অস্ট্রেলিয়ার নাটকীয় ‘ব্যাটিং ধস’, সিরিজে টিকে রইল ইংল্যান্ড

ক্রিস ওকস, জফরা আর্চারের বোলিং তোপে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ধস, জয়ে পেল ইংল্যান্ড

ম্যানচেস্টারে এক বোলার স্বর্বস্ব ম্যাচে নাটকীয় জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। স্কোরবোর্ডে মাত্র ২৩১ রান তুলেও অজিদের বিপক্ষে ২৪ রানের জয় তুলে নিয়েছে এউইন মরগানের দল।

অস্ট্রেলিয়া যে ২৩১ রান করতে পেরেছে তাতেও অবদান দুই বোলারের। ১৪৯ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলা স্বাগতিকদের লড়াই করার পুজি দেয় টম কারেন ও আদিল রশিদের ৯ম উইকেট জুটি। ৯ ওভার ৩ বল একসাথে উইকেটে থেকে মহামূল্যবান ৭৬ রান যোগ করেন এই দুজন। শেষ ওভারে ৩৯ বলে ৩৭ রান করে কারেন আউট হলেও ২৬ বলে ৩৫ রান করে অপরাজিত থাকেন আদিল রশিদ।

অজিদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন অ্যাডাম জাম্পা, ২ উইকেট নেন মিচেল স্টার্ক।

২৩২ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে জফরা আর্চারের বোলিং তোপের সম্মুখিন হয় ডেভিড ওয়ার্নার, মার্কাস স্টয়নিসরা। নিজের প্রথম স্পেলে আগুন ঝরানো বোলিংয়ে এই দুজনকে ফেরান আর্চার।

জফরা আর্চার ও ক্রিস ওকসের শুরুর স্পেল পার করে অজিদের রানের চাকা সচল রাখেন অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ ও মারনাস লাবুশেইন।

আদিল রাশিদ, স্যাম কারেনদের স্বাচ্ছন্দে খেলে যখন ফিঞ্চ-লাবুশেইন অজিদের এগিয়ে নিচ্ছিলেন তখন ২৫ তম ওভারে আর্চারের শরণাপন্ন হন মরগান। অপর প্রান্ত থেকে আনেন ক্রিস ওকসকে। ১ম স্পেলের মতো নিজেদের ২য় স্পেলেও ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষায় ফেলতে থাকেন তারা।

২৫ থেকে ৩০, এই ৫ ওভারেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি, তবুও মরগান আস্থা রেখেছিলেন আর্চার-ওকসে। নিজের ৮ম ওভারের ৫ম বলে মারনাস লাবুশেইনকে ফেরান ওকস। ৪৮ রান করা লাবুশেইনের আউট অবশ্য ইংলিশদের নিশ্চিত করতে হয়েছে রিভিউ নিয়ে।

 

View this post on Instagram

 

Caption it! #ENGvAUS #Cricket

A post shared by cricket97 (@cricket97bd) on

ওকসকে দেখেই কিনা পরবর্তী ওভারে উইকেট তুলে নেন আর্চার। ব্যাক অব এ লেংথ ডেলিভারিতে মিচেল মার্শের ইনসাইড এজ, বল আঘাত হানে স্টাম্পে। মার্শকে ফিরিয়ে যদি ইংলিশরা আনন্দে মাতে তবে তা বহুগুণে বেড়ে যায় ৩ বল বাদে। ওকসের দ্বিতীয় শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন অ্যারন ফিঞ্চ। ১০৫ বলে ৭৩ রান করা ফিঞ্চই যে ছিলেন ইংলিশদের জয়ের পথে বড় কাটা।

অবশ্য এই সাফল্যেই খুশি হয়ে ঢিল দেননি মরগান। আর্চার ও ওকসের ওভারের কোটা পূরণ করে ফেলেন তিনি। নিজের শেষ ওভারে গ্লেন ম্যাচওয়েলকে বোল্ড করে আস্থার প্রতিদান ভালোভাবেই দেন ওকস।

১৪৪/২ থেকে দেখতে দেখতে অজিরা ১৪৭/৬। এই ধাক্কা আর সামলাতে পারেনি অজিদের লেজের ব্যাটসম্যানরা। অ্যালেক্স ক্যারিই (৪১ বলে ৩৬) যা একটু চেষ্টা চালিয়েছিলেন। শেষ ৪ উইকেটের ৩ টিই নেন স্যাম কারেন, যার দুটিই আবার টানা দুই বলে (প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ক)।

১০ ওভারে ২ মেডেন দিয়ে ৩৪ রান খরচে ৩ উইকেট নেওয়া জফরা আর্চার হন ম্যাচসেরা।

২৪ রানের নাটকীয় জয় পেয়ে সিরিজে টিকে রইল ইংলিশরা। ১৬ সেপ্টেম্বর শেষ ম্যাচ তাই এখন আর ডেড রাবার নয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

ইংল্যান্ড ২৩১/৯ (৫০), রয় ২১, বেয়ারস্টো ০, রুট ৩৯, মরগান ৪২, বাটলার ৩, বিলিংস ৮, ওকস ২৬, কারেন ১, কারেন (টম) ৩৭, আদিল ৩৫*, আর্চার ৬*; স্টার্ক ১০-১-৩৮-২, হ্যাজেলউড ১০-২-২৭-১, কামিন্স ১০-৩-৫৬-১, মার্শ ৮-১-৪৯-১, জাম্পা ১০-০-৩৬-৩

অস্ট্রেলিয়া ২০৭/১০ (৪৮.৪), ওয়ার্নার ৬, ফিঞ্চ ৭৩, স্টয়নিস ৯, লাবুশেইন ৪৮, মার্শ ১, ক্যারি ৩৬, ম্যাক্সওয়েল ১, কামিন্স ১১, স্টার্ক ০, জাম্পা ২, হ্যাজেলউড ৭*; ওকস ১০-১-৩২-৩, আর্চার ১০-২-৩৪-৩, আদিল ৯.৪-০-৬৭-১, কারেন (স্যাম) ৯-০-৩৫-৩

ফলাফলঃ ইংল্যান্ড ২৪ রানে জয়ী, ২ ম্যাচ শেষে সিরিজে ১-১ এ সমতা

ম্যাচসেরাঃ জফরা আর্চার (ইংল্যান্ড)।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

‘অস্ট্রেলিয়া-ভারত সিরিজের জন্য আইপিএল ভালো প্রস্তুতি’

Read Next

রাজস্থান রয়্যালসে দ্বৈত ভূমিকায় শেন ওয়ার্ন

Total
21
Share