ওয়াকার ইউনুস শোনালেন আক্ষেপের গল্প

ওয়াকার ইউনুসওয়াকার ইউনুস
Vinkmag ad

চোটের কারণে ১৯৯২ বিশ্বকাপের আগে দল থেকে ছিটকে যাওয়াটা পাকিস্তানি কিংবদন্তি পেসার ওয়াকার ইউনুসের চোখে সবচেয়ে অনুশোচনার বিষয়। মূলত টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সেরা ছন্দে ছিলেন বলেই ওয়াকারের আফসোসটা বেশি। অন্যদিকে সেবার পাকিস্তান ঘরে তুলেছিল নিজেদের প্রথম ও এখনো পর্যন্ত একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা। নিজে বিশ্বকাপ জয়ী দলের অংশ হতে না পারলেও বিমানবন্দরে ইমরান খানদের ঘরের ফেরার দিন উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক সপ্তাহ খানেক আগে ওয়ার্ম আপ করতে গিয়ে পিঠে মারাত্মক চোট পান তখনকার পাকিস্তান দলের সেরা পেসার। সম্প্রতি ‘ক্রিকেট ব্যাজার’ পডকাস্টের সাথে আলাপচারিতায় পাকিস্তানের বর্তমান বোলিং কোচ স্মৃতিচারণ করেন সেসব সময়ের।

তিনি বলেন, ‘ঐ (১৯৯২ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়া) সময়টা আমার জন্য কোনভাবেই ভালো ছিলনা। আমি চোটে পড়ি। আমি পিঠে ব্যথা পাই, একটা স্ট্রেচ ফ্র্যাকচার ধরা পড়ে বিশ্বকাপ শুরুর অল্প কয়েকদিন আগে। আমি সফরে ছিলাম দলের সাথে। একদিন ওয়ার্ম আপ করার সময় পিঠের কোথাও গড়মিল টের পাই। এরপর লম্বা সময় ঠিকভাবে হাঁটতে পারিনি।’

চোটে পড়ে বিশ্বকাপ মিশন থেকে ছিটকে যাওয়ার আগে ওয়াকার ছিলেন নিজের সেরা ছন্দে। বিশ্বকাপ খেলতে দেশ ছাড়ার আগে ঐ বছর ৮ ম্যাচে শিকার করেন ১৬ উইকেট। কিন্তু মারাত্মক সেই চোট ৪ মাসের জন্য ছিটকে দেয় সাবেক এই ডানহাতি পেসারকে।

কিংবদন্তি এই পেসার যোগ করেন, ‘এটি আমার সবচেয়ে খারাপ সময় ছিল কারণ চোটে পড়ার আগে আমি আমার সেরা ছন্দে ছিলাম। আমি সত্যিই ভালো বোলিং করছিলাম। পাকিস্তান ফেভারিট হয়ে বিশ্বকাপ শুরু করে আমিও দলে ছিলাম। পাকিস্তান সেবার বিশ্বকাপ জিতেও যায়। কিন্তু সেই গৌরবের অংশ হতে পারিনি যা কোনভাবেই আমার জন্য খুশির বিষয় ছিলনা।’

তবে শিরোপা নিয়ে দেশে ফেরা ইমরান খানের দলকে স্বাগত জানাতে ঠিকই বিমান বন্দরে যান ওয়াকার ইউনুস। পাকিস্তানের হয়ে প্রায় ৮০০ আন্তর্জাতিক উইকেটের মালিক এই পেসার বলেন, ‘আমি অনেক অনেক খুশি ছিলাম (পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ে)। আমার এখনো মনে আছে যেদিন তারা পাকিস্তানে ফেরে, লাহোর বিমান বন্দরে ল্যান্ড করে। আমি সেখানে ছিলাম, আমি তাদের স্বাগত জানাতে যাই প্রধান মন্ত্রীর সাথে।’

‘এটি আমার জন্য একই সাথে হৃদয় বিদারক ও আনন্দের ছিল। বলা যায় অনেকটা মিশ্র অনুভূতি। কিন্তু আমি অনেক খুশি ছিলাম। তারা আমার বিশ্বকাপ মিসের ব্যাপারটা অনুধাবন করেছে। তারা কয়েকজন মিলে আমাকে উঁচিয়ে ধরে এবং ট্রাকে তুলে নেয়। বিশ্বকাপ জয়ী দলের অংশ হতে না পেরে এ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়েছি ভেবেছি তারা সেটা আমাকে দিয়েছে। এক দিকে বিষয়টা কষ্টের ছিল তবে আমি অনে অনেক আনন্দিত ছিলাম।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

চায়ের আড্ডায় হুট করে আসে আইপিএল নিলামের ভাবনা

Read Next

বাংলাদেশের বিপক্ষে যে ইনিংস খেলে স্বস্তি পেয়েছেন রাভাল

Total
15
Share