ম্যানক্যাডিং ইস্যুতে দীনেশ কার্তিকের ‘দুই’ আপত্তি

দীনেশ কার্তিক সুনীল নারাইন

ক্রিকেট আইনানুসারে বৈধ হওয়ার পরও ম্যানক্যাডিং কে ক্রিকেট চেতনা বিরোধী কান্ড হিসেবে ছড়ানোয় বড় আপত্তি ভারতীয় উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান দীনেশ কার্তিকের। তার মতে এই পন্থাকে ম্যানক্যাডিং নামে প্রচার, প্রসারও উচিৎ নয় যেহেতু আইসিসি এটিকে রান আউট বলে স্বীকৃতি দেয়।

১৯৪৭ সালে সিডনি টেস্টে ভারতীয় বাঁহাতি স্পিনার ভিনো ম্যানক্যাড বল ছোঁড়ার আগেই নন স্ট্রাইক প্রান্তের ক্রিজ ছেড়ে বের হওয়ায় অজি ওপেনার বিল ব্রাউনকে রান আউট করেন। আইসিসি ও এমসিসি আইনানুসারে এটি বৈধ উইকেট, তবে এর আগে এমন পন্থা ব্যবহারে কেউ বোকা বানায়নি ব্যাটসম্যানকে। যা ক্রিকেট ভক্ত, সমর্থকদের কাছে চেতনা বিরোধী আচরণ বলে গন্য হয়।

এমনকি ঐ ঘটনার পরও খুব বেশি দেখা যায়নি এ ধরণের রান আউট। যদিও ভিনো ম্যানক্যাডের এমন কান্ডের পর এটা আর রান আউট হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি পরিচিতি লাভ করে ‘ম্যানক্যাডিং’ নামে। গত আইপিএলে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব অফ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন রাজস্থান রয়্যালস ব্যাটসম্যান জস বাটলারকে এমন ফাঁদে ফেলেই আবারও আলোচনায় আনেন ম্যানক্যাডকে। আরও একটি আইপিএল সামনে রেখেও হচ্ছে পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা।

তবে কোলকাতা নাইট রাইডার্স অধিনায়ক দীনেশ কার্তিক নিজের মতামত জানাতে গিয়ে সমর্থন করলেন এই রান আউটকে। ‘ক্রিকেটনেক্সট’ এর সাথে আলাপে কার্তিক বলেন, ‘ম্যানক্যাড রান আউট নিয়ে আমার দুটো ইস্যু আছে। একটি হল এর প্রয়োগ নিয়ে অন্যটি হল এর নাম নিয়ে।’

‘প্রথমে প্রয়োগে আসি, ডন ব্র্যাডম্যান থেকে সুনীল গাভাস্কারের মত সাবেকরা বলছেন এটি নিয়মের মধ্যে পড়ে। আইসিসি ও এমসিসিও বলছে পক্ষে। সুতরাং যে বোলার বা দল এটি করে তাদের নেতিবাচক চোখে দেখার কারণ দেখিনা আমি।’

‘দ্বিতীয়ত এটির নাম, ভিনো ম্যানক্যাড এটি প্রথম করেছেন। মজার বিষয় উনি এ সম্পর্কে বেশ সচেতন ছিলেন। আর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কেউ ব্যাটসম্যানটির কথা মনে করেনা। উনি বিল ব্রাউন ছিলেন। যদি ম্যানক্যাড প্রথম বোলার হয় তবে ব্রাউন এই রান আউট হওয়া প্রথম ব্যাটসম্যান। কিন্তু লোকে কেন ম্যানক্যাডকে মনে রাখে ব্রাউনকে না? এটিকে বিল ব্রাউনের সাথে সম্পর্কিত কোন কিছু বলা হয়না। অথচ ভিনো ম্যানক্যাড নিয়ম মেনেই আউট করেছেন।’

‘আইসিসি এবং এমসিসি একে রান আউট বলেই অভিহিত করে। সুতরাং ম্যানক্যাড নামটি নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার করা হয় বলে আমি মনে করি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল যারা খেলাটি সম্পর্কে ধারণা রাখে তারা জানে ভিনো ম্যানক্যাড প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১ হাজার রান ও ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন। পঙ্কজ রায়ের সাথে এক সময় রেকর্ড ৪১৩ রানের ওপেনিং জুটিও গড়েছেন। গাভাস্কার ভাঙার আগ পর্যন্ত তিনি ছিলেন সর্বোচ্চ টেস্ট স্কোরারও।’

‘ভিনু ম্যানক্যাডকে স্মরণ করার জন্য অনেক দুর্দান্ত জিনিস আছে। কেন কেবল তার রান আউটের জন্যই স্মরণ করা হবে? তিনি ভারতের একজন কিংবদন্তী, আর তাকে তার সঠিক সব রেকর্ড দিয়েই মনে রাখা উচিৎ।’

ম্যানক্যাড রান আউটের আগে ব্যাটসম্যানকে সতর্ক করাকে ক্রিকেট চেতনার অংশ হিসেবে দেখা হয়। অথচ অন্য আউটগুলোর ক্ষেত্রে ব্যাটসম্যানকে সতর্ক করার নজির নেই ক্রিকেটে। যা আলাদা করে ভাবায় দীনেশ কার্তিককে, ‘বিল ব্রাউনকে এমনকি সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছিল। ব্যাটসম্যানকে সতর্ক করা ক্রিকেট চেতনা বলে ধরা হয়। কিন্তু আমি কোন বোলারকে কৌশলগতভাবে দেখিনি বোল্ড করা বা ক্যাচ ধরার আগে সতর্ক করতে। কেবল রান আউটেই কেন সতর্কতা?’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

রস্টন চেজে ম্লান নিকোলাস পুরান

Read Next

নিষেধাজ্ঞায় থাকলেও বিসিবির সাহায্য পাচ্ছেন সাকিব

Total
5
Share