‘অস্ট্রেলিয়া-ভারত সিরিজের জন্য আইপিএল ভালো প্রস্তুতি’

হার্দিক পান্ডিয়া ভিরাট কোহলি মাহেন্দ্র সিং ধোনি

কোভিড-১৯ সময়েও ক্রিকেটের আমেজটা চলছে। তবে আগে বাইরের দেশে খেলতে গেলে যে অভিজ্ঞতা কাজ করতো, বর্তমানে সেটা বেশ কঠিন হবে বলে মনে করেন ইয়ান চ্যাপেল।

‘মাঠে সতর্কতা, আইসোলেশন বিধি, সামাজিক দূরত্ব এবং শর্তানুযায়ী বিভিন্ন খেলোয়াড় পরিবর্তন প্রভৃতি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড়দের মানিয়ে নিতে বেশ কষ্টকর হবে। এটি জীবনেও কষ্ট দিবে এবং ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে বিভিন্ন দলের সাথে খেলতে গিয়েও সমস্যার সৃষ্টি করবে।

শারীরিক প্রস্তুতিটা অতটা কষ্টদায়ক নয়, তবে নিজে থেকে ক্রিকেটে ফিরে আসতে চাইলে কী করতে হবে?

সম্ভব হলে আপনি একদম শৈশবে ফিরে যান। যখন আপনি দেয়ালে বল ছুড়ে মারতেন এবং নিজেই বিভিন্ন শট খেলে মানসিকভাবে প্রস্তুত করতেন। আপনি দৌড়াতেন এবং একটি বল রুমালের মধ্যে পেঁচিয়ে স্ট্যাম্পে আঘাত করতেন। এসব কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পরও দিনের আলো অনেকক্ষণ বাকি থাকতো এবং আপনি এবার গলফের বল নিয়ে দেয়ালের সাথে আঘাত করে ব্যাটিং রিফ্লেক্স নিয়ে কাজ করতেন। শেষ অনুশীলন যখন দারুণভাবে হতো, আপনার মা উচ্চস্বরে বলতো, ‘তুমি কি দেয়ালের বল মারাটা বন্ধ করবে?’ সেই উচ্চস্বর আপনাকে আরও অনুশীলনের জন্য পাগল করতো।

এখন যেহেতু অনেক ক্রিকেটারের সামর্থ্য আছে, তাই অধিকাংশ খেলোয়াড় চাইলে বোলিং মেশিন কিনে নিজের আঙ্গিনায় ক্রিকেটটা অনুশীলনে ব্যস্ত থাকতে হবে। ২২ গজে ব্যাটসম্যান ও বোলারদের সামাজিক দূরত্ব আহামরি সমস্যা নয়। তবে বোলিং মেশিন থেকে কোন একজনকে বল ছুঁড়তে হবে। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার জিওফ বেশ সৌভাগ্যবান ছিলেন। তার ফার্মহাউজে একটা বিশেষ পিচ ছিল এবং তার স্ত্রীকে বোলিং মেশিন থেকে তাকে বল করেই যেত।

যদিও বোলিং মেশিন অনেক দিক দিয়ে ভালোর থেকে খারাপ; কেননা আপনি জানেন না কখন কোন দিক দিয়ে বল আসবে এবং একই ধরণের অনুশীলনে আপনাকে বাধ্য করবে। সদিচ্ছা থাকলে ভালো খেলোয়াড়রা একটা সমাধান বের করেই ফেলবে।

ডিসেম্বরে ভারতের সাথে সিরিজের আগে আইপিএল বেশ কার্যকরী প্রস্তুতি হতে পারে অস্ট্রেলিয়ার জন্য, তবে তা টেস্টে আদর্শগতভাবে কাজে দিবে না। সম্ভব হলে ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যান রবি বোপারাকে স্মরণ করতে পারি।

২০০৯ সালের আইপিএলে ব্যর্থ হওয়ার পর বোপারাকে শুধু ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছিল। বোপারা বলেছিলেন তিনি সবকিছুকে পজিটিভ ভাবে নেন এবং প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগিয়ে রান করে যেতে চান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি তিনি তার কথার জোরালো ভিত্তি স্থাপন করেন।

ভারতীয় খেলোয়াড়রা খুব দ্রুতই মানিয়ে নিবে এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিসহ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ভালো খেলবে ও নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রাখবে। কঠিন প্রতিপক্ষের সাথে তারা বেশ কার্যকরী এবং সব ধরণের ক্রিকেটে তাদের একাদশে প্রতিভাবান ব্যাটসম্যানের পাশাপাশি ভালো মানের বোলারও রয়েছে। এজন্য আইপিএল বেশ গুরুত্ব বহন করে।’

** ইএসপিএনক্রিকইনফোতে ইয়ান চ্যাপেলের কলাম অনুসারে

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

আইপিএলে খেলার সুযোগ দিতে ভারতকে অনুরোধ করবে না পাকিস্তান

Read Next

অস্ট্রেলিয়ার নাটকীয় ‘ব্যাটিং ধস’, সিরিজে টিকে রইল ইংল্যান্ড

Total
4
Share