একের চোখে অন্যের সেরা ইনিংস/স্পেল

আফিফ সাইফদ্দিন মাশরাফি তামিম শান্ত তাইজুল বাংলাদেশ
Vinkmag ad

করোনাকালে তামিম ইকবালের লাইভ শো ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছিল ভক্ত-সমর্থকদের হৃদয়ে। দেশি-বিদেশি তারকা ক্রিকেটারদের অতিথি করে স্মৃতিচারণ করতেন নানা মজার মুহূর্তের, মজে থাকতেন হাস্য রসাত্মক আড্ডায়। গতকাল (২৩ মে) শেষ পর্বে তামিম আড্ডা দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের তিন স্তম্ভ মাশরাফি বিন মর্তুজা, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিমের সাথে।

দুর্দান্ত এই আড্ডায় উঠে আসে অসংখ্য মজার স্মৃতি, একজন তুলে ধরেন আরেকজনের নানা কীর্তি। লাইভ শো তে অংশ নেওয়া চারজনই নিজেদের চোখে বাকিদের ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস কিংবা সেরা স্পেল বেছে নেন। নিচে একের চোখে অন্যের সেরা ইনিংস/স্পেল তুলে ধরা হল পাঠকদের জন্য-

 

মুশফিকের চোখে মাশরাফি-রিয়াদের সেরা ইনিংস/স্পেলঃ

‘মাশরাফি ভাইয়ের কেনিয়ার বিপক্ষে একটা স্পেল ৬ উইকেটের, ঐ ম্যাচ ম্যাশ আপনি আর রাজ (আব্দুর রাজ্জাক) ভাই জিতিয়েছেন। খুব বাজে পরিস্থিতি ছিল, আমার ক্যারিয়ারের একদম শুরুর দিকের ঘটনা এটি (২০০৬ সালে, মাশরাফির ফিগার ১০-০-২০-৬)। ওটা অনেক বিশেষ মুহূর্ত। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ঐ স্পেলটা অবশ্যই। আরেকটা যদি বলতে হয় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে যেটা আমরা ঢাকায় করলাম (২০১৬ সালে)। কারণ আমাদের রান খুব বেশি ছিলনা মাশরাফি ভাইয়ের দ্রুত ঐ তিনটা উইকেট নেওয়া খুব তাড়াতাড়ি জয়ের কাছে যেতে পেরেছি।’

‘রিয়াদ ভাইয়ের একটা ইনিংস বলা কঠিন। বিশ্বকাপে বাংলাদেশি হিসেবে প্রথম শতক (২০১৫ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে)। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ওটাও অনেক স্পেশাল আমি জানি রিয়াদ ভাইয়ের কাছে (২০১৭ বিপক্ষ নিউজিল্যান্ড)। ওটা আমি ছিলাম না (জুটিতে) তাই কাছ থেকে দেখা হয়নি। কিন্তু বিশ্বকাপে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে করা সেঞ্চুরিটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে উনার সাথে আমার ভালো একটা জুটি হয় (১৪১ রানের)। আমি আসলে এ কারণে খুব খুশি।’

মাহমুদউল্লাহর চোখে মাশরাফি-মুশফিকের সেরা ইনিংস/স্পেলঃ

‘মাশরাফি ভাইয়ের একটা ইতোমধ্যে মুশফিক বলছে যেটা হল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। আরেকটা হল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১৫ বিশ্বকাপে আমরা যেটা জিতেছি। ওখানে উনি মাঝখানে এসে দুটো স্পেলে এসে পর পর দুটো গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়েছে। একটা অ্যালেক্স হেলস আরেকটা জো রুটের।’

‘মুশির (মুশফিকুর রহিম) অনেকগুলো অসাধারণ ইনিংস আছে। কিন্তু এশিয়া কাপের (২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে) সেই ১৪৪ রানের ইনিংসটি কারণ আমি দেখছিলাম যেখানে সে নেটে ঘন্টার পর ঘন্টা ব্যাটিং করে সেখানে আগেরদিন সে ব্যাটই করতে পারেনি নেটে, ব্যথায় কাতরাচ্ছিল এতগুলো পেইন কিলার খেয়েছে অবিশ্বাস্য। আলহামদুলিল্লাহ অন্যরকম ইনিংস ছিল সেটি।’

তামিমের চোখে মাশরাফি-রিয়াদ-মুশফিকদের সেরা ইনিংস/স্পেলঃ

‘মাশরাফি ভাইয়ের ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ঐ স্পেলটা (৩৮ রানে ৪ উইকেট)। কারণ আমরা অনেক ছোট ছিলাম, বিশেষ করে আমি খেলার মধ্যে ছিলাম না। আমি আসলে ব্যস্ত টেন্ডুলকার, গাঙ্গুলি, দ্রাবিড় এদের দেখতে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে একজন প্রতিনিধিত্ব করতেছিল অনেকটা রাজার মত সেটার অবস্থা টের পাচ্ছিলাম আপনার বোলিং দেখে। মনে হচ্ছিল আপনি এখানে আসছেনই জেতার জন্য। যেটা আমার, মুশফিকের মধ্যে ছিলনা কারণ আমরা ছোট ছিলাম। বোলিং নিয়েতো বলার কিছু নেই। অন্যতম সেরা স্পেল, দেখার মত।’

‘মুশফিকের এশিয়া কাপের ১৪৪ রানের ইনিংসটি (২০১৮ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে), আমার মনে হয়না এরকম ইনিংস তুই এখন পর্যন্ত খেলছিস, অবিশ্বাস্য। যখন ক্যারিয়ার শেষ হবে তখন হয়তো আরও দুই-তিনটা থাকতে পারে।’

‘রিয়াদ ভাইয়ের অনেকগুল ইনিংস আছে নিঃসন্দেহে। তবে চাপের মুখে নিদাহাস ট্রফিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এ ইনিংসটা খেলছেন আপনি (১৮ বলে ৪৩)। আমার কাছে মনে হয় স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের এ কাজটা করতে খুব কম দেখা গেছে। একা হাতে আপনি ম্যাচটা বের করে আনলেন, একটা নো হল, খেলা বন্ধ হয়ে গেল ওখান থেকে ম্যাচটা জিতিয়ে দিলেন।’

মাশরাফির চোখে রিয়াদ-মুশফিক-তামিমের সেরা ইনিংসঃ

‘রিয়াদের অনেকগুলো ইনিংসই আছে। তোরা নিদাহাস ট্রফির ইনিংসটার কথা বলছিস এগুলো আছে। তবে বাংলাদেশ যে জিততে পারে, জিতবে বা এ ধরণের মঞ্চে গিয়ে আমরা পারফর্ম করবো সেটা যদি বলিস তাহলে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরিটি। যেটা দিয়ে রিয়াদ নিজেকে চিনতে পেরেছে, বাংলাদেশ নিজেকে দাঁড় করাতে পেরেছে যে আমরা চাপের মুখেও অনেক কিছু করতে পারি। তো রিয়াদের এই ইনিংসটি আমার কাছে সবচেয়ে আলাদা।’

‘মুশফিকের কথা বললে ওর অনেকগুলো সেঞ্চুরি আছে যেভাবে ফর্মে আছে আল্লাহ চাইলে সে আরও অনেকগুলো সেঞ্চুরি করবে ইন শা আল্লাহ। কিন্তু আমার পয়েন্ট হল ১৬ রানে তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ঐ ৯৯ রানের ইনিংস এশিয়া কাপে (২০১৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে)। এটা আমার জন্য অনেক স্পেশাল ছিল। কারণ ঐ সময় আমাদের তুই (তামিম) ছিলি না, সাকিব ছিল না। ও গরমের মধ্যে সেরা বোলারদের বিপক্ষে সে যেভাবে ইনিংসটা খেলছে। শুধু টিকে ছিল তা না, রানের চাকাও সচল রেখেছিল।’

‘আর তোরও (তামিম) অনেকগুলো ইনিংস আছে। কিন্তু একটা সময় তুই হারিয়ে যাচ্ছিলি মানে তুই নিজেও সন্দেহে পড়ে গেলি, লর্ডসে সেঞ্চুরি বা এরকম অনেক কিছু করার পরেও। আসলে তুই না আমরা সবাই মিলেই তোকে সন্দিহান করে তুলি, ২০১৫ বিশ্বকাপের পর একটা নির্দিষ্ট ইনিংস বলবনা পাকিস্তানের বিপক্ষে যে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি করলি ওটা শুধু আমার কাছে না ঐসব মানুষদের জন্যও সিরিয়াস ম্যাসেজ ছিল যে তোমরা ভুল।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

অনেক প্রশ্নের উত্তর নেই সাকিবের কাছে

Read Next

ব্রেসলেট নিলামে পাওয়া অর্থ যেভাবে খরচ করছেন মাশরাফি

Total
12
Share