নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতার ভালো দিক দেখছেন সাকিব

সাকিব তামিম মুশফিক
Vinkmag ad

বাংলাদেশ ক্রিকেটে সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম অভিষেকের পর থেকেই নিজেদের অপরিহার্য করে তোলেন। সময়ের বিবর্তনে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে কাটিয়ে দিয়েছেন এক যুগের বেশি সময়। এ সময়ে দেশের ক্রিকেটের অসংখ্য রেকর্ড নিজেদের দখলে নিয়েছেন এই ত্রয়ী। সব ফরম্যাট মিলিয়ে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা তিনজন মুশফিক (৩৭৪), তামিম (৩৪৫) ও সাকিব (৩৩৮)।

বয়সভিত্তিক থেকেই একসাথে খেলছেন, ভালো বন্ধুও বলা যায়। জাতীয় দলের জার্সিও প্রথম গায়ে চাপিয়েছেন কাছাকাছি সময়ে। তিন ফরম্যাটে টাইগারদের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবেও শীর্ষ তিনে আছেন তারা। ১৩,৩৬৫ রানে নিয়ে সবার উপরে বাঁহাতি ওপেনার তামিম ইকবাল, ১১,৮৬৯ রান নিয়ে মুশফিকুর রহিম দ্বিতীয় অবস্থানে ও ১১,৭৫২ রান করা সাকিব আছেন তিন নম্বরে।

দেশের হয়ে একসাথে ২২ গজে এক যুগের বেশি সময় কাটানো সাকিব-তামিম-মুশফিকদের একদিন যেতে হবে অবসরে। বাস্তবতা বলে ক্যারিয়ারের শেষ অংশে আছেন টাইগারদের তিন মূল স্তম্ভ। কয়েক বছর পরই হয়ে যাবেন সাবেক ক্রিকেটার। ক্রিকেট ওয়েবসাইট ‘ক্রিকবাজের’ ভিডিও আড্ডায় ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলের সাথে আলাপে সাকিব কথা বলেছেন নিজেদের একসাথে খেলা নিয়ে। টাইগারদের পোস্টারবয় সাকিব বলছেন একসাথে খেলার মত অবসরের পরেও তারা দারুণ সময় কাটাবেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি যখন আমরা তিনজন একসাথে অবসরে যাবো সেটা হবে আরও দারুণ ব্যাপার। যখন তিনজন একসাথে বসবো, পুরোনো স্মৃতি মনে করবো, আমরা কি করেছি সেসব নিয়ে কথা বলবো। আমরা অনূর্ধ্ব-১৫ থেকে একসাথে, এখনো পর্যন্ত একসাথেই খেলছি। আশা করি আরও কয়েকবছর খেলবো, এরপর অবসরে গেলে একসাথে বসবো, স্মৃতি রোমন্থন করবো।’

তিনজন একসাথে সর্বশেষ খেলেছেন ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে লর্ডসে। এরপর শ্রীলঙ্কা সফরে সাকিবের বিশ্রাম, ভারত সফরের আগে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা, তামিমের বিশ্রাম মিলিয়ে একসাথে খেলা হয়নি। করোনা পরবর্তী সময়ে মাঠে ক্রিকেট ফিরলে ও অক্টোবরে সাকিবের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হলে আবারও তিনজন একসাথে লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করবেন। সাকিবের ভাবনায় ইতোমধ্যে কাজ করছে ২০২৩ বিশ্বকাপও, ‘বর্তমানে আমাদের নজর ২০২৩ আইসিসি বিশ্বকাপের দিকে। যেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ ক্রিকেট ও আমাদের জন্য। আপাতত আমাদের লক্ষ্য সেদিকেই।’

বিভিন্ন সময়ে নিষেধাজ্ঞা ও বিশ্রামের কারণে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের প্রতিযোগিতায় বর্তমানে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন টাইগার অলরাউন্ডার। কিন্তু একটা সময় ছিল যখন কখনো সাকিব এগিয়ে থাকত আবার কখনো তামিম এগিয়ে থাকত। শেষদিকে তাদের প্রতিযোগিতায় যোগ দিয়েছেন অদম্য মানসিক দৃঢ়তার অধিকারী মুশফিকুর রহিমও। সবশেষ ৫ বছরে নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন প্রতিনিয়ত। তিনজনের মধ্যে উঠে এসেছেন দুই নম্বরে। নিজেদের মধ্যে চলা এই প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন সাকিব। সব দলেই এমন সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকা দলের জন্য ভালো বলছেন টাইগারদের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার।

সাকিব বলেন, ‘সুস্থ একটা প্রতিযোগিতা থাকেই (তিন জনের), এটা দলের জন্যই ভালো। আপনি জানেন দলের ভালোর জন্য এমন প্রতিযোগিতা প্রয়োজন। সুতরাং আমাদের মধ্যে কেউ যখন সেঞ্চুরি করে তখন আমার ১২০ করার তাড়না থাকে। আমাদের মধ্যে সেরকম কিছুই আছে। তিন ফরম্যাটেই আমাদের রান খুব কাছাকাছি, তিনজনের মধ্যে পার্থক্যটা অনেক কম। সেক্ষেত্রে তিনজনই আসলে চাই যে আমি টপে থাকবো। এটা অবশ্যই ভালো। আর সব দলেই এমন প্রতিযোগিতা থাকা প্রয়োজন।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

‘ক্রিকেট পেশা, তবে প্যাশন সবসময়ই ফুটবল’

Read Next

কাল ‘পজিটিভ’, আজ ‘নেগেটিভ’!

Total
68
Share