কিছু বাস্তবতা স্বপ্নকেও হার মানায়

featured photo1
Vinkmag ad

19848861 1398875053536067 889310573 n

মোবাইল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের আমন্ত্রণে পাঁচ ভক্তের একজন হয়ে সাকিব আল হাসানের সফরসঙ্গী হয়ে চীন গিয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন(বিসিএসএ) এর সাধারণ সদস্য রাশেদুজ্জামান (রাকিব)। তার এই ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তিনি লিখে পাঠিয়েছেন পাঠকদের জন্যে।

২০১৭ সালের ২৯ জুন থেকে ৪ জুলাই আমি স্বপ্নে ছিলাম! যদি এমনটা বলি তারপরেও বোধ হয় ভুল হবে না! আমার কাছে ‘সাকিব আল হাসান’ শুধু একটি নাম নয়। যার সাথে জড়িয়ে আছে অনেক আবেগ ও ভালোবাসার গল্প। সেই সাকিবের সাথে দেশের বাইরে পাঁচ দিনের সফর! এটা সম্ভবত সবচেয়ে দুর্লভ স্বপ্নের বাস্তব উপাখ্যান। মোবাইল কোম্পানী হুয়াওয়েকে ধন্যবাদ এমন সুযোগ এনে দেবার জন্য। সাকিব আল হাসানের সাথে সেই চীন সফরের কিছু অভিজ্ঞতা তুলে ধরছি-

 

এক. কিন্তু ৫ টা সেলফি যে তুলতেই হবে!
___________________
সাকিবের সাথে চায়না সফরের প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা। ভক্তদের সাথে সাকিবের ব্যবহার নিয়ে অনেক গল্প শুনি। তবে চোখের দেখা কিছু দৃশ্যপট থেকে বলছি-
১. হযরত শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাকিব প্রবেশ করলো, কোলে অব্রি। ক্ষণিকের মধ্যেই তাকে ঘীরে জটলা তৈরী হয়ে গেলো। বড়ই স্বাভাবিক।
একজন- ভাই, সেলফি তুলবো।
সাকিব- ওয়েট, অব্রিকে বসায় নেই। এখন তুলেন।
কিন্তু সেই ব্যক্তি তুলতেই আছেন, থামার নামগন্ধ নেই! কখনো দন্তক বের করে, কখনো মুখ বন্ধ করে, কখনো কপালের ভাঁজ ফেলে। উনি যেমন শুরু করেছিলেন, মনে হচ্ছিল আয়নায় নিজের চেহারা দেখতেছিলেন!
সাকিব- ভাই, হইছে না? এখন অন্যদের সুযোগ দেন।
সাকিবের এই কথাটা শুনেই সেই ব্যক্তি মুখ ভাড় করে চলে গেলেন! কষ্ট পেয়েছেন! কে জানে হয়তো কারো সাথে দেখা হলে বলবেন, “সাকিব একটা বেয়াদব!”

19832373 1398875280202711 1625189098 n

২. এক ভদ্রমহিলা আসলো সাথে তার ছেলে আর স্বামী।
ভদ্রমহিলা- সাকিব, দাঁড়ান এখানে।
সাকিব অব্রিকে কোল থেকে নামিয়ে দিয়ে দাঁড়ায় গেলেন। ভদ্রমহিলা এক লোকের হাতে ফোন ধরিয়ে দিয়ে পরিবারের সবাই মিলে ছবি তুললেন। এরপর ভদ্রমহিলা ছেলে ও স্বামীর সাথে সাকিবের কয়েক ঢঙে আলাদা কিছু ছবি নিলেন। তারপর ভদ্রমহিলা ছেলের পাপাকে বললেন, “এই দূরে যাও। বাবু একাই তুলবে।” উনি সাকিবের সাথে তার ছেলের নিজস্ব কিছু ছবি তুললেন। সাকিব এদিক সেদিকে অব্রিকে খুঁজতেছিল। সাকিবের এক্সপ্রেশন যেন ভদ্রমহিলার পছন্দ হচ্ছিল না। ছবি তুলতেই আছেন। নিড অ্যা পারফেক্ট শট ম্যান। সাকিব শেষ পর্যন্ত বলেই ফেললেন, “হইছে না!” কিন্তু, ভদ্রমহিলাকে যে ৫ টা ছবি তুলতেই হবে!

৩. ইমিগ্রেশনের আগে সাকিব কিছু কাগজ পত্র পূরণ করতেছিলেন। একজন আসলেন।
ব্যক্তি- (সাকিবের হাত টেনে) ভাই, একটা সেলফি।
সাকিব- ভাই, লিখতেছি তো। শেষ করে নেই।
সেই ব্যক্তি আবার সাকিবের হাত টান দিলেন। সাকিব যে একটা গুরুত্বপূর্ণ ফর্ম ফিল আপ করতেছেন, এতে যেন তার থোরাই কেয়ার!
সাকিব- ভাই, বললাম না লিখতেছি। যান অইদিকে, পরে আসেন।
ব্যক্তি- (পাশে দাঁড়িয়ে) শালা ভাব নেস।
আরো কি কি বিড় বিড় করে বলে চলে গেলেন। এগুলা বলা অনেক সহজ! আমরা যদি ৫ টা সেলফির জায়গায় ১ টা তুলি। তাহলে আরো ৪ জন তুলতে পারবেন। আমরা ওনার অবস্থাটা বুঝে যদি একটু অপেক্ষা করে ছবি তুলি। তাহলে কষ্ট পেয়ে গালি দেবার প্রয়োজন হবে না। কিন্তু, আমরা তা করবো কেন? আমাদের সাথে এক চিমটি অন্যায় হলেই সেটা বিশাল বড় অপরাধ। নিজেদের স্বার্থপরতা কি আর চোখে পড়বে? সেলফি যে তুলতেই হবে ৫ টা!19849197 1398875163536056 344226638 n

দুই. ফ্রম ঢাকা টু চায়না
____________
ঢাকা এয়ারপোর্টের গল্প করেছি। এবার চায়নার এয়ারপোর্টের গল্প। আমরা প্রথমে পৌঁছাই কুনমিং এয়ারপোর্টে। সেখানে পৌঁছানোর পর দেখি একদল বাংলাদেশী। তারা গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। কিছুটা অবাক হয়েছিলাম। এরা কিভাবে খবর পেলো! অব্রিকে কোলে নিয়ে সাকিব ভাইয়া সবার সাথে হ্যান্ডশেক করলেন। যারা সেলফির আবদার করেছিলেন তা মেটালেন।

 

তিন. গ্ল্যাডিয়েটর নাকি মিনগার্লস?
________________
সাকিবের সাথে চায়না সফরের দ্বিতীয় দিনের অভিজ্ঞতা। হুয়াওয়ের বিশাল বেইজিং ক্যাম্পাস পরিদর্শন করতে গিয়ে সবাই কিছুটা ক্লান্ত। কফি ব্রেক। কারো কোনো প্রশ্ন আছে কিনা সাকিব ভাইয়া জিজ্ঞেস করলেন।
-ভাইয়া, কয়েক বছর আগে এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, আপনার পছন্দের সিনেমা ২০০৪ সালে রিলিজ পাওয়া ‘মিন গার্লস’। কিন্তু এরপর আর এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন ‘গ্ল্যাডিয়েটর’। আসলে আপনার পছন্দের সিনেমা কোনটা?
সাকিব- ‘মিন গার্লস’ কোন সিনেমা! আমি তো মনেই করতে পারতেছি না। বলছি নাকি! এটাও মনে করতে পারতেছি না। কাহিনী কি এই সিনেমার?
-ভাইয়া, স্কুলের কয়েকটি মেয়ের গল্প।
সাকিব- না রে ভাই, মনে করতে পারতেছি না। যেহেতু মনেই আসছে না, তাহলে এই মিল গার্লস, ফিন গার্লস বাদ। প্রিয় সিনেমা গ্ল্যাডিয়েটর। আচ্ছা, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরীর পর ব্যাট উঠাই নি ক্যান? আসলে ব্যাট উঠানোর কথা মনেই ছিল না। আজকাল কিছুই মনে থাকে না।
-ভাইয়া, আপনার জীবন নির্ভর সিনেমা বানানোর অনুমতি দিবেন?
সাকিব- বায়োপিক, দেখা যাক।

 

চার. সুপারস্টার সাকিব গন উইথ দ্য উইন্ড!
____________________
সাকিবের সাথে চায়না ভ্রমনের তৃতীয় দিনের অভিজ্ঞতা। আমরা গিয়েছিলাম হোটেল থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে গ্রেট ওয়াল অব চায়না। স্পেস থেকেও নাকি দেখা যায় এই বিশাল দেয়ালকে! ইহার দৈর্ঘ্য নাকি ৮৮৫০ কিলোমিটার! এমন কিছু তথ্য দিচ্ছিলেন আমাদের গাইড ইভা। তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন সাকিব সম্পর্কে।
ইভা- তোমাদের সুপারস্টার অনেক স্মার্ট, অসাধারণ ফিটনেস। দেখলেই সুপারস্টার মনে হয়।
গ্রেট ওয়ালে পৌঁছানোর পর বিশাল ঝামেলা। প্রচন্ড রোদ, আবার উপরে হাঁটতে হবে অনেকটা পথ। একটু ধারণা দিচ্ছি, আমরা বাস থেকে নেমে গ্রেট ওয়াল প্রদর্শন করে আবার বাসের কাছে যখন ফিরছি ইতিমধ্যে হেঁটেছি প্রায় ৬ কিলোমিটার! তার মানে উপরে প্রায় ৩ কিলোমিটার। এই সময়ে সুপারস্টার সাকিবকে যেন খুঁজে পেলাম না। নিজের পরিবারের মতোই যেন ট্রিট করলেন আমাদের। পাশে সাকিব আল হাসান দাঁড়িয়ে, কি করতেছেন? এগুলাও যে বিস্ময় নিয়ে দেখতে হবে! তার ব্যবহারে এসব আমরা ভুলেই গেছিলাম।
সত্যি বলতে যতো মানুষকে দেখেছি আলাদা করে কেউ সাথে বাচ্চা আনেন নি। তবে আমাদের সাথে ছিল অব্রি, সাথে ছিল তার ট্রলি। সাকিব ভাইয়ের ঈদের ছুটিতে জিম করা হচ্ছে না। কিন্তু অব্রিকে সাথে নিয়ে উপরে উঠতে ঠিকই তার চেয়ে বেশি পরিশ্রম হয়ে গেছে। অব্রিকে কখনো কোলে, কখনো ট্রলিতে কিংবা নিজে ঘেমে একাকার হয়ে গেলে বা ক্লান্ত হয়ে গেলে আমাদের বলেছেন, “ভাই, একটু ধরেন না।” অবশেষে, আমরা উপরে। এইসময় শিশির ভাবীর একটা বাক্য মনে আছে। অব্রিকে বলতেছিলেন, “এতোটুকু বাচ্চা, কি ভাগ্য! এই বয়সেই চীনের প্রাচীর দেখে ফেললো।”

চীনের প্রাচীরে ভক্তদের সাথে সাকিব
তবে, অব্রির থেকেও হয়তো বেশি ভাগ্যবান আমরা। দুনিয়ার সপ্তম আশ্চর্যের একটা ‘চীনের প্রাচীর’, সেটি ভ্রমণ করেছি বাংলাদেশের আশ্চর্য ‘সাকিব আল হাসান’ এর সাথে। হুয়াওয়ের ভিডিও ডকুমেন্টারির শ্যুট করেছি। আড্ডা, হাসি,খাওয়া-দাওয়া, সাকিব ভাইয়ের পাঞ্চ আমাদের সব ক্লান্তি দূর করে দিয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘সুপারস্টার সাকিব আল হাসান’কে যেন পাই নি। মনে হয়েছে আমরা একই পরিবারের সদস্য। এই অনুভূতিটা সেরা। উনি চাইলে একা একা থাকতে পারতেন, একা একা ঘুরতে পারতেন, কিন্তু তা করেন নি; ‘সুপারস্টার সাকিব গন উইথ দ্য উইন্ড’!

পাঁচ. মিশুক অব্রি
_________
এই সফরেই যেন আমাদের ছোট্ট বন্ধু হয়ে গেছে অব্রি। দুরন্ত অব্রি সমানে এয়ারপোর্টের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত দৌড়াদৌড়ি করেছে। তবে বাচ্চাদের দেখলে অব্রির খুশি যেন অনেক গুণে বেড়ে যায়। চাইনিজ বাচ্চাদের দেখলেই তাদের সাথে খেলায় মেতে উঠেছে সাকিবকন্যা। সাকিব ভাই, শিশির ভাবীসহ এই সফরের সবাই যেন ছিল মুগ্ধ দর্শক।19883547 1398875180202721 419476991 n

ছয়. ভার্টিগো
______
সাকিবের সাথে চায়না ভ্রমণের তৃতীয় দিনের গল্প। আমরা গ্রেট ওয়ালে। সবাই নিজেদের মতো ছবি তুললাম, ভিডিও করলাম। অবশেষে হুয়াওয়ের জন্য গ্রুপ ছবি তোলার পালা। সিঁড়ির একদম উপরে উঠে ছবি তুলতে হবে। ভূমি থেকে কতো উপরে আছি? এটা দেখার জন্য উপরে উঠতে উঠতে একবার নিচে তাকালাম। আমার আবার ‘ভার্টিগো’ আছে। বেশি উপর থেকে নিচে তাকালে মাথা ঘোরে। শুধু নিচে দেখছি একবার, সাথে সাথেই চক্কর দিছে। সিঁড়ি ধরে আছি। সাকিব ভাই বিষয়টা খেয়াল করেছেন।
সাকিব- ভাই, আপনার হাইটে সমস্যা আছে নাকি? বসে পড়েন, বসে পড়েন। নিচে তাকাইয়েন না। আস্তে আস্তে উপরে আসেন। আমার নিজেরো হাইটে সমস্যা আছে।

সাত. সাকিবের অবসর
____________
অবসরে প্রায় বেশিরভাগ সময় মেয়ে অব্রির সাথে থাকেন সাকিব ভাইয়া। মেয়ের সাথে খেলাধুলা, দুষ্টামী করেই কাটে তাঁর সময়। বাচ্চা ঘুমায় থাকলে মোবাইলে গেমস খেলেন- বিজুয়েল্ড কিংবা ক্যান্ডি ক্রাশ।

আট. আলাইনা হাসান অব্রি
___________________
সাকিব আল হাসানের সাথে চীন ভ্রমণের পঞ্চম দিনের ছোট্ট গল্প, ছোট্ট অব্রিকে নিয়ে। সাকিব ভাইয়া কিংবা শিশির ভাবী যখন ফেসবুকে অব্রির ছবি শেয়ার করেন, নাম লিখা থাকে ইংরেজীতে। যার ফলে বিভিন্ন পোর্টাল কিংবা পত্রিকায় যখন অব্রির নাম বাংলায় লিখা হয়, তা বিভিন্ন রকম হয়ে যায়। আমিই নিজেও একেক সময় একেকটা লিখি। তবে আসল বানান কোনটা?
পঞ্চম দিনে হুয়াওয়ের ক্যাম্পাস পরিদর্শনের জন্য কিছু সময় ছিল। এর এক ফাঁকে হয়েছিল আমাদের মজার আড্ডা। আমি মোবাইলে সাকিব ভাইয়াকে অব্রির নাম সাধারণত যে তিন ভাবে লিখা হয়, তা আমার ফোনে লিখে দেখাই।
১। আলাইনা হাসান অউব্রি
২। আলায়না হাসান অব্রি
৩। আলাইনা হাসান অব্রি

আলাইনা হাসান অব্রি
– ভাইয়া, অব্রির নামের বানান একেক জায়গায় একেক রকম দেখি! আসল বানান কোনটা?
(সাকিব ভাই মোবাইল হাতে নিয়ে পড়ে গেলেন চিন্তায়, তবে ছিলেন কৌতূহলী।)
সাকিব- আরে ভাই, আপনি তো ভালো জিনিস বের করছেন! সবসময় তো ইংলিশে লিখা হয়। সত্যি বলতে বাংলায় এখনো লিখি নি। আচ্ছা, ওয়েট। প্রথমটা হবে না। ‘অউব্রি’ বানান এমন হবে না। আমরা তো ডাকি ‘আলাইনা’। সো, দ্বিতীয়টা বাদ। তাহলে শেষেরটা হবে, ‘আলাইনা হাসান অব্রি’। এটাই ঠিক।19601102 1394555110634728 8263390913479395789 n

নয়. অন্য প্রান্তেও সাকিবের ছক্কা
_______________
তৃতীয় দিনে সাকিব ভাই যখন হুয়াওয়ের বেইজিং ক্যাম্পাস প্রদশর্ন করেছিলেন। উষ্ম অভ্যর্থনা দেয় হুয়াওয়ে। বিশাল এই ক্যাম্পাস প্রদর্শনে সবচেয়ে বেশি নজরে এসেছে সাকিব ভাইয়ার সেন্স অব হিউমার। চারপাশ থেকে ছুটে আসা সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন দুর্দান্তভাবে। হাসতে ভালোবাসেন মানুষটা, আশেপাশের মানুষদের হাসাতে ভালোবাসেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটের ট্রল পেজগুলো নিয়মিত অনুসরণ করেন সাকিব।

 

দশ. স্টোকসকে কেন স্যালুট?
_____________________
গত বছর ক্রিকেট জগতের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল ঢাকা টেস্টে বেন স্টোকসকে আউট করে সাকিবের স্যালুট। অনেক দ্রুত এই উৎযাপন ভঙ্গি ভাইরাল হয়ে যায়। আড্ডার ফাঁকে সেই উৎযাপনের কারণ জানিয়েছেন সাকিব, “সত্যি বলতে আমি নিজেও ভাবি নাই অমন সেলিব্রেশন করবো। আমি বোলিং করে এসে বাউন্ডারীতে ছিলাম আর ভাবতেছিলাম এরপরের ওভারে যদি স্টোকসকে আউট করি তাহলে অন্যরকম কিছু করবো। স্যালুট যে মারবো এটা আগে ঠিক করি নি। বোলিংয়ে আসলাম আর স্টোকস আউট। আর অই সেলিব্রেশনটা হয়ে গেলো। আপনারা তো ফেসবুকে ভাসায় দিলেন। এতো ভাইরাল কম জিনিস দেখছি। পরে রাতে ফেসবুকে দেখি স্যামুয়েলসও আগে এভাবে স্যালুট দিয়েছিলেন।”Shakib Al Hasan 1

 

এগারো. বিসিএসএ
____________
পাঁচটি দিন সাকিব ভাইয়ের কাছাকাছি ছিলাম কাঙ্খিত কিছু ছবি উঠানো হয়েই গেছে। তবে অটোগ্রাফ নেয়াটা বাকি ছিল। সবাই অটোগ্রাফের জন্য ব্যাট, টি-শার্ট, কাগজ বের করে প্রস্তুত। আসলো আমার অটোগ্রাফ নেবার পালা।
সাকিব- আপনার তো মনে হয় বেশি অটোগ্রাফ লাগবে?
আমি- জ্বি ভাইয়া!
সাকিব- আমি জানি তো। আপনি বাংলাদেশ ক্রিকেট সাপোর্টার্সের (অ্যাসোসিয়েশন) সদস্য তাই না?
আমি- জ্বি ভাইয়া।
সাকিব- হুম। আপনি কাল হলুদ টি-শার্ট পড়ে বের হয়েছিলেন। আমি দেখেছি। দেন কি কি নিয়ে আসছেন।
তিনটি ব্যাট, দুইটি টি শার্ট আর একটি কাগজে নিয়ে নিলাম অটোগ্রাফ। তবে সাথে আরো কিছু থাকলে হয়তো ভালো হতো!

৪ জুলাই দুপুর ২ টায় দেশে ফিরেছি আমরা। তবে এই পাঁচদিনের স্মৃতি সারাজীবণের সঙ্গী হয়ে থাকবে। মন ভালো করার উপকরণ হয়ে থাকবে।

 

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

অনুর্ধ্ব-১৯ দলের ক্যাম্প শুরু শুক্রবার থেকে

Read Next

অভিষিক্ত কাপ্তানের রেকর্ড গড়া শতকেই রক্ষে ইংল্যান্ডের

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
0
Share