‘গতিদানব’ ট্রল নিয়ে মাথাব্যাথা নেই খালেদ মাহমুদের

খালেদ মাহমুদ সুজন
Vinkmag ad

বাংলাদেশ ক্রিকেটে খালেদ মাহমুদ সুজনের অবদান কম নয়। খেলোয়াড়ি জীবনে দেশকে বেশ কিছু জয় পাইয়ে দিয়েছেন, খেলা ছাড়ার পর দেশকে উপহার দিয়েছেন বেশ কিছু তারকা ক্রিকেটার। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান সহ অনেক ক্রিকেটারকে ব্রেক দিয়েছেন। তবুও বিভিন্ন সময় সমালোচনা/ ট্রলের শিকার হন তিনি।

বাংলাদেশের হয়ে ১২ টি টেস্ট ও ৭৭ টি ওয়ানডে খেলেছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। ব্যাট হাতে দুই ফরম্যাট মিলে ১০০০ এর বেশি রান করা সুজন বল হাতে নিয়েছেন ৮০ উইকেট। ডানহাতি এই মিডিয়াম পেসার কার্যকরী বোলিংয়ে অবদান রেখেছেন। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে জেতা ম্যাচে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন তিনি।

খুব বেশি জোরে বল করতেন না তিনি। তবে বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই তাকে গতিদানব বলে ট্রল করে থাকেন। নিজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুব বেশি সক্রিয় থাকেন না বলে এসব খুব একটা চোখে পড়েনা, তবে বন্ধুদের মাধ্যমে জানতে পারেন। যদিও কে কি বলল তা নিয়ে মাথাব্যাথা নেই তার। এটা নিয়ন্ত্রনযোগ্য না জেনে নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টাটাও করেন না তিনি।

নট আউট নোমান নামে ইউটিউব চ্যানেলে এসে খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘একটা কথা আছে আনকন্ট্রোলেবল জিনিস কন্ট্রোল করার চেষ্টা করো না। তো আমি আনকন্ট্রোলেবল কোন কিছুই কন্ট্রোল করতে চাই না। আমি কন্ট্রোল করতে চাই সেসবই যা কন্ট্রোলেবল।’

মিডিয়াম পেসার হলেও একটা সময় ১৩৭ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায় গতিতে বল করেছেন বলে জানান তিনি। ধীরে ধীরে কমেছে গতি।

‘যারা বলেন, কারা বলেন আমি জানি না। আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতো অ্যাকটিভ না, নাই ই বলতে গেলে। আমার বন্ধুরা অনেক সময় আমাকে বলে। আমি বলতেই পারি, গতিদানব যে কথাটা আসে- আমি কিন্তু একেবারে খারাপ জোরেও বল করিনি একটা সময়। ১৩৭ (কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায়) আমার হাইয়েস্ট পেস ছিল, ১৩৭ একেবারে খারাপ নয়। আমি ১৩৪-৩৫ এ একসময় করে গেছি। পরের দিকে এসে চামিন্দা ভাসও ১১০ এ বল করেছে, শুরুর দিকে ১৪০ এ বল করেছে।’

‘আমি চামিন্দা ভাসের সঙ্গে কোন সময়ই তুলনা করি না, আমি বলছি একটা ব্যাপার থাকে। আমাদের ঢাকার ভিতরে আমরা যখন খেলতাম তখন কিন্তু গতির কথা চিন্তা করলে বল বারবার মাঠের বাইরে থেকে নিয়ে আসতে হত।’

গতি খুব একটা কার্যকরী হবে না জেনেই কাটার শেখায় মন দিয়েছিলেন। লেগ কাটারে আউট করেছেন শচীন-শেবাগদের মতো ব্যাটসম্যানদেরও।

‘আমরা তখন চিন্তা করেছি আমরা কীভাবে কাটার শিখতে পারি। আমি কাটার নিয়ে অনেক কাজ করেছি, আমার জীবনে অনেক উইকেটই আছে লেগ কাটারে। আমি শচীন টেন্ডুলকার, বীরেন্দর শেবাগ যেসব বড় উইকেট পেয়েছি- আমি কিন্তু সব লেগ কাটারে পেয়েছি। এই লেগ কাটারের জন্য আমার ঘন্টার পর ঘন্টা ট্রেনিং করতে হয়েছে।’

‘টেকনিক্যাল জিনিসটা যখন কেউ বোঝে না তখন এসব কথা বলে। হ্যা, আমি কখনোই ফাস্ট বোলার ছিলাম না, আমি ছিলাম মিডিয়াম পেস বোলার। আমি কখনো বলি নাই আমি ১৪০-৫০ গতিতে বল করতে চাই। যেটা তাসকিন বলে যে আমি ১৫০ এ বল করতে চাই, এবং সে সেটা করতে পারে আসলে। তার সেই সামর্থ্য, উচ্চতা সব আছে আমি জানি।’

‘আমার ক্ষেত্রে যেটা ছিল আমি মাঝখানে এসে বল করি, আমাকে ভ্যারিয়েশন করতে হয়। আমাকে আঁটকে রাখতে হবে ব্যাটসম্যানকে, আমাকে ব্রেকথ্রু এনে দিতে হবে। তো আমার প্ল্যানিং টা ছিল ভিন্ন। আমার কোন কমপ্লেইন নেই, মানুষ যেটা বলার ওনারা সেটা বলবেন। অনেকে হয়তো আমার খেলাও দেখেনি, তারাও কখনো কখনো কমেন্ট করে। এটা নিয়ে আমার অতো বেশি মাথা ব্যাথাও নেই।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

সুযোগ আসলে যেকোন মূল্যে কোহলিকে দলে নিবেন নাফিসা কামাল

Read Next

হা-ম-লা-র শিকার হলেন আম্পায়ার তানভির আহমেদ

Total
14
Share