প্রতি ঘন্টায় ১৪৮ কিলোমিটার গতিতে বল করেছিলেন মাশরাফি

মাশরাফি বিন মর্তুজা টেস্ট
Vinkmag ad

বাংলাদেশের মত কন্ডিশনে গতির ঝড় তোলার স্বপ্ন দেখিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। দেশের ক্রিকেটে প্রথম গতি তারকা, এখনো পর্যন্ত দেশসেরা পেসার সদ্য বিদায়ী টাইগার অধিনায়ক। যেভাবে শুরু করেছেন চোটে জর্জরিত না হলে এতদিনে থাকতে পারতেন বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসারদের তালিকার উপরের দিকে। কৈশোর বয়সেই গতির ছোবলে ভয় ধরিয়ে দিয়েছেন বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানদের মনেও। সময়ের পালা বদলে চোটের কারণে গতির সাথে আপোষ করতে হয়েছে ‘নড়াইল এক্সপ্রেসকে’।

তামিম ইকবালের লাইভ আড্ডার শেষ পর্বে গতকাল (২৩ মে) অতিথি হিসেবে ছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিম। আড্ডার এক পর্যায়ে মাশরাফির সবচেয়ে জোরে বল করা নির্দিষ্ট কোন স্পেল নিয়ে জানতে চান অনুষ্ঠান সঞ্চালক ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

তামিমের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে মাশরাফি ফিরে যান তার সোনালী অতীতে যেখানে কলার উঁচিয়ে বল হাতে দৌড়াতেন টাইগারদের সর্বোচ্চ গতিতে বল করা একজন হয়ে।

২০০১ সালে নিউজিল্যান্ডের সেডন পার্কে নিজের তৃতীয় টেস্টেই করা একটি স্পেলের কথা মনে করিয়ে দেন বাংলাদেশের অন্যতম সফল অধিনায়ক। তার নিজের চোখে ঐ স্পেলেই ক্যারিয়ারের সবচেয়ে জোরে বল করেছিলেন।

মাশরাফির স্মৃতিচারণে, ‘নিউজিল্যান্ডের ক্রিস কেয়ার্নস, অ্যাডাম প্যারোরে ও ক্রেইগ ম্যাকমিলানকে (উইকেট নিয়েছেন ম্যাকমিলান, ফ্লেমিং ও ভিনসেন্টের) করা ২০০১ সালের ঐ স্পেলটা। ১৪০ এর উপর সবসময়ই ছিল (গতি)। বলতো প্রত্যেকটা সমান থাকেনা, ১৪৫, ১৪৬ আমার ঐদিন সর্বোচ্চ ১৪৭ বা ১৪৮ এর মত উঠেছিল। তবে পুরো স্পেলটা ১৪০ থেকে ১৪৭/১৪৮ কিমি এর মধ্যেই ছিল। ৭-৮ ওভারের একটা স্পেল ছিল চা বিরতির পর। ওই স্পেলটা আমার কাছে মনে হয় সবচেয়ে জোরে বল করেছি।’

মাশরাফির জোরে বল করা প্রসঙ্গ উঠতেই মুশফিকুর রহিম ফিরে যান তার বিকেএসপির সময়টায় যেখানে নড়াইল এক্সপ্রেসকে সবচেয়ে জোরে বল করতে প্রথম কাছ থেকে দেখেন,

‘মাশরাফি ভাইয়ের একটা ঘটনা বলি। একবার ওনাদের অনূর্ধ্ব-১৭ একটা সিরিজ ছিল এশিয়া কাপ বা এরকম কিছু। তো উনারা বিকেএসপিতে এসেছিল একটা অনুশীলন ম্যাচ খেলতে। আমরা তখন বল বয় ছিলাম, বাউন্ডারি লাইনে বল আসতো। তো তখন আরকি আমি প্রথম দেখছি মাশরাফির ভাইয়ের সবচেয়ে জোরে বল, অবিশ্বাস্য ছিল। ওনার তখন রান আপও ছিল বেশ বড়, জোরে জোরে বল করতো । ঐ ম্যাচে আবার ফিফটিও করেছে উনি। একটা বল আমি ধরেছিও। কি আনন্দ হচ্ছিল যে মাশরাফি ভাইয়ের একটা বল আমি ধরেছি।’

মুশফিকের এমন মুহূর্তের গল্পের পরই টাইগারদের সফল অধিনায়ক অনেকটা আফসোসের সুরেই চোটজর্জরিত ক্যারিয়ার নিয়ে বলেন, ‘আনলাকি, ফিট থাকতে পারিনি।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

দানের ক্ষেত্রেও মাহমুদউল্লাহ ‘সাইলেন্ট’

Read Next

অনেক প্রশ্নের উত্তর নেই সাকিবের কাছে

Total
99
Share