জমজমাট ম্যাচে শেষ হাসি পাকিস্তানের

ওয়াহাব রিয়াজ বাবর আজম হায়দার আলি মইন আলি

ইংল্যান্ড সফরের শেষ ম্যাচে অভিজ্ঞতায় চড়ে জয়ের দেখা পেল পাকিস্তান। মোহাম্মদ হাফিজের ৮৬* রানের সাথে অভিষিক্ত হায়দার আলির ফিফটিতে ভর করে ১৯০ রানের পুঁজি। এরপর ওয়াহাব রিয়াজ-শাহীন শাহ আফ্রিদির নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ডকে ৫ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান। পুরো সফরে এটিই একমাত্র জয় সফরকারীদের।

প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেলেও, দ্বিতীয় ম্যাচটি রেকর্ড রান তাড়া করে জিতেছিল ইংল্যান্ড। ফলে ১-১ ব্যবধানে শেষ হল তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজটি। আগের ম্যাচে ১৯৫ রানের পুঁজি নিয়েও হারতে হয়েছে বাবর আজমের দলকে। অধিনায়ক হিসেবে সমালোচনার তীরেও বিদ্ধ হন পাকিস্তানের সীমিত ওভার ক্রিকেটের অধিনায়ক।

ঐ ম্যাচ হারের পরই বোলিংয়ে অভিজ্ঞতার ঘাটতি নিয়ে কথা বলেন দেশটির সাবেক তারকারা। গতকাল (১ সেপ্টেম্বর) শেষ টি-টোয়েন্টিতে অবশ্য তিন পরিবর্তন নিয়ে নামে বাবর আজমরা। বাদ পড়েন ইফতিখার আহমেদ, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও মোহাম্মদ আমির। তাদের স্থানে একাদশে ঢোকেন হায়দার আলি, সরফরাজ আহমেদ ও ওয়াহাব রিয়াজ।

ম্যাচ জয়ে সমানভাবে অবদান ছিল অভিজ্ঞ ও তরুণ ক্রিকেটারদের। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ২ রানেই মইন আলির শিকার হন ওপেনার ফখর জামান (২)। বেশিক্ষণ টিকেননি অধিনায়ক বাবর আজমও, ২১ রান করে বোল্ড হয়েছেন টম কারেনের বলে। ৩২ রানে ২ উইকেট হারানো পাকিস্তানকে টেনে নেন অভিষিক্ত হায়দার আলি ও মোহাম্মদ হাফিজ।

 

View this post on Instagram

 

First Pakistani to score 50 on T20I debut. This lad is talented. #ENGvPAK

A post shared by cricket97 (@cricket97bd) on

দুজনে মিলে ৬১ বলের জুটিতে যোগ করেন ঠিক ১০০ রান। অভিষেকেই প্রথম পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ফিফটির দেখা পান হায়দার আলি। সর্বশেষ যুব বিশ্বকাপে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে প্রতিনিধিত্ব করা এই ব্যাটসম্যান খেলেছেন ৩৩ বলে ৫৪ রানের ইনিংস। ভয়ডরহীন ব্যাটিং প্রদর্শন করে হায়দার বিদায় নিলেও টানা দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নেওয়া মোহাম্মদ হাফিজ ছিলেন অনবদ্য।

আগের ম্যাচে ৬৯ রানের ইনিংসের পর গতকাল খেললেন অপরাজিত ৮৬ রানের ইনিংস। ৩১ বলে ফিফটি ছোঁয়া হাফিজ ইনিংসটি সাজিয়েছেন ৫২ বলে ৪ চার ও ৬ ছক্কায়। যা যৌথভাবে তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসও, আগের ৮৬ রানের ইনিংসটি ছিল ২০১৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। শেষদিকে শাদাব খানের ব্যাট থেকে আসে ১৫ রান। ৪ উইকেটে ১৯০ রানে থামে পাকিস্তান, সর্বোচ্চ দুইটি উইকেট শিকার ক্রিস জর্ডানের। একটি করে ভাগাভাগি করেন মইন আলি ও টম কারেন।

 

View this post on Instagram

 

4⃣ fours 6⃣ sixes Mohammad Hafeez equals his career best in T20I. #ENGvPAK

A post shared by cricket97 (@cricket97bd) on

জবাবে শুরুটা প্রায় একই রকম ইংল্যান্ডেরও, ২৬ রান তুলতেই প্যাভিলিয়নে জনি বেয়ারস্টো (০) ও ডেভিড মালান (৭)। ইনিংসের প্রথম ওভারেই শাহীন শাহ আফ্রিদির দারুণ এক ইয়র্কারে বোল্ড হন জনি বেয়ারস্টো। আগের ম্যাচের জয়ের নায়ক অধিনায়ক এউইন মরগান টম ব্যান্টনের সাথে জুটি লম্বা করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হয়ে ফিরেছেন মাত্র ১০ রান করে।

তরুণ ব্যান্টনও ভালো শুরুটা ধরে রাখতে পারেননি, ৩১ বলে ৪৬ রান করে হারিস রউফের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন। তার বিদায়ে ৬৯ রানে ৪ উইকেট হারানো ইংলিশদের জয়ের পথটা যখন বেশ কঠিন হয়ে পড়ে তখনই ঝলক দেখান মইন আলি। ৩৩ বলে সমান ৪ টি করে চার-ছক্কায় খেলেন ৬১ রানের ইনিংস। যেভাবে খেলছিলেন তাতে পাকিস্তানকে আবারও পরাজয় চোখ রাঙাচ্ছিল।

 

View this post on Instagram

 

2nd T20I fifty for Moeen Ali. Game still on. #ENGvPAK

A post shared by cricket97 (@cricket97bd) on

১৬ তম ওভারে শাদাব খানকে হাঁকিয়েছেন তিন ছক্কা, ২৫ বলে ছুঁয়েছেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি। তবে হার মানতে হয় অভিজ্ঞতার কাছে। শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল ২০ রান। ওয়াহাব রিয়াজ ১৯তম ওভারে নিজের দুর্দান্ত এক থ্রোতে রান আউট করেন ক্রিস জর্ডানকে, পঞ্চম বলে তুলে নেন হুমকি হয়ে দাঁড়ানো মইন আলিকে। ঐ ওভারে মাত্র তিন রান খরচ করেন অভিজ্ঞ এই পেসার।

শেষ ওভারেও কিছুটা নাটক জমিয়েছেন টম কারেন। হারিস রউফের করা ওভারটিতে জয়ের জন্য ইংলিশদের প্রয়োজন ছিল ১৭ রান। প্রথম চার বলে ৫ রান আসলেও পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচে রোমাঞ্চ জাগান কারেন। শেষ বলে জয়ের জন্য সমীকরণ দাঁড়ায় ৬ রানে। কিন্তু হারিস রউফ ওয়াইড ইয়র্কার লেংথের একটি দারুণ ডেলিভারিতে কারেনকে পরাস্ত করে দলকে উপহার দেন ৫ রানের জয়।

 

View this post on Instagram

 

👏

A post shared by cricket97 (@cricket97bd) on

৮ উইকেট হারিয়ে ১৮৫ রানে থামতে হয় এউইন মরগানের দলকে। সমান দুটি করে উইকেট ভাগাভাগি করেন ওয়াহাব রিয়াজ ও শাহীন শাহ আফ্রিদি। একটি করে শিকার ইমাদ ওয়াসিম ও হারিস রউফের। ম্যাচ ও সিরিজ সেরার পুরষ্কার উঠেছে মোহাম্মদ হাফিজের হাতে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

পাকিস্তানঃ ১৯০/৪ (২০ ওভার), বাবর ২১, ফখর ১, হায়দার ৫৪, হাফিজ ৮৬*, শাদাব ১৫, ইমাদ ৬*, সাকিব ৪-০-৩৭-০, মইন ১-০-১০-১, জর্ডান ৪-০-২৯-২, কারেন ৪-০-৩২-১, গ্রেগোরি ৪-০-৪১-০, রশিদ ৩-০-৪০-০।

ইংল্যান্ডঃ ১৮৫/৮ (২০ ওভার), ব্যান্টন ৪৬, বেয়ারস্টো ০, মালান ৭, মরগান ১০, মইন ৬১, বিলিংস ২৯, গ্রেগোরি ১২, জর্ডান ১, কারেন ৮, রশিদ ৩*; আফ্রিদি ৪-০-২৮-২, ইমাদ ৪-০-৩৫-১, রউফ ৪-০-৪১-১, ওয়াহাব ৪-০-২৬-২, শাদাব ৪-০-৪৮-০।

ফলঃ পাকিস্তান ৫ রানে জয়ী।

সিরিজ: ১-১ ড্র (তিন ম্যাচ সিরিজ)

ম্যাচ ও সিরিজসেরা: মোহাম্মদ হাফিজ

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

টিকেআরের জয়রথ ছুটছেই, সাতে সাত

Read Next

হেরেই চলেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা

Total
25
Share