ঢাকা লিগে নাম লেখানোর গল্প শোনালেন ওয়াসিম আকরাম

ওয়াসিম আকরাম

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম জমজমাট আসর ঢাকা লিগে একসময় খেলতেন বিশ্বের নামি দামি তারকারা। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনীর হয়ে খেলতে আসেন তখনই বিশ্ব তারকা হিসেবে সুনাম কুড়িয়ে ফেলা পাকিস্তানি পেসার ওয়াসিম আকরাম। ঢাকার ক্রিকেটে তার নাম লেখানোর পেছনের গল্প শুনিয়েছেন নিজেই।

করোনাকালে ভক্তদের সময়টা উপভোগ্য করতে নিয়মিত ফেসবুক লাইভ আড্ডায় মেতেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল। গতকাল (১৯ মে) তার আড্ডায় অতিথি হিসেবে ছিলেন সাবেক ক্রিকেটার আকরাম খান, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু ও খালেদ মাসুদ পাইলট। বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন কিং অব সুইং খ্যাত পাকিস্তানি কিংবদন্তী পেসার ওয়াসিম আকরাম।

১৯৯৫ মৌসুমে ওয়াসিম আবাহনীর হয়ে খেলেছেন আকরাম খান, খালেদ মাসুদ পাইলট ও মিনহাজুল আবেদিন নান্নুদের সাথে। তার সাথে নিয়মিত একাদশেও থাকতেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাবেক এই তিন তারকা ক্রিকেটার। আড্ডার এক পর্যায়ে তামিম জানতে চান ওই সময়েই তারকা বনে যাওয়া ওয়াসিম আকরাম ঠিক কীভাবে বাংলাদেশের ঘরোয়া লিগ খেলতে এসেছেন?

জবাবে পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ওয়াসিম আকরাম বলেন, ‘প্রথমত আমি দেখতে চেয়েছি বাংলাদেশে ক্রিকেট কতটা আগ্রহের জায়গা। বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা সেখানে আর্থিক বিষয়টা সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। আমার মনে আছে কামাল ভাই (আ হ ম মুস্তফা কামাল) আমার অনেক ভালো বন্ধু এবং তোমার পরিবারেরও। সে আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল আমি যেন আকাশী নীল জার্সিতে যোগ দিই। আমি বলেছিলাম আমার সময় নেই। সে বলেছিল তোমাকে আসতেই হবে।’

‘ঐ সময় আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচের যে উন্মাদনা ছিল পাকিস্তানে কোন ক্লাবে ছিলনা ফুটবল, ক্রিকেট, হকি যাই হোক। আমি আমার প্রথম ম্যাচ খেলেছি আকরামের সাথে, এখানকার তিনজনের সাথেই খেলেছি (আকরাম, নান্নু ও পাইলট)। প্রথম ম্যাচেই যে দর্শক দেখেছি তা অন্যরকম বলতে হবে।’

ক্রিকেটের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা অভিভূত করেছে ৫৩ বছর বয়সী এই কিংবদন্তী পেসারকে, ‘ক্রিকেটের প্রতি এখানকার মানুষের আগ্রহ আমি অন্যদের কাছে শুনেছি যারা আগে খেলে গিয়েছিল। আমি নিজে দেখে অভিভূত হয়েছি। আমি এখানকার সমকিছুই মিস করি, মানুষজন, খাবার সবকিছুই। তোমাদের মাছের ঝোলটা বেশ দারুণ।’

উল্লেখ্য, ঢাকা লিগে নিজের প্রথম হাই ভোল্টেজ ম্যাচে মোহামেডানের বিপক্ষে ওয়াসিম আকরাম শিকার করেন ৯ ওভারে ৪০ রান দিয়ে ৩ উইকেট। আগে ব্যাট করা আবাহনী মিনহাজুল আবেদিনের ফিফটি ও আকরাম খানের ৩৮ রানে ভর করে ১৮৫ রান তোলে। জবাবে ওয়াসিম আকরাম ও মিনহাজুল আবেদিনের তিনটি করে উইকেট শিকারের পরও ২ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্য পৌঁছে যায় আরেক ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহামেডান।

নিজের খেলা শেষ ম্যাচের স্মৃতিচারণও করেন তিনি। বলেন, ‘আমি সে ম্যাচে একটা নো বল করেছিলাম। সবাই উইকেট পাবার আনন্দ করছিল, কিন্তু বলটা নো বল ছিল (হাসি)।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

তামিমের পরবর্তী শো তে সারপ্রাইজ, সময়ে আসছে পরিবর্তন

Read Next

তামিমের লাইভ শো’র অতিথি এবার উইলিয়ামসন

Total
80
Share