‘ওয়ানডেতে ভারতের সেরা অলরাউন্ডার হতে পারতাম’

ইরফান পাঠান
Vinkmag ad

ভারতীয় দলে দারুণ প্রতিভা নিয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন ইরফান পাঠান। প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের সমস্যায় ফেলা ইরফান ব্যাটিং টাও মন্দ করতেন না। তার মতে একদিনের ক্রিকেটে ভারতের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার হয়ে ওঠার মশলা ছিল তার মধ্যে, তবে ক্যারিয়ার ঠিকঠাক এগোয়নি, আক্ষেপ ইরফান পাঠানের।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাড়া ফেলেছিলেন ১৯ বছর বয়সেই। শুরুতে সবাই ইরফানের বোলিং ঝলক দেখলেও পরে ব্যাটিং প্রতিভাও দেখেন। চোট, পড়তি ফর্ম সবমিলে জাতীয় দলে শেষবার খেলেছেন ২৭ বছর বয়সে।

ইরফান পাঠানকে ধরা হয় ভারতের অন্যতম প্রতিভা অপচয়ের উদাহরণ হিসাবে। সেটা মানছেন ইরফানও, বলছেন ভারতের সেরা অলরাউন্ডারদের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারতেন তিনি।

ইরফান পাঠান বলেন, ‘আমি আরও অনেক সাফল্য পেতে পারতাম। আমার বিশ্বাস ওয়ানডে ক্রিকেটে দেশের সেরা অলরাউন্ডার হয়ে উঠতে পারতাম। কিন্তু তা ঘটেনি। কারণ, যতটা খেলার কথা, ততটা ক্রিকেট আমি খেলিইনি। মাত্র ২৭ বছর বয়সে দেশের হয়ে শেষ বার খেলেছিলাম আমি।’

ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ৫৯ ম্যাচেই ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন ইরফান। পরের ৬১ ম্যাচে উইকেট কেবল ৭৩ টি!

শুরুতে ছিলেন স্ট্রাইক বোলার, নতুন বল হাতে তুলে নিতেন। পরে ভূমিকা বদলে যায়, পরিবর্তিত বোলার হিসাবে আক্রমণে আসতেন তিনি। ব্যাটিংয়ে বাড়তি মনযোগ দেওয়া আরম্ভ করেন। টেস্টে করে ফেলেন সেঞ্চুরিও। তবে অলরাউন্ডার স্বত্ত্বা ইরফানের ক্যারিয়ার লম্বা করতে পারেনি।

ইরফানের কণ্ঠে আক্ষেপ, ‘যদি প্রথম ৫৯ ওয়ানডে ম্যাচের দিকে তাকান, দেখবেন যে ওই সময় নতুন বল হাতে নিতাম। নতুন বলের বোলার হলে নতুন, পুরনো দুই রকম বলেই হাত ঘোরানোর সুযোগ আসে। লক্ষ্য, মানসিকতা, শরীরী ভাষা ও দায়িত্ব হয়ে ওঠে উইকেট নেওয়া। কিন্তু পরিবর্তিত বোলার হিসেবে বল করলে ভূমিকায় বদল ঘটে। তখন রক্ষণাত্মক ভূমিকা নিতে হয়। সেই সময় কোচ ও অধিনায়ক আপনাকে দেখতে থাকেন ডিফেন্সিভ বোলার হিসেবে। তখন রান আটকানোর দায়িত্ব এসে পড়ে কাঁধে। ভূমিকা বদলে গেলে তখন তা প্রভাব ফেলে পরিসংখ্যানে।’

ইরফান নিজের দারুণ এক ক্যারিয়ার না হওয়ার দায় টিম ম্যানেজমেন্টকেও দিলেন।

‘আমার মনে হয় এটা নিয়ে দলের তরফ থেকে কথা বলা উচিত ছিল। বলতে হত যে, ইরফান সাধারণত উইকেট নেওয়ায় জোর দেয়। কিন্তু আমরা ওকে একটা অন্য ভূমিকায় দেখতে চাইছি। আমরা পরিবর্তিত বোলারের দায়িত্ব দিয়েছি ওকে। যে কিনা এক দিনের ক্রিকেটে সাত-আট নম্বরে নামবে। এক দিনের ক্রিকেটে যা খুব গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।’

‘২০১২ সালে পুনরায় নতুন বল হাতে পাওয়ার পর পরিসংখ্যান পাল্টে যাচ্ছিল। শেষ ম্যাচেও তো নিয়েছিলাম পাঁচ উইকেট। এটা মোটেই বলছি না যে, শুধু নতুন বলেই বল করতে পারি। পুরনো বলে হাতে দৌড়ে আসতেও আমি প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু, দলগত খেলায় ভূমিকা পাল্টে গেলে তা প্রতিফলিত হয় পরিসংখ্যানে।’

ক্যারিয়ারে ২৯ টেস্ট, ১২০ ওয়ানডে ও ২৪ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ইরফান পাঠান।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

তদন্তাধীন ৫০ ফিক্সিং কান্ড, বেশিরভাগেই জড়িয়ে ভারতীয়দের নাম

Read Next

আইপিএল খেলার ব্যাপারে ‘নিশ্চিত’ ও ‘পজিটিভ’ ওয়ার্নার

Total
4
Share