সেদিনের এই দিনে: ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম জয়

মোহাম্মদ রফিক খালেদ মাহমুদ সুজন
Vinkmag ad

বাংলাদেশ এখন ক্রিকেট বিশ্বে বড় এক নাম। ১৯৮৬ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা বাংলাদেশ ৩৪ বছরে বহু জয় দেখেছে। ১৯৯৭ সালে ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাবার পর টাইগাররা প্রথম ওয়ানডে তথা আন্তর্জাতিক ম্যাচে জয় পায় ১৯৯৮ সালে।

১৯৯৮ সালের ১৭ মে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ঐতিহাসিক এক দিন। হায়দ্রাবাদের লাল বাহাদুর শাস্ত্রী স্টেডিয়ামে কেনিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। মোহাম্মদ রফিকের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে সহজেই জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা।

টসে জিতে সেদিন আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কেনিয়ার অধিনায়ক আসিফ করিম। কেনিয়ার শুরুটা ভালো হয়নি। চতুর্থ ওভারের শেষ বলে ওপেনার কেনেডি ওটিয়েনোকে হাসিবুল হোসেন শান্তর ক্যাচ বানিয়ে ফেরান মোর্শেদ আলি খান। কেনিয়ার কিংবদন্তি ক্রিকেটার স্টিভ টিকোলো তিনে নেমে সুবিধা করে উঠতে পারেননি সেদিন। ১৯ বলে ৩ চারে ১৩ রান করা টিকোলোকে বোল্ড করে সাজঘরে ফিরিয়েছিলেন খালেদ মাহমুদ সুজন।

চারে নামা মরিস ওদুম্বেকে নিয়ে ওপেনার দীপক চুদাসামা কেনিয়াকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন। তবে ব্যক্তিগত ৩৬ রানের মাথায় রান আউটে কাটা পড়েন চুদাসামা, ৬ বল বাদে এনামুল হক মনির শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন ২০ রান করা ওদুম্বে।

৮৯ রানেই কেনিয়ার ৪ উইকেট ফেলে দিলেও ৫ম উইকেটের জন্য লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হয় টাইগারদের। ৪০ রান করা হিতেশ মোদিকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন এনামুল। মোদি ফিফটি হাতছাড়া করলেও ফিফটি করেই তবে আউট হন রবি শাহ। ৬৪ বলে ৫২ রান করা রবি শাহকে বোল্ড করেন খালেদ মাহমুদ সুজন।

এরপর আলোচনায় আসেন মোহাম্মদ রফিক। একে একে সাজঘরে ফেরান টমাস ওদোয়ো (১৮), টনি সুজি (২২) ও আসিফ করিমকে (৫)। ৪৯ তম ওভারের শেষ বলে মার্টিন সুজি (৩) রান আউট হলে ২৩৬ রানেই শেষ হয় কেনিয়ার ইনিংস।

২৩৭ রানের জয়ের লক্ষ্য খুব একটা কঠিন ছিল না। তবে ফ্লাড লাইটের আলোতে ব্যাটিং করার খুব বেশি অভিজ্ঞতা না থাকাটা ছিল চিন্তার কারণ। হায়দ্রাবাদের প্রচন্ড গরমে ব্যাটসম্যানদের চ্যালেঞ্জ তাই কম ছিল না।

ওপেনারের ভূমিকায় রফিক

কোচ গর্ডন গ্রিনিজ এমন দিনেই মোহাম্মদ রফিককে ওপেন করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি ফাইনালে ওপেন করা রফিক ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নেমেছিলেন আতহার আলি খানের সঙ্গে।

গর্ডন গ্রিনিজের সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করে আতহার-রফিক জুটি, ২৬ ওভার স্থায়ী জুটি থেকে আসে ১৩৭ রান। ৮৭ বলে ১১ চার ও ১ ছক্কায় ৭৭ রান করে আউট হন মোহাম্মদ রফিক, বাংলাদেশের জয়ের রাস্তা সোজা করে দিয়ে। তিনে নামা মিনহাজুল আবেদিন নান্নু ১৪ রানের বেশি করতে পারেননি। ফিফটির খুব কাছে যেয়ে হতাশ হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয়েছিল আতহার আলি খানকে। ৯১ বলে ৪ চারে ৪৭ রান করা আতহার কাটা পড়েন রান আউটে।

পাঁচে নামা অধিনায়ক আকরাম খান ৩৯ রান (৫১ বলে) এর কার্যকরী ইনিংস খেলে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দিয়েছিলেন। বাকি থাকা কাজটা নাইমুর রহমান দুর্জয়কে (৪*) সাথে নিয়ে শেষ করেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল (২০*)।

বল হাতে ৩ উইকেট, ব্যাট হাতে ৭৭ রান; বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে জয়ের নায়ক মোহাম্মদ রফিক কোন সন্দেহ ছাড়াই হয়েছিলেন ম্যাচসেরা।

ঐতিহাসিক সেই ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

কেনিয়া ২৩৬/১০ (৪৯), চুদাসামা ৩৬, ওটিয়েনো ৫, টিকোলো ১৩, ওদুম্বে ২০, মোদি ৪০, রবি ৫২, ওদোয়ো ১৮, সুজি ২২, আসিফ ৫, সুজি (মার্টিন) ৩, শেখ ১*; মোর্শেদ ৭-১-২৬-১, সুজন ৭-০-৩৮-২, এনামুল ১০-০-৪৫-২, রফিক ১০-০-৫৬-৩।

বাংলাদেশ ২৩৭/৪ (৪৮), আতহার ৪৭, রফিক ৭৭, নান্নু ১৪, বুলবুল ২০*, আকরাম ৩৯, দুর্জয় ৪*; ওদুম্বে ৯-০-৪২-১, শেখ ১০-০-৪২-২।

ফলাফলঃ বাংলাদেশ ৬ উইকেট ও ১২ বল হাতে রেখে জয়ী।

Shihab Ahsan Khan

Shihab Ahsan Khan, Editorial Writer- Cricket97

Read Previous

লিটন শোনালেন বদলে যাওয়ার গল্প

Read Next

চটেছেন হরভজন, আর কখনো সাহায্য করবেন না আফ্রিদিকে

Total
92
Share