সাকিবিয়ান-তামিমিয়ানদের প্রতি তামিমদের বার্তা

মাশরাফি সাকিব তামিম মুশফিক মাহমুদউল্লাহ
Vinkmag ad

যেকোন খেলাধুলাতেই দর্শক/ সমর্থক একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের আজকের অবস্থানের পেছনেও দ্বাদশ ব্যক্তি হিসেবে বহুবার লড়ে গেছেন দর্শকরা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম্যের বদলৌতে নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের ফ্যানভিত্তিক নানা গ্রুপের কারণে ভক্ত-সমর্থকের মধ্যে তৈরি হচ্ছে দূরত্ব।

এক তারকার ভক্ত অন্য তারকার ভক্তের সাথে জড়িয়ে যাচ্ছেন বিবাদে। মাঠে খেলতে ১১ জন ক্রিকেটার ভাই, বন্ধু হিসেবে নামলেও তাদের সমর্থকদের এমন আচরণ মোটেই পছন্দ নয় ক্রিকেটারদের।

তামিম ইকবালের নিয়মিত লাইভ শো এর শেষ পর্বে গতকাল (২৩ মে) দেশের ক্রিকেটের অন্যতম চার স্তম্ভ তামিম ইকবাল, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কথা বলেন ভক্তদের কাদা ছোড়াছুঁড়ি নিয়েও।

অসাধারণ মজার আড্ডার শেষ দিকে অনুষ্ঠান সঞ্চালক টাইগারদের নয়া ওয়ানডে কাপ্তান তুলে আনেন প্রসঙ্গটি। ভক্তদের বিবাদের বিষয়টি তুলে ধরে তামিম বাকিদের কাছে এ নিয়ে মতামতও জানতে চান। মাশরাফি, মুশফিক, রিয়াদ তিনজনই জানিয়েছেন এমন কিছু আশা করেন না ভক্তদের কাছ থেকে।

তামিম বলেন, ‘একটা জিনিস দেখবেন প্রত্যেকটা ক্রিকেটারের দেখি তামিমিয়ান, মাশরাফিয়ান, মুশফিকিয়ান, সাকিবিয়ান গ্রুপ আছে। সবারই পছন্দের ক্রিকেটার থাকবে এটা স্বাভাবিক। ইদানিং আমার কাছে মনে হয় কি এই গ্রুপের কারণে একজন আরেকজনকে আক্রমণ করতে থাকে। একজন একজনকে আক্রমণ করা কতটা ঠিক আমি জানিনা তবে আমি অনুরোধ করবো এই আক্রমণ টা যেন না করে।’

‘গ্রুপ থাকবে ভালো কথা। আমরা সবাই বাংলাদেশ টিমের জন্য খেলি, বন্ধু, ভাই। আপনারা এরকম বন্ধু, ভাই হয়ে থাকেন। তামিমের সাপোর্টার মুশফিকরে গালি দিবে, মুশফিকের সাপোর্টার আমাকে গালি দিবে এটা আপনারা কইরেন না। এটা নিয়ে আপনাদের মন্তব্য কি?’

মাশরাফি বিন মর্তুজাঃ

‘আমাদের ক্ষতি কিন্তু আমরাই করতে পারি। আমাদের ক্ষতি কিন্তু বাইরের কেউ এসে করবেনা। এটা কিন্তু আসলেই বড় ক্ষতি। ধর আজকে আমাকে যে পছন্দ করে তোকে গালি দিচ্ছে, মুশফিককে যে পছন্দ করে দেখা গেল আমাকে গালি দিচ্ছে। আল্টিমেটলি আমরা কার জন্য খেলি? আপনাদের জন্য খেলি, বাংলাদেশের জন্য খেলি। গালি যদি দেন আমাদের সবাইকে এক সাথেই দেন। সমালোচনা করবেন এটা থাকবেই। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে গালি দেওয়া, মুশফিক ভালো খেলছে বলে বাকি ১০ জনের সমালোচনা করলেন…। এই যে সাকিবিয়ান, মাশরাফিয়ান, তামিমিয়ান এসব থাকতে পারে। একজন কোচও দেখায় ১০ জন প্লেয়ারকেই সে পছন্দ করে কিন্তু ২ জন তার স্পেশাল থাকেই যাদেরকে সে অন্যভাবে ট্রিট করে।’

‘সুতরাং প্রত্যেকটা সাপোর্টারের কিন্তু আলাদা প্লেয়ার থাকে যাকে সে প্রিয় ভাবে। এর মানে এই না যে প্রকাশ্যে এসে এগুলো দেখাতে হবে। কারণ আল্টিমেটলি আর ১১ জন বা ১৫ জনও কিন্তু বাংলাদেশের জন্য খেলছে, আপনার জন্যই খেলছে। হ্যা আপনার ফ্যান বেজ থাকুক যার যার ফ্যান বেজ থাকুক। কিন্তু অসম্মান করা বা টেনে নিয়ে আসা এই জিনিসগুলো না করি। এগুলো খুবই দৃষ্টিকটু। আমি আশা করবো ক্রিকেট একটা ভদ্র লোকের খেলা, ক্রিকেট ভদ্রদের জন্যই। এর দর্শকরাও ভদ্র হয়, যদি বহির্বিশ্বে দেখি। আমি নিশ্চিত আমাদের দর্শকরাও আমাদের সাথে ছিল এতটুক জিনিস যদি কাভার করতে পারি অনেক মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবো ইন শা আল্লাহ।’

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদঃ

‘আমি ব্যক্তিগতভাবে বলি কাদা ছোড়াছুঁড়ি করে কোন লাভ হয়না বরং কাদা নিজের গায়েই লাগে। আলহামদুলিল্লাহ বাংলাদেশ দলের জন্য খেলছি, অন্য যারা আছে তারাও। সবারই পছন্দ অপছন্দ থাকতে পারে। তার মানে এই না যে আমি অন্য আরেকজনকে অপছন্দ করবো। একটা জিনিস মনে রাখতে হবে ভালোর কোন বিকল্প নাই। আপনি যদি ভালো কাজ করেন আপনি ফল ভালোই পাবেন। কাউকে সম্মান করলে আপনিও সম্মান পাবেন, অসম্মান না। এ জিনিসটা খেয়াল রাখবেন।’

মুশফিকুর রহিমঃ

‘বাংলাদেশ দলকে প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে আমরা কখনো সফল হই কখনো হইনা এর মানে এই নয় যে একজনের কারণে দল হেরে যাবে বা একজনের কারণে দল জিতে যাবে। আমার মনে হয় এখানে সবাই সমান। এখানে শুধু দর্শক না, গণমাধ্যমও একটা অংশ, আমরা জিতলেও একসাথে জিতি হারলেও একসাথে হারি। আমার মনে হয় সম্মানটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ এটা দেওয়া উচিৎ। রিয়াদ ভাই যেটা বলল কাদা ছোড়াছুঁড়ি করে লাভ নাই। আমি কখনোই আশা করিনা আমার ফ্যান হোন আর যাই হোন মাশরাফি ভাই, রিয়াদ ভাই, তামিম, সাকিব বা অন্য কারও ব্যাপারে খারাপ বলবেন। এটা খেয়াল রাখা উচিৎ।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ফিজিওর যে ভুলে ২০১১ বিশ্বকাপ খেলা হয়নি মাশরাফির

Read Next

কোভিড-১৯ টেস্টে পজিটিভ তৌফিক ওমর

Total
17
Share