‘বাংলাদেশ নিয়ে ভাবলেই সামনে বাঁহাতি স্পিনার ভেসে উঠে’

কেভিন পিটারসেন
Vinkmag ad

করোনাকালে গৃহবন্দী সময়টাকে উপভোগ্য করতে ক্রিকেটাররা মেতেছেন লাইভ আড্ডায়। যেসব আড্ডায় উঠে আসছে ক্যারিয়ারে তাদের নানা মজার মুহূর্ত, রোমন্থন হচ্ছে পুরোনো স্মৃতি কিংবা ভাগাভাগি করছেন নিজেদের অভিজ্ঞতা। সম্প্রতি সাবেক জিম্বাবুইয়ান পেসার ও বর্তমান ধারাভাষ্যকার পমি মাঙ্গুয়ার সাথে ইনস্টাগ্রাম আড্ডায় ইংলিশ তারকা ক্রিকেটার কেভিন পিটারসেন তুলে ধরেছেন উপমহাদেশে তার ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা।

পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, আবুধাবি, বাংলাদেশে খেলার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে সাবেক ইংলিশ তারকা ব্যাটসম্যান জানিয়েছে এখানকার মানুষের ক্রিকেট প্রেম ও আতিথেয়তায় মুগ্ধ হওয়ার কথা। পাকিস্তানে টেস্ট খেলতে গিয়ে শোয়েব আখতারের অগ্নিঝরা বোলিং, শ্রীলঙ্কার প্রখর গরম, আবুধাবির শূন্য গ্যালারিতে খেলার অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন পিটারসেন। আর বাংলাদেশ মানেই তার কাছে বাঁহাতি স্পিনার বলেও জানান।

২০০৫ সালে পাকিস্তান সফরে গিয়ে শোয়েব আখতারের গতি সামলাতে টালমাটাল হতে হয় ইংলিশদের। কেভিন পিটারসনের ভাষায়, ‘২০০৫ সালে পাকিস্তান সফর যেখানে শোয়েব আখতার ভয়াবহ গতিতে বল করেছে। আমরা দুই সপ্তাহ আগে অস্ট্রেলিয়া ভালো একটা সিরিজ খেলে যাই। বিশ্ব একাদশ ও অস্ট্রেলিয়া মধ্যকার সিরিজে টেস্ট স্কোয়াডে ছিল গ্রায়েম স্মিথ, ব্রায়ান লারা, অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ, জ্যাক ক্যালিস। আমি ভাবছিলাম মেলবোর্নের ড্রেসিং রুমে যদি তাদের সাথে টেস্ট দলের সদস্য হিসেবে থাকতে পারতাম। ওয়ানডে সিরিজের জন্য অবশ্য ছিলাম।’

‘মজার একটা ঘটনা হল হাঁটুর চোটে শোয়েব খুব জোরে বল করতে পারছিলনা। ফ্লিনটফ তাকে বলল টারজানের মত তাকিয়ে জেনের মত বোলিংয়ের কোন মানে নেই। শোয়েব এটায় খুব আঘাত পেয়েছে। কিন্তু এর পর আমাদের সাথে টেস্ট সিরিজে যে গতিতে সে বল করেছে অবিশ্বাস্য। পুরো পাগলাটে বোলিং ছিল তার। ওখানকার মানুষের জন্যও ক্রিকেটটা উপভোগ্য পাকিস্তানে। যদিও লম্বা সময় তারা ম্যাচ আয়োজন করতে পারেনি গত কিছুদিন আবার সবকিছু ঠিক হচ্ছে, পিএসএল আয়োজন হয়েছে। এটা দেখতে অবশ্যই ভালো লাগছে অসাধারণ ক্রিকেট প্রেমী মানুষদের কথা চিন্তা করে। এটা তাদের প্রাপ্য।’

দর্শকশূন্য নিরপেক্ষ ভেন্যু দুবাইয়ের বর্ণনায় ইংলিশ ব্যাটসম্যান যোগ করেন, ‘দুবাই অনেকটা ম্যাড়ম্যাড়ে, কোন দর্শক নেই, কেউ খেলা দেখেনা ওখানে।’

গরমের জন্য শ্রীলঙ্কাতে খেলা কঠিন ছিল উল্লেখ করে ৩৯ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান বলেন, ‘শ্রীলঙ্কা খুব কঠিন জায়গা খেলার জন্য কারণ ওখানকার ভয়াবহ গরম। যদিও এসবকে অজুহাত হিসেবে দেখানোর উপায় নেই। আমার দারুণ একটি সেঞ্চুরিও আছে সেখানে (২০১২ সালে), লোকে আমার ঐ সেঞ্চুরি নিয়ে আলোচনাও করে। শীতের মাঝামাঝি সময়েও আমি খুব সমস্যায় ভুগেছি গরমে। আমার শরীর বেয়ে ঘাম ঝরছিল অনবরত। সবকিছু ছাপিয়ে উপমহাদেশের অসাধারণ ক্রিকেট ভক্তরা আপনাকে মুগ্ধ করবেই, তাদের আতিথেয়তাও চমৎকার।’

আর বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বাঁহাতি স্পিনার ছাড়া কিছু ভাবতেই পারছিলেন না ইংল্যান্ডের হয়ে একশোর বেশি টেস্ট খেলা পিটারসেন, ‘বাংলাদেশ আরেকটা জায়গা যেখানে খেলা সত্যিকার অর্থেই কঠিন। তাদের বাঁহাতি স্পিনারদের খেলা আমার জন্য বেশ কঠিন। তাদের প্রত্যেক বোলারই যেন বাঁহাতি স্পিনে পাকা। ওখানকার বিমানে উঠেও মনে হয় তারাও যেন বাঁহাতি স্পিন বোলিং চর্চা করছে। বাংলাদেশ নিয়ে ভাবতে গেলেই আমার সামনে বাঁহাতি স্পিনার ভেসে উঠে (হাসি)।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

সাকিব-মুশফিকদের স্মারক ফেরত আনার উদ্যোগ নেবে বিসিবি

Read Next

কোহলির মতো স্লেজিং তাঁতিয়ে দেয় মুশফিককেও

Total
6
Share