‘৫ বা ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারতাম’

সাকিব আল হাসান
Vinkmag ad

২০১৯ সালে মূদ্রার দুই পিঠই দেখেছেন সাকিব আল হাসান। বিশ্বকাপে চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্সের ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পেয়ে সেটা গ্রহণ না করলেও আইসিসিকে না জানানোয় নিষিদ্ধ হন তিনি। জনপ্রিয় ক্রিকেট বিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ক্রিকবাজের সঙ্গে আলাপে সাকিব জানিয়েছেন এই ঘটনা থেকে শিক্ষা পাবার কথা।

হার্শা ভোগলের সঙ্গে আলাপে সাকিব বলেন, ‘আমার মনে হয় যা ঘটেছে সেটাকে আমি খুব ক্যাজুয়ালি নিয়েছিলাম। অবশ্যই আমি এই প্ল্যাটফর্মে সবকিছু নিয়ে আলোচনা করতে চাই না।’

‘যখন আমি অ্যান্টি করাপশন ইউনিটের লোকের সঙ্গে দেখা করেছিলাম, আমি তাদেরকে সব বলেছিলাম, তারা সব জানত। আমি তাদেরকে সব প্রমাণাদি দিয়েছিলাম, কি ঘটেছিল তার সবটা তারা জানত। সত্যি বলতে সেটাই একমাত্র কারণ যেজন্য আমি কেবল এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছি। নাহলে ৫ বা ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারতাম।’

প্রায় ১৪ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেন সাকিব আল হাসান, খেলেছেন অসংখ্য ম্যাচ। আইসিসির এন্টি করাপশন ইউনিট, কোড অব কন্ডাক্ট সম্পর্কে খুব ভালো করে জানেন তিনি। তাই এই বোকার মত ভুল করা উচিৎ হয়নি বলে জানান তিনি, দুঃখ প্রকাশ করেন এজন্য।

‘আমি মনে করি আমি বোকার মত একটা ভুল করেছিলাম। কারণ আমার যে অভিজ্ঞতা, যতগুলো আন্তর্জাতিক ম্যাচ আমি খেলেছি, যতগুলো আইসিসি এন্টি করাপশন ইউনিটের কোড অব কন্ডাক্টের ক্লাস করেছি তাতে আমার এই ভুল করা উচিৎ হয়নি।’

‘এজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। আর আমি মনে করি কারোরই এধরণের কল বা মেসেজ হালকাভাবে নেওয়া উচিৎ না। আমাদের কাছে অনেক কল আসে, কতগুলোই বা আর মনে থাকে।’

‘আমি একটা উদাহরণ দিই, শেষবার যখন সে আমাকে মেসেজ দিল, আমি রিপ্লাই দিয়েছিলাম সরি, আমি কার সাথে কথা বলছি? আমি তখন জানতাম না কার সাথে কথা বলছি, তবে তার সাথে আমার ২ বছর আগে কথা হয়েছে। আমি কখনোই জানতাম না সে ব্যক্তিটি কে, তার নাম্বারও আমার কাছে ছিল না। যখন তদন্ত হয়েছিল তদন্তকারীরা জানতো এসব, তারা পরিস্থিতি বুঝতে পারে।’

এই ঘটনা থেকেই জীবনের বড় এক শিক্ষা পেয়েছেন বলে জানান সাকিব।

‘তবে কারোরই এটা হালকাভাবে নেওয়া উচিৎ নয়, অবশ্যই আইসিসির এন্টি করাপশন ইউনিটকে জানানো উচিৎ। জানিয়ে সেফ সাইডে থাকা উচিৎ। এই শিক্ষাটা আমি পেয়েছি, আমি বড় শিক্ষা পেয়েছি।’

 

View this post on Instagram

 

He will come back again, will come back strongly.

A post shared by cricket97 (@cricket97bd) on

যারা সাকিবকে লম্বা সময় ধরে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসে গেছে সেই সমর্থকদের হতাশ করেছেন তিনি। তাই যখন আবার মাঠে ফিরবেন, সমর্থকদের প্রাপ্য বেশিগুণে ফিরিয়ে দেবার ইচ্ছের কথা জানান সাকিব।

‘এই সময়, এই পরিস্থিতি আমাকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাবে ভাবতে দিয়েছে। এর আগে হয়তো আমি খেলতাম আমার দেশের, নিজের ও নিজের পরিবারের জন্য। কিন্তু আমি এখন ভাবি কীভাবে আমি মানুষকে তাদের প্রাপ্যটা ফিরিয়ে দিতে পারব, যারা আমাকে সমর্থন করে আসছে গত ১২-১৫ বছর ধরে। তারা হতাশ হয়েছে আমার কাজে। তো আমি ভাবছি কীভাবে আমি তাদের আরো বেশি কিছু দিতে পারি। এখন এটাই আমার মাথায় চলছে।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

কাল ‘পজিটিভ’, আজ ‘নেগেটিভ’!

Read Next

‘পরিশ্রম করেন বলেই ব্যর্থতা মানতে পারেন না মুশফিক’

Total
9
Share