আত্মবিশ্বাসী লিটন, অতি আত্মবিশ্বাসী নন

লিটন দাস
Vinkmag ad

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যে কজন ক্রিকেটারের পেছনে সবচেয়ে বেশি সময় বিনিয়োগ করেছে তাদের মধ্যে লিটন দাস অন্যতম। তার সামর্থ্য আর প্রতিভা নিয়ে সন্দেহ ছিলনা কারোও, যে কারণে সেরাটা পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছে টিম ম্যানেজম্যান্ট। সময়ের সাথে সাথে লিটন আস্থার প্রতিদান দিতে শুরু করেছেন গত এক বছর ধরে। গত বছর আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ, বিশ্বকাপ হয়ে চলতি বছর জিম্বাবুয়ে সিরিজে তাকালে যার প্রমাণ স্পষ্ট।

বিশেষ করে জিম্বাবুয়ে সিরিজে লিটন ছিলেন উড়ন্ত ফর্মে, তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে দুই সেঞ্চুরিতে ১৫৫.৫০ গড়ে রান করেছেন ৩১১। যেখানে খেলেছেন ওয়ানডেতে দেশের হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৭৬ রানের ইনিংসও। একমাত্র টেস্টে এক ইনিংস ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে খেলেছেন ৫৩ রানের ইনিংস। তার আগে পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজেও অন্যদের তুলনায় খুব একটা খারাপ করেননি। পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে রান করেছেন যথাক্রমে ৩১ ও ৪০ গড়ে।

টি-টোয়েন্টিতেও ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট, ওয়ানডের ফর্ম টেনে আনেন লিটন। দুই ম্যাচেই হাঁকিয়েছেন ফিফটি, ইনিংস দুটি ৫৯ ও ৬০* রানের। স্ট্রাইক রেটও যথারীতি দুর্দান্ত, ১৪১.৬৭ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন উইকেট রক্ষক এই ব্যাটসম্যান। যা থেকে স্পষ্ট তিন ফরম্যাটেই কতটা ছন্দে ছিলেন লিটন দাস। কিন্তু সেই ফর্ম কতদূর টেনে নিতে পারেন সে পরীক্ষাই দিতে পারেননি, করোনা বাঁধায় চলে যেতে হয় গৃহবন্দী জীবনে।

দীর্ঘদিন পর দেশের ক্রিকেট সরব হওয়ার অপেক্ষায়, অক্টোবরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরবে টাইগাররা। বর্তমানে বিসিবির তত্বাবধানে ছোট ছোট গ্রুপ হয়ে অনুশীলন করছেন লিটন দাস, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিমরা। করোনায় অন্য সবার মত নিজেকেও ব্যাকফুটে দেখেন লিটন দাস। সবশেষ সিরিজের পারফরম্যান্স অবশ্য তাকে আত্মবিশ্বাসী করছে তবে কোনভাবেই অতি আত্মবিশ্বাসী নয়।

আজ (৩১ আগস্ট) অনুশীলন শেষে এক ভিডিও বার্তায় লিটন বলেন, ‘একটা বিরতির কারণে হয়তোবা আমি ব্যাকফুটে আছি। শুধু আমি না বোলার বলেন ব্যাটসম্যান বলেন যারা একাদশে থাকবে সবাই ব্যাকফুটে থাকবে কারণ অনেকদিনের একটা বিরতি। আমার মনে হয় যে আগের যে সিরিজটা খেলেছি সেখানে একটা আত্মবিশ্বাস আছে অবশ্য অতি আত্মবিশ্বাস নেই আমার। কারণ প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ, আউট হওয়ার জন্য একটা বলই যথেষ্ট যেটা আমি বিশ্বাস করি।’

সবশেষ সিরিজের মনযোগ ও চ্যালেঞ্জটা নিজের মধ্যে নিতে পারলে ভালো করা সম্ভব বলে মত উইকেট রক্ষক এই ব্যাটসম্যানের, ‘এ জন্য প্রতিটি বলই ফোকাস দিয়ে খেলতে হয়। আমি চেষ্টা করছি এখানে অনুশীলনে যেন ঐ মনযোগটা নিয়ে আসতে পারি। আগের সিরিজটা যে মনযোগ দিয়ে শেষ করেছি এই মনযোগটা যেন মাঠে আবার ফিরিয়ে আনতে পারি। আমার মনে হয় মনযোগ ও নিজের চ্যালেঞ্জটা যদি আবার নিতে পারি যে আমাকে ভালো কিছু করতে হবে তাহলে মনে হয় সম্ভব ভালো কিছু করা।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

‘বাবর আজমকে হারিয়ে যাওয়া গরুর মত লেগেছে’

Read Next

সতীর্থদের সান্নিধ্য পেয়ে ভালো লাগছে লিটনের

Total
5
Share