১৯৯৭ তে সবচেয়ে বড় উপহার পেয়েছিলেন পাইলট

আকরাম খান ১৯৯৭ আইসিসি ট্রফি খালেদ মাসুদ পাইলট
Vinkmag ad

১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের মোড় ঘুরিয়ে দেয় বেশ ভালোভাবে। বাংলাদেশের ক্রিকেট উত্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাঁক বলা হয় কুয়ালালামপুরে কেনিয়াকে হারিয়ে ট্রফি জেতা ম্যাচটিকে। শেষ ওভারের ১১ রানের সে সময়ের কঠিন সমীকরণটা প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে সহজ করেন খালেদ মাসুদ পাইলট। ওভার শুরুর আগে জীবনের সবকিছু কেড়ে নিয়ে হলেও ম্যাচটা জেতানোর প্রার্থনা করেছেন সৃষ্টিকর্তার কাছে। সেবার শিরোপা জিতে দেশে ফিরে অবশ্য পেয়েছিলেন বড় এক উপহারই।

আইসিসি ট্রফি খেলতে যাওয়ার আগেই বিয়ে করে যান উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান খালেদ মাসুদ পাইলট। কিন্তু তার শশুর খুব একটা পছন্দ করতেননা তাকে। আইসিসি ট্রফি জিতে দেশে ফেরার পর সেই শশুরই নিজে থেকে পাইলটকে সাদরে গ্রহণ করেন, গলায় পরিয়ে দেন সোনার চেইনও।

তামিম ইকবালের নিয়মিত লাইভ আড্ডায় গতকাল (১৯ মে) অতিথি হিসেবে ছিলেন আইসিসি ট্রফি জয়ী দলের সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক তারকা ক্রিকেটার মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, আকরাম খান ও খালেদ মাসুদ পাইলট।

১৯৯৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালের শেষ ওভার নিয়ে বলতে গিয়ে খালেদ মাসুদ পাইলট জানান, ‘ক্রিকেটাররা অনেক কিছু বিসর্জন দেয়। এইটা কিন্তু অনেকেই বোঝেনা। ঐদিন বাইরে থেকে অনেকেই অনেক কিছু বলতেছে, তবে আমার কিন্তু আসলে মাঠের ভিতরে মনোযোগ ছিল।’

জিততে হলে প্রয়োজন ৬ বলে ১১, হাতে দুই উইকেট। স্ট্রাইকে থাকা খালেদ মাসুদ পাইলট মার্টিন সুজির করা প্রথম বলেই হাঁকান ছক্কা। ওভার শুরুর আগে নিজের ভাবনা সম্পর্কে পাইলট যোগ করেন,

‘সবকিছু দেখলেও আমার মনের ভিতর শুধু একটাই কথা চলছিল যে, জিততে হবে। যেভাবেই হোক জিততে হবে। তখন আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করলাম। বললাম, আল্লাহ যেভাবেই হোক এই ম্যাচটা জিতিয়ে দাও। যা কিছু লাগে, আমার জীবনের সবথেকে প্রিয় জিনিসটা তুমি নিয়ে নাও, কিন্তু তার বিনিময়ে ম্যাচটা জিতিয়ে দাও।’

ট্রফি জিতে দেশে ফিরে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা এই উইকেট রক্ষক পেয়েছেন অনেক বড় কিছুই। তাকে সহ্য করতে না পারা শশুর বুকে টেনে উল্লেখ করে ট্রফি জয়ী দলের অধিনায়ক আকরাম খান বলেন, ‘পাইলট যেটা বলল যে, আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিল। শেষ ওভারে যেন ১১ রান করতে পারে, তার বিনিময়ে আল্লাহ তার সেরা জিনিসটা নিয়ে যাক। আল্লাহ আইসিসি ট্রফির পর সব থেকে ভালো জিনিসটা তো নেয়নি, সবথেকে ভালো জিনিসটা ওকে দিয়ে দিয়েছে।’

‘পাইলট যখন আইসিসি ট্রফি খেলতে যায়, তার আগে সে বিয়ে করে যায়। কিন্তু ওর শ্বশুর ওকে সহ্য করতে পারতো না। যখন আমরা জিতে দেশে ফিরলাম, দেখলাম ওর শ্বশুরের মাথায় রঙ, দাড়িতে রঙ। ওকে জড়িয়ে ধরে ওর গলায় স্বর্ণের চেইন পরিয়ে দিল। এই জিনিসটা আমি জীবনে ভুলতে পারবো না।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

শ্রীলঙ্কা সফরে যাবার প্রশ্নে পাপনের উত্তর

Read Next

২৩ ফেডারেশনের জন্য বিসিবির ৫০১ টি চেক

Total
30
Share