সাকিবকে যে পরামর্শ দিয়েছিলেন শাহরুখ খান

সাকিব শাহরুখ শিশির
Vinkmag ad

আইপিএলে ওপার বাংলার দল কোলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে সাকিব আল হাসানের যাত্রাটা বেশ দীর্ঘই। ২০১১ থেকে ২০১৭ মৌসুম পর্যন্ত টাইগারদের পোস্টারবয় খেলেছেন বলিউড তারকা শাহরুখ খানের মালিকানাধীন দলটিতে। ২০১২ সালে কোলকাতার প্রথম আইপিএল শিরোপা জয়ে সাকিবের অবদানও কম নয়। ফাইনালে ব্যাট হাতে ফিনিশিংয়ে রেখেছেন বড় ভূমিকা। শেষ দুই মৌসুম সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়ে খেললেও কোলকাতার সাথে টাইগার অলরাউন্ডারের সম্পর্কটা পরিবারের মতই হয়ে পড়েছে।

ক্রিকেট ওয়েবসাইট ‘ক্রিকবাজের’ ভিডিও আড্ডায় ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলের সাথে আলাপে সাকিব স্মৃতিচারণ করেছেন কোলকাতার হয়ে কাটানো সময়ের। স্ত্রীকে খুশি রাখতে শাহরুখ খানের উপদেশ সহ মজার কিছু মুহূর্তের কথা তুলে ধরেন টাইগারদের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার।

স্ত্রী ও পরিবারকে খুশি রাখতে বলিউড তারকা শাহরুখের পরামর্শ সম্পর্কে সাকিব বলেন, ‘শাহরুখ খান আমাকে পরামর্শ দিয়েছে যে কখনোই স্ত্রী কোন কাজ দিলে তুমি ক্লান্ত সেটা বলবানা। সে যদি বাইরে যেতে চায়, শপিং কিংবা মুভি দেখার সময় বলা যাবেনা আজ আমি ক্লান্ত, আমার বিশ্রাম দরকার, ঘুমাতে চাই এমন কিছু। তোমার স্ত্রী বা পরিবারকে খুশি রাখার এটা হচ্ছে একমাত্র উপায়।’

২০১২ সালে প্রথমবার আইপিএল শিরোপা জেতে কোলকালাতা নাইট রাইডার্স। ফাইনালে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে শেষদিকে কঠিন হওয়া ম্যাচ mমমনোজ তিওয়ারিকে নিয়ে জিতিয়ে আসেন সাকিব আল হাসান। তার ৭ বলে ১১ রানের ছোট্ট তবে কার্যকরী ইনিংসে বিজয়োল্লাসে মেতে ওঠে ওপার বাংলার দলটি।

কিন্তু মজার বিষয় যে পরিস্থিতিতে সাকিব ক্রিজে ছিলেন সে পরিস্থিতির কথা আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন। দলের ম্যানেজার জয় ভট্টাচার্যকে সাকিব আগেই জানিয়েছিলেন কঠিন হলেও কোলকাতাই জিতবে ম্যাচ, ক্রিজে থাকবেন তিনি নিজে। ঠিক যা বলেছিলেন তাই হওয়াতে অবাক বনে যান সাকিব নিজেও।

টাইগার অলরাউন্ডার বলেন, ‘২০১২ সালের ফাইনালের বিরতির সময় জয় দা (জয় ভট্টাচার্য) ম্যানেজার ছিল, যাকে আপনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন। সে একটা চেয়ারে হতাশ হয়ে বসে আছে কারণ চেন্নাই ১৯০ করে ফেলে। চেন্নাইয়ের মাঠে তাদের বিপক্ষেই এত বড় লক্ষ্য তাড়া আসলেই কঠিন। তো আমি তার কাছে গিয়ে বললাম, দেখ এই ম্যাচটি আমরা জিততে যাচ্ছি আর জয়ের মুহূর্তে আমি ক্রিজে থাকবো। একদম ঠিক তাই হয়েছে শেষ পর্যন্ত। আমি জানিনা আসলে কী ভেবে এটা বলেছিলাম। আমি তার কাছে গিয়ে বললাম আর সেটাই হল।’

‘আমি যখন ক্রিজে যাই তখন জয় দা কে বলা কথাটা আমার মাথায় ঘুরছিল আর মনে হচ্ছে এইতো সেই পরিস্থিতি। সুতরাং আমাকে অবশ্যই এটা শেষ করে আসতে হবে। মনোজ (মনোজ তিওয়ারি) অবশ্য দারুণ ভূমিকা পালন করেছে (৩ বলে ৯*)। সে দুটো বাউন্ডারি মেরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এর আগে বিসলার (মনভিন্দর বিসলা ৪৮ বলে ৮৯) ও জ্যাক ক্যালিসের (৪৯ বলে ৬৯) দুটো দারুণ ইনিংসই আমাদের ম্যাচ জেতায়।’

প্রথম আইপিএল শিরোপা জয়ের পর উদযাপন চলেছে দুইদিন ধরে। বর্ণনা দিতে গিয়ে সাকিব যোগ করেন, ‘শিরোপা জয়ে আমাদের যে উদযাপন ছিল সেটা সত্যি অবিশ্বাস্য। দুইদিন ধরে উৎসব চলেছে আমাদের। কোলকাতার রাস্তায় গাড়িবহর নিয়ে র‍্যালি হয়েছে, মাঠে ৭০ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিল। রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার লোক আমাদের উদযাপনে যোগ দেয়। খোলা গাড়িতে আমাদের সাথে শাহরুখ ছিল, জুহি চাওলা ছিল। প্রথমবার শিরোপা জয় বলে কথা, মমতা ব্যানার্জী ও কোলকাতার অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও ছিল আমাদের সাথে।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

সাকিবের হায়দ্রাবাদ-কোলকাতা মিলিত একাদশ

Read Next

সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে মাঠে গড়াবে এশিয়া কাপ

Total
5
Share