এখন সাকিব ‘এসব’ বোঝেন, প্রত্যাশা জানেন

আল হাসান
Vinkmag ad

২০০৯ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব পান সাকিব আল হাসান। তরুণ একজন ক্রিকেটারের পক্ষে এমন একটি দলকে সামলানো সত্যিকার অর্থেই কঠিন ছিল। ব্যর্থতার ভীড়ে সাফল্যও অবশ্য ধরা দিয়েছিল ক্ষণে ক্ষণে। তবে নিজের পারফরম্যান্স ঠিক থাকলেও দল হিসেবে ধারাবাহিক হতে না পারায় দুই বছর পরই হারিয়েছেন গুরু দায়িত্ব। ফের যখন দায়িত্ব পান ততদিনে মানসিকভাবে পোক্ত হয়েছেন টাইগারদের পোস্টারবয়। সময়ের সাথে সাথে আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সাকিব মগজ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া শিখে গেছেন।

তথ্য গোপনের অভিযোগে বর্তমানে এক বছরের নিষেধাজ্ঞায় আছেন। নিষেধাজ্ঞা আরোপ হওয়ার সময়টায় টাইগারদের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্বটা তার কাঁধেই ছিল। সম্প্রতি ক্রিকেট ওয়েবসাইট ‘ক্রিকবাজে’ ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলের সাথে ভিডিও আড্ডায় সাকিব জানান ২২ বছর বয়সে অধিনায়কত্ব পাওয়াটা তার জন্য সঠিক ছিলনা। নিজে অনুধাবন করেন ২৮ বছর বয়সের আগে অধিনায়কত্ব পাওয়া উচিৎ নয় কারোরই।

এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশকে নেতৃতে দিয়েছেন ৫০ ওয়ানডে, ১৪ টেস্ট ও ২১ টি-টোয়েন্টিতে। সাফল্য বিবেচনায় গড়পড়তাই বলতে হয়ে। ২৩ ওয়ানডে জয়ের বিপরীতে মাত্র ৩ টেস্ট ও ৭ টি-টোয়েন্টি জয়। ২০১১ বিশ্বকাপে টাইগারদের নেতৃত্ব দেওয়া সাকিব বলছেন ঐ সময়টায় দায়িত্ব পাওয়া তার জন্য দ্রুতই হয়ে গিয়েছিল। ২০১৭ সালে মাশরাফির টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর ও মুশফিকের টেস্ট অধিনায়কত্ব হারানোর পর দুই ফরম্যাটেই দায়িত্ব পেয়েছেন সাকিব। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তার পরিবর্তনটা স্পষ্ট।

টাইগার অলরাউন্ডার বলেন, ‘আমি মনে করি আমার ক্যারিয়ারে এটা (২২ বছর বয়সে অধিনায়কত্ব) দ্রুতই হয়ে গেছে। আমি মনে করি আমি যদি অধিনায়কত্ব চাই পেছনে ফিরে তাকালে আমি বলবো সেটা ২৮ বছর বয়সের আগে হওয়া উচিৎ না। আমি যখন অধিনায়কত্ব পাই তখন আমার বয়স মাত্র ২২ বছর, এটা আসলেই অনেক তাড়াতাড়ি ছিল। ঐ সময়টায় আমার গাইড প্রয়োজন ছিল, এমন একজন যিনি আমাকে ঠিকভাবে পরিচালনা করবেন। আমি ভাগ্যবান যে এমন অনেককেই পেয়েছি আমার আশেপাশে। কিন্তু আমি এখনো মনে করি আমার জন্য ঐ সময় অধিনায়কত্ব পাওয়াটা দ্রুতই ছিল।’

চেষ্টার ত্রুটি ছিলনা তবে ভাবনার জায়গাটা সংকীর্ণ ছিল বলেই সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতাই বেশি ছিল। এমনটাই মনে করেন সাকিব, ‘আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমি যখন পেছনে ফিরে যাই বুঝতে পারি অনেক জায়গা ছিল যেখানে আরও ভালো করা যেত। আসলে অনেক সিদ্ধান্ত ছিল যেগুলো আবেগ থেকে এসেছে, মাথা থেকে নয়। আপনি একজন তরুণ ক্রিকেটার, শরীরে অন্যরকম তেজ। মনে হত আমি এটা পারবো, এ সিদ্ধান্ত আমিই নিব, আর আমিই সবচেয়ে বেশি ক্রিকেট বুঝি, আমিই সঠিক। এসব জিনিসই ছিল তখন।’

‘এখন আমি মতামত দিই, ব্যাপারগুলো নিয়ে চিন্তা করি এরপরই সিদ্ধান্ত নিই। যে কারণে বেশিরভাগ সময় ভুলের চাইতে সঠিক সিদ্ধান্তই বেশি হয়। কিন্তু যখন আমি ২২ বছরের একজন তরুণ ছিলাম তখন সিদ্ধান্ত নিতাম হৃদয় দিয়ে, মাথা দিয়ে নয়। সুতরাং পেছনে ফিরে তাকালেই আমার মনে হয় অধিনায়কত্ব পাওয়া উচিৎ ২৮ বছর বয়সের পর।’

প্রথম মেয়াদে তার অধীনে দল ভালো না করলেও নিজের পারফরম্যান্স ছিল ধারাবাহিকই। তবে ৩৩ বছর বয়সী সাকিব এখন ঠিকই বুঝেন অধিনায়ককে নিজের সাথে দলের পারফরম্যান্সও ঠিক রাখতে হয়,

‘অধিনায়কত্ব আমার পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে কিন্তু আমাকে চাপের মধ্যেও থাকতে হয়। আসলে কীভাবে বুঝাবো এটা কি ধরণের চাপে ফেলে…। প্রতিবারই যখন আপনি পারফর্ম করবেন কিন্তু দল ভালো খেলেনা তখন দায়ভারটা আপনাকেই দেওয়া হবে। ঐ সময় আমি আসলে এই অভিযোগটা নিতে পারতাম না। এখন আমি এসব বুঝি, প্রত্যাশা জানি। কিন্তু তখন আমি এভাবে ভাবতে পারতাম না যে আমি ভালো করার পাশাপাশি দলকেও ভালো করতে হবে।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

স্থগিত বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফর

Read Next

সাকিবের হায়দ্রাবাদ-কোলকাতা মিলিত একাদশ

Total
4
Share