রিয়াদের জন্য নিজের ব্যাটিং পজিশনও ছেড়েছেন খালেদ মাহমুদ

রিয়াদ খালেদ মাহমুদ সুজন

বাংলাদেশ দলের অনেক ক্রিকেটারেরই সাফল্যের পেছনে নীরবে অবদান রেখেছেন সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন। বিসিবি পরিচালক ও গেম ডেভেলেপমেন্টের প্রধান এই সাবেক ক্রিকেটার নিজের খেলোয়াড়ি জীবন থেকেই তরুণদের উৎসাহ, উদ্দীপনা ও এগিয়ে যাওয়ার মন্ত্র গেঁথে দিতেন। বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার পরবর্তীতে জাতীয় দলে খেলেছেন, পারফরম্যান্স করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিতও করেছে। তাদের মধ্যে অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অন্যতম।

পেশাদার ক্রিকেটের শুরুর সময়টায় রিয়াদকে আগলে রেখেছেন খালেদ মাহমুদ, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে রিয়াদ দীর্ঘ দিন খেলেছেন তার অধীনে। জাতীয় দলের অন্যতম সিনিয়র ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ বেশ কয়েকবারই জানিয়েছেন তার আজকের অবস্থানে আসার পেছনে বড় প্রভাব খালেদ মাহমুদের। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদও বলছেন তার অধীনে খেলা ও পরামর্শে বেড়ে ওঠাদের মধ্যে রিয়াদই তাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত করে।

তার সাথে বেড়ে ওঠা জাতীয় দলে খেলা ক্রিকেটারদের মধ্যে পছন্দের তিনজন বেছে নিতে বললে সুজন জানান, ‘আমার সাথে ছোট বেলা থেকেই বেড়ে উঠেছে এমনদের মধ্যে মাহমুদউল্লাহতো অবশ্যই। রিয়াদকে ছোট থেকে দেখেছি, আরাফাত সানিকে দেখেছি, মেহরাব জুনিয়র ছিল, এখনতো খেলেনা খেলা ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু সেও খুব ছোটবেলা থেকে ক্রিকেট খেলেছে আমার সাথে।’

সাংবাদিক নোমান মোহাম্মদের ‘নট আউট নোমান’ ইউটিউব চ্যানেলে গতকাল (২৬ মে) ঈদ স্পেশাল লাইভে অতিথি হিসেবে ছিলেন সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান খালেদ মাহমুদ সুজন। দেশের অন্যতম সফল কোচদের একজনও তিনি। খেলোয়াড় চেনার অদ্ভুত এক কারিশমা আছে সাবেক এই মিডিয়াম পেসারের। তার চোখেই ধরা পড়ে মুস্তাফিজ, তাসকিন, শান্ত, মিরাজদের মত তরুণ ক্রিকেটাররা। তারও আগে খেলোয়াড়ি জীবনে মানসিক সমর্থন দিয়ে সামনে এগোনোর পথ মসৃণ করেছেন অনেকেরই।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে রিয়াদের জন্য নিজের ব্যাটিং অর্ডার পিছিয়ে নেওয়া বর্তমান সফল এই কোচ জানান রিয়াদের ভালো পারফরম্যান্স সবসময়ই উপভোগ করেন। খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন,

‘সুযোগ আসলে কেউ কাউকে করে দেয়না, ওরাই নিজেদের জায়গা নিজেরা তৈরি করে নিয়েছে। অবশ্যই কিছু জায়গায় সুপারিশ করতে হয়, নামগুলো তুলে ধরতে হয়। রিয়াদের কথা বলবো, ও যখন পারফরম্যান্স করে অনেক খুশি হই। ওকে নিয়ে যখন মানুষ কথা বলে চেষ্টা করি না শোনার জন্য। মাহমুদউল্লাহ সবসময় আমার তালিকায় থাকবে।’

‘রিয়াদকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আমার জায়গা ছেড়ে দিয়েছি ব্যাটিংয়ে। আমি ৬ এ খেলতাম তবে রিয়াদের জন্য আমি ৭ এ করা শুরু করি ওকে ৬ এ দিয়ে দিই। ওর সাথে আমার অনেক ইনিংস আছে যেখানে আমি কথা বলতাম ওর সাথে, গাইড করতাম মারবে কিনা বা অন্য কিছু। কারণ রিয়াদ হিট করতে পারতো, সে ক্লিন হিটার ছিল ছোট বেলা থেকে সত্যি কথা। তাকে বলতাম লম্বা ইনিংস খেল, মারবিনা কেন? মারবি তবে সময় নিয়ে খেল, ইনিংস বড় কর। সেও শুনতো আমার কথা।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

মুশফিকের চোখে তার ক্যারিয়ারের সেরা ১৫ স্মরণীয় ঘটনা

Read Next

মুশফিক ও তার অটোগ্রাফ

Total
73
Share