আইসিএল ইস্যুতে অজানা সত্য সামনে আনলেন শাহরিয়ার নাফিস

শাহরিয়ার নাফিস আইসিএল
Vinkmag ad

২০০৮ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেটে দুর্যোগ হয়ে আসে নিষিদ্ধ ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগ (আইসিএল)। আফতাব আহমেদ, শাহরীয়ার নাফিস, হাবিবুল বাশার, মোহাম্মদ রফিক, তাপস বৈশ্য, ধীমান ঘোষ, মোশাররফ রুবেল, অলক কপালি, ফরহাদ রেজা সহ ১৪ জন ক্রিকেটার যোগ দিলেন আইসিএলে। আইসিএলে যোগ দিয়ে নিষিদ্ধ হওয়া, এরপর দেশে ফিরে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি, এলোমেলো ক্রিকেট ক্যারিয়ার।

ঢাকা ওয়ারিয়র্স নামের দলটিতে খেলা বাঁহাতি ওপেনার শাহরীয়ার নাফিস এক যুগ পর উন্মোচন করছেন সেই সময়কার ঘটনা প্রবাহ। মোহাম্মদ আশরাফুলের কাছে প্রস্তাব আসা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিএল থেকে প্রস্তাব এবং সব ছেড়ে নিজের যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত সবকিছু নিয়েই কথা বলছেন। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে শাহরীয়ার নাফিস ভক্তদের করা আইসিএল ইস্যুতে সব প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন ধারাবাহিকভাবে। প্রথম পর্বে যেসব বিষয় উঠে এসেছে তা তুলে ধরা হল পাঠকদের জন্য।

আশরাফুলের প্রশ্ন আমলে না নিলেও কোস্তব লাহিড়িকে ঠিকই হ্যা বলেছেন

‘২০০৮ সালে, আমরা সম্ভবত পাকিস্তানে এশিয়া কাপ বা দ্বিপাক্ষিক সিরিজের জন্য অনুশীলন করছিলাম। ওই সময় বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল আমার ভালো বন্ধু, ও এসে আমাকে বলল, ‘দোস্ত তোর কাছে যদি এরকম কোন প্রস্তাব আসে বিদেশে টি-টোয়েন্টি লিগ খেলার ব্যাপারে তাহলে তুই কি করবি? আমি আসলে প্রথমে এ প্রশ্নটি শুনে একটু অবাকই হয়েছিলাম। এরপর কিছুক্ষণ চিন্তা করে আমি বলেছিলাম ‘না’। এরকম কোন প্রস্তাব আসলে আমি বিবেচনা করবনা কারণ আমি আসলে এসব নিয়ে ভাবতেই চাচ্ছিনা।’

‘এর কয়েক মাস পর আমরা পাকিস্তান থেকে এশিয়া কাপ খেলে এসেছি সম্ভবত। আমাদের ফলাফল খুবই বাজে ছিল। আমার মাসটা ঠিকঠাক মনে নেই। তখন আমার ভারত থেকে ফোন আসে, আইসিএলের একজন এজেন্ট আমাকে ফোন করে। তার নাম কোস্তব লাহিড়ি। উনি আমাকে প্রথম প্রস্তাব দেন, আমি আইসিএল খেলতে আগ্রহী কীনা। তো এর আগে আশরাফুল আমাকে বলেছিল কিন্তু সেটা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ছিলনা। কোস্তব লাহিড়ি প্রস্তাব দেওয়ার পর আমি ভাবতে শুরু করি।’

‘কোস্তব লাহিড়ি সম্পর্কে একটু জানাতে চাই। কোস্তব লাহিড়ি কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাথে বেশ পরিচিত একটি নাম। তিনি বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের ক্লাব ক্রিকেটে খেলোয়াড় সরবরাহ করেছে। আমাদের যখন বিপিএল শুরু হল প্রথম দুই আসরে কোস্তব লাহিড়ি আর তার কোম্পানিই ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে ছিল। সে বাংলাদেশ জাতীয় দলের বিভিন্ন তারকা ক্রিকেটারের ক্রিকেট এজেন্ট। এখন বর্তমান বাংলাদেশ দলের যে কোচিং স্টাফ আছে তাদেরও এজেন্ট কোস্তব লাহিড়ি। উনি একজন প্রতিষ্ঠিত এজেন্ট। একজন প্রতিষ্ঠিত এজেন্টের কাছ থেকে যখন প্রস্তাব পেয়েছি তখনই এটা নিয়ে ভাবতে শুরু করি।’

Alok Kapali, Shahriar Nafees, Dhiman Ghosh, Habibul Bashar along with ICL board chairman Kapil Dev at the unveiling of the Dhaka Warriors | Photo | Indian Cricket League 2008-09 | ESPNcricinfo.com

মোহাম্মদ আশরাফুল দল গুছিয়ে পরে নিজেই যাননি, রিউমার, নাকি সত্য?

‘ঢাকা ওয়ারিয়র্স দলটি সম্পূর্ণ ভাবে কোস্তব লাহিড়ি গুছিয়েছিলেন এবং তিনি প্রত্যেকটি খেলোয়াড়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনিই খেলোয়াড় বাছাই করে দল গুছিয়েছিলেন। এই রিউমারটা আংশিক সত্য। ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগের (আইসিএল) প্রথম প্রস্তাব আশরাফুলের কাছে এসেছিলো। উনি তখন বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন এবং বাংলাদেশের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন।’

‘আইসিএল যখন বাংলাদেশ থেকে একটি দল তৈরি করার পরিকল্পনা করে তারা অফিসিয়াল প্রস্তাবটা নিয়ে আশরাফুলের কাছে এসেছিল। আশরাফুলের কাছে যখন প্রস্তাবটা আসে তখন আশরাফুলতো খেলবেই এবং আশরাফুল একটি দল গঠন করবে। ওই ব্যাপারে অনেক দূর এগিয়েছিল এবং আশরাফুল একটি দল গুছিয়েছিল। তখন কোস্তব লাহিড়ি একটি নতুন দল গঠন করে। আশরাফুলের গঠিত দলের সবাই আসলে আইসিএলে যায়নি। কিছু প্লেয়ার পরে খেলতে গিয়েছিল।’

প্রস্তাব পেয়ে পরিবারের সাথে আলোচনা করেন নাফিস

‘আইসিএলের প্রস্তাব যখন কোস্তব লাহিড়ির কাছ থেকে পাই তখনই আমি আমার স্ত্রী, বাবা-মা ও শশুর শাশুড়ির সাথে আলাপ করি। গেলে কি হবে, যাওয়া উচিৎ হবে কি হবেনা এ ব্যাপারগুলোই আসলে পরিবারের সাথে আলোচনা করেছি। ক্রিকেট বোর্ডের কেউ, সিনিয়র কোন ক্রিকেটার বা ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট কারও সাথেই আলোচনা করিনি।’

কোচিং স্টাফ ও বোর্ড সংশ্লিষ্টরা জানলেও থামানোর চেষ্টা করেননি নাফিসদের

‘এ ব্যাপারটি আসলে সত্যি। আমাদের জাতীয় দলের তখনকার কোচ ছিলেন জেমি সিডন্স। উনি পুরো ব্যাপারটি জানতেন, জাতীয় দলের নির্বাচকরা জানতেন। আমার যতটুক মনে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অধিকাংশ লোকই এটা জানতেন এ রকম একটা প্রস্তাব বাংলাদেশ ক্রিকেটে এসেছে, বাংলাদেশের কিছু ক্রিকেটারের সাথে আইসিএল থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে, একটা দল গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।’

‘কিন্তু তারা আসলে ব্যাপারটি নিয়ে মাথা ঘামায়নি। কোন ধরণের পদক্ষেপই নেননি। আমরা যখন আইসিএলে যোগ দিলাম এরপরই আমাদের নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। এর আগে কোন কথা বার্তা, নেগোসিয়েশন, কীভাবে হচ্ছে, কেন হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কেউ আসলে সেভাবে আমলে নেননি।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

ডিপিএল নিয়ে আশাবাদী বিসিবি, সম্ভব হলে হবে বিপিএলও

Read Next

বেয়ারস্টো-মইনদের দাপুটে ব্যাটিং, পাত্তা পাননি মরগানরা

Total
9
Share