ বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন লিগ, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর এবং আইন নিয়ন্ত্রক সংস্থাদের নিয়ে একসাথে কাজ করে আসছে। প্রায় ৮০ দেশের ১০০ কোম্পানির সাথে তারা সহযোগী হয়ে ম্যাচ ফিক্সিং ও দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করে চলেছে। এমনকি তারা এনবিএ, এনএফএল, এনএইচএল, এমএলবি, ফিফা এবং ইউয়েফার ম্যাচগুলোও পর্যবেক্ষণ করে আসছে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্পোর্টরাডার নিয়ে কার্যক্রমে বিসিসিআই আগ্রহ প্রকাশ করে। বছরে খেলাধুলার ৩০০০০০ ম্যাচে তারা দুর্নীতি পর্যবেক্ষণ করে। ২০১৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে গ্রুপ-ডি অঞ্চলে নেপালের ফুটবল ম্যাচগুলো দৃষ্টিগোচরে পড়ে। সেবার নেপাল ইচ্ছাকৃতভাবে ইরাকের কাছে ৪-০, কুয়েতের কাছে ৫-০ এবং জাপানের কাছে ৪-০ গোলে পরাজিত হয়। ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য ১৩ মাস পর নেপালের খেলোয়াড়দের আটক করা হয়।

২০১৬ সালের নভেম্বরে ফিফা বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ারে সেনেগালের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকাকে একটি পেনাল্টি উপহার দেন ঘানার রেফারি জোসেফ ল্যাম্পতে। এমনকি সেনেগালের ডিফেন্ডার কালিদো কোলিবালির হাঁটুতে বল লাগা সত্ত্বেও পেনাল্টি দেওয়া হয়। চার মাস পর ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য রেফারিকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

এলপিএল নিলামে ‘মারকুই’ খেলোয়াড়ের তালিকায় ‘৫’ বাংলাদেশি

Read Next

চাপের মধ্যে থাকলে ভাল করেন কটরেল

Total
3
Share