ক্রিকেটারদের আন্দোলন ইস্যুতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন মাশরাফি

মাশরাফি বিন মর্তুজা

গত বছর অক্টোবরে ক্রিকেটারদের ১১ দফা আন্দোলন (পরবর্তীতে যা ১৩ দফা) নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশ ক্রিকেটে বেশ বড়সড় ঘটনাগুলোর একটি। পারিশ্রমিক বৃদ্ধি, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট অবকাঠামো উন্নয়নসহ ন্যায্য দাবিগুলো নিয়েই মিরপুর একাডেমি মাঠে ২১ অক্টোবর হাজির হয়েছিলেন সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহরা। তাদের সাথে ছিল শ’খানেক প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার। তবে এত ক্রিকেটারের ভীড়ে মাশরাফিকে না দেখে অবাক হয়েছিল অনেকেই। ততদিনে নড়াইল-২ আসনের সাংসদ নির্বাচিত হওয়া ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফির দিকে আঙ্গুল তোলা হয়েছিল নানা দিক থেকে।

মূলত আন্দোলনের আয়োজকদের অনিচ্ছাতেই মাশরাফিকে দূরে থাকতে হলেও সমালোচনাটা বয়ে যায় টাইগারদের সফল অধিনায়কের উপর দিয়েই। ইচ্ছে করেই ক্রিকেটারদের আন্দোলনে যোগ দেননি এমন গুঞ্জন ছিল মুখে মুখে। নিজে কিছু না জেনেও দোষী হওয়া মাশরাফি জানিয়েছেন ক্রিকেটারদের আন্দোলন ইস্যুতে যে সমালোচনা সইতে হয়েছে তা বেশ কষ্ট দিয়েছে তাকে।

গতকাল (২৭ মে) সাংবাদিক নোমান মোহাম্মদের ‘নট আউট নোমান’ এর ইউটিউব চ্যানেলে লাইভ আড্ডায় অতিথি হিসেবে ছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ক্রিকেটারদের আন্দোলন ইস্যু আসতেই সদ্য সাবেক হওয়া টাইগারদের এই অধিনায়ক ব্যাখ্যা দিয়েছেন পুরো ব্যাপারটির। নিচে পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল আন্দোলন প্রসঙ্গে দেশের অন্যতম সফল পেসার ও অধিনায়কের ভাষ্য-

এত বুদ্ধিমানরা এমন ভুল কীভাবে করলো?

‘যার সাথে হবে সে হয়তো বেশি ভালো বুঝতে পারবে। মানুষ অনেক সময় ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর দুর্বল জায়গা গুলো দেখাতে চায়না। অস্বীকার করবোনা এটা আমার অত্যন্ত কষ্টকর একটা জিনিস ছিল। যেদিন ১১ দফা দাবি করে সেদিন দেখার পর আমার কাছে মনে হয়েছিল ১২ দফা দাবি হওয়া উচিৎ ছিল। সেটা কি জন্য? ১২ তম দফাটা হওয়া উচিৎ ছিল আমরা মাশরাফিকে ডাকিনি। যারা আয়োজন করেছে তারা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিত কারণ আমি তখনো অবসরে যাইনি। শুধু যে অবসরে যাইনি তা নয়, ঐ সময় আমি অধিনায়কও। স্বাভাবিকভাবে যে কেউই প্রশ্ন করবে তাহলে মাশরাফি কই গেল?’

‘এত বুদ্ধিমান মানুষ হয়ে এতগুলো ছেলে একসাথে হয়েছে এতটুকু চিন্তা করবেন না এটা আসলে কেমন জিনিস। তখন তাৎক্ষনিক আমার কাছে এটা মনে হয়েছিল। তামিমের সাথে আমার পরদিন কথা হল, আমি এটাই বলেছি তোদের দাবি হওয়া উচিৎ ছিল ১২ টি। তোরা আমাকে রাখলিনা, প্রয়োজন মনে করিসনি সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু মানুষের জন্য কি রাখলি? আমাকে যে এতগুলো কথা শুনাইলি। মানুষ বলতেছে মাশরাফি কই?’

আন্দোলনে মাশরাফির না থাকা নিয়ে হয়েছে মিথ্যাচার

‘আরেকটা জিনিস ড্রেসিং রুমে মিথ্যাচার হয়েছে, সেটা অনেক প্লেয়ারই বলতে পারবে। এমন কথা হয়েছে যে মাশরাফি এমপি এজন্য সে আসবেনা। আরেকজন জুনিয়র প্লেয়ার বলেছে মাশরাফি এখন যে ক্ষমতায় সরকারি দল সে দলের, তাই আসবেনা। আচ্ছা এটা কি সরকার বিরোধী আন্দোলন ছিল? তাওতো না। আবার বলা হয়েছে উনি নড়াইলে গেছে, উনি নাই। এটা কেন? ক্লিয়ার করে বলে দিলেইতো হত আমরা মাশরাফিকে রাখতে চাচ্ছিনা। জুনিয়র প্লেয়ারদের কাছেও আমাকে ছোট করার প্রয়োজন ছিলনা।’

‘তামিম একটা বিবৃতি দিয়েছে আমাকে ফোন দিয়ে পায়নি। তার সাথে আমার তিন দিন আগেও কথা হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপে। চিটাগাংয়ে একটা খেলা ছিল সে আমাকে বলল যাবো কিনা। আমি ক্লিয়ার করে দিচ্ছি। আমি এক পর্যায়ে বলেছি যাবো। সে বলল টাকাটা আপনার বাসায় পাঠাই দিব কিনা? আমি বললাম তোর কাছে রাখ পরে নিব। বিচ ক্রিকেট সম্ভবত। সে পরে আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করেছে আমি অনলাইনে ছিলাম না।’

তামিমের ফোনকলের ব্যাখ্যা

‘আমার আব্বা সিরিয়াস অসুস্থ ছিল, যশোর ক্যান্টেনমে্নটে এক রাত রেখে ঢাকায় আনা হয়েছে। তো আমি যখন রাতে ফোন অন করলাম দেখি তামিম কল দিয়েছে। আমি ভাবলাম শেষ তার সাথে আমার আলাপ হয়েছে টাকার বিষয়ে হয়তো সেজন্যই কল দিয়েছে। তাই চিন্তা করলাম পরেই কথা বলবো। তার ভেতরে এ ঘটনা ঘটলো। হয়তো তামিম কল দিয়েছে সেটা ক্লিয়ার হতে পারে।’

‘বাংলাদেশ ক্রিকেটে এর আগে কি আমাকে পাওয়া যায়নি? আমাকে খুঁজে নেওয়া হয়নি? যেখানেই আমি থেকেছি, জঙ্গলে থাকলেও আমাকে খুঁজে বের করা হয়েছে। আমার বাসার পাশে অসংখ্য প্লেয়ার থাকে, তাদের বাসা এদিকে। তাও বাদ দিলাম আমার বেস্ট ফ্রেন্ড বাবলু। তামিম দুই-তিন দিন আগেই বাবলুকে দিয়ে এখানকার চাপ খেয়েছে, বেশ মজার। সে যদি বাবলুকেও বলে দিত আমি জানতাম। আমি কাউকে দোষ দিচ্ছিনা। আমি যেটা বললাম তামিমের হয়তো ইচ্ছে ছিল বলার। যেকোনভাবে তারা আমাকে এড়িয়ে যেতে চেয়েছে। এটা অস্বাভাবিক কিছুনা।’

আন্দোলনে না রেখে মাশরাফিকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা

‘আমি কোনদিনই নিজেকে জাহির করতে যাইনি আমি অধিনায়ক আমাকে ডাকতে হবে। জাহির করতে কখনো যাইনি আর যাবোওনা কোনদিন। হয়তোবা ড্রেসিং রুমে তারা কোনদিন না ডাকলে আমি যাবোওনা। এটা সত্যি কথা। কিন্তু সব মানুষের কাছে আমিই বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছি। কারণ দাবিগুলোতো যৌক্তিক, যৌক্তিক এসব দাবির সাথে যেহেতু আমি নাই সেক্ষেত্রে আমিই অযৌক্তিক। এই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে আমিই একমাত্র ক্রিকেটার পড়ে গিয়েছিলাম। তারা যদি ক্লিয়ার করে আসতো আমরাই মাশরাফিকে এখানে আনিনি বা উনাকে পাইনি। এরকম হলেও আমি একটা নিরাপদ জায়গায় থাকতাম। তামিমকেও বলেছি আসলে এটা নিয়ে আমার আফসোস নাই।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

গ্রীষ্ম মৌসুমের পূর্নাঙ্গ সূচি প্রকাশ করল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া

Read Next

ঝুলে রইল ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি ২০২০ এর ভাগ্য

Total
79
Share