১৫ কোটি টাকার প্রস্তাব, তবুও যেকারণে আইসিএলে যাননি আশরাফুল

আশরাফুল

কদিন আগেই বাংলাদেশ জাতীয় দলের অন্যতম সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা জানিয়েছেন টাকার জন্য কখনোই ক্রিকেট খেলেননি। নিষিদ্ধ ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগে (আইসিএল) ৮ কোটি টাকার প্রস্তাব পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছেন দেশের জন্য খেলবেন বলে। মাশরাফির চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ অর্থের প্রস্তাব পেয়ে একই পথে হেঁটেছেন মোহাম্মদ আশয়ারফুলও। একই দর্শনে আইসিএল খেলতে না যাওয়া সাবেক এই অধিনায়কই কিনা পরবর্তীতে ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন পাঁচ বছর।

ফিক্সিং কান্ডে জড়িয়ে লম্বা সময়ের সাজা শেষ হলেও জাতীয় দলে আর ফেরা হয়নি দেশের প্রথম সুপারস্টারের। নিষিদ্ধ আইসিএল খেলার প্রস্তাবে মাশরাফি-আশরাফুলরা রাজি না হলেও হাবিবুল বাশার, শাহরিয়ার নাফিস , অলক কপালি, ফরহাদ রেজারা ঠিকই খেলেছেন। সবার আগে প্রস্তাবটা পান তখনকার অধিনায়ক আশরাফুল, সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দও ছিল তার জন্য। কোচ জেমি সিডন্স সায় দিলেও শৈশব গুরু আর পরিবারের সমর্থন না পাওয়ায় সে যাত্রায় যোগ দেননি।

সম্প্রতি ক্রিকেট ওয়েবসাইট ‘বিডিক্রিকটাইমের’ লাইভ আড্ডায় আশরাফুল তুলে ধরেন সে সময়কার গল্প। সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘আইসিএলে খেলার প্রস্তাব সবার আগে আমার কাছেই এসেছিল। মাশরাফিসহ অনেক খেলোয়াড়কে জিজ্ঞেস করলাম- এরকম প্রস্তাব এসেছে, তাদের কী চিন্তাভাবনা। আমাকে ৩ বছরের জন্য ১৫ কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়া হল। বাকিদের কাছে আমার মত মোটা অঙ্কের টাকার প্রস্তাব আসেনি।’

‘তাদের প্রস্তাব করা হয়েছিল এক-দেড় কোটি টাকা (যদিও মাশরাফি বলেছেন তার কাছে ৮ কোটি টাকার প্রস্তাব ছিল)। আমাকে আইসিএল থেকে বলেছিল বাংলাদেশ থেকে একটা দল নিয়ে যেতে। সিডন্স ( তখনকার বাংলাদেশ কোচ জেমি সিডন্স) বলেন- আমি হলে সবার আগে চলে যেতাম (আইসিএলে), খেলছি তো টাকার জন্যই।’

জাতীয় দলের আরেক সাবেক অধিনায়ক গাজি আশরাফ হোসেন লিপু, তার শৈশব কোচ ও পরিবারের সায় না পেয়েই নিষিদ্ধ পথে পা বাড়াননি আশরাফুল। ৩৫ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান বলেন, ‘লিপু ভাইকেও বললাম। ওয়াহিদ স্যার (ওয়াহিদুল গণি) আমার গুরু, উনার সাথে কথা বললাম এবং আব্বাকেও বিষয়টা বললাম। আব্বা একটা কথাই বললেন- বাবা, টাকাপয়সা অনেক কামানো যাবে। বাংলাদেশের মানুষ তোমাকে বা ক্রিকেটারদের যে সম্মান দেয় প্রধানমন্ত্রীকেও ঐ সম্মান দেওয়া হয় না। ওয়াহিদ স্যারও ঐ কথা বললেন- টাকা পয়সার জন্য যাওয়ার দরকার নেই, তুমি দেশের হয়ে খেলো।’

আশরাফুল যেতে না চাইলেও যাওয়ার পক্ষে অন্য অনেক ক্রিকেটারই ছিল। তবে নিজে যাচ্ছেন না বলে দলও হচ্ছে না এমনটাই ভেবেছিলেন। যদিও পরে তার অগোচরেই দল গঠন করে ভারত পাড়ি জমান হাবিবুল বাশার, ফরহাদ রেজা, মোশাররফ রুবেলরা।

আশরাফুলের ভাষ্যমতে দোষটা অবশ্য তার ঘাড়েই উঠেছিল, ‘আমি যেহেতু যাৰ না তাহলে তো দল আর হচ্ছে না- এটাই ধরে নিয়েছিলাম আমি। পরে একটা দল তৈরি করা হল, ওরা খেলতে গেল। ঐ সময় আমি ইংল্যান্ডে ছুটি কাটাচ্ছিলাম। সবাই ভেবেছে আমি দল তৈরি করে ইংল্যান্ডে চলে গিয়েছি। দলটা কিন্তু আমি তৈরি করিনি, যারা গিয়েছিল উনারাই তৈরি করেছে। আসলে আমি কিছুই করিনি। দোষটা আমার উপরই দেওয়া হয়েছে, আমি নাকি করেছি।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

সাকিব সম্পর্কে মাশরাফিঃ ‘ও আমাদের মত না’

Read Next

করোনা মুক্ত নিউজিল্যান্ড, নিশামের অভিনন্দন বার্তা

Total
8
Share