নিজেকে শেষ করে দেবার চিন্তাও করেছিলেন আশরাফুল

মোহাম্মদ আশরাফুল
Vinkmag ad

বাংলাদেশের প্রথম পোস্টারবয় বলা হয় তাকে, দেশের বেশ কিছু প্রথম অর্জনের সাথে জড়িয়ে আছে তার নাম। একটা সময় মোহাম্মদ আশরাফুল নামেই যে বাংলাদেশের আশার পালে হাওয়া বাড়তো। কিন্তু ২০১৩ সালে বিপিএলে স্পট ফিক্সিং কান্ডে অভিযুক্ত হয়ে নিষেধাজ্ঞায় পড়েন আইসিসির। ৩ বছর পর ঘরোয়া লিগে ফিরতে পারলেও জাতীয় দলের জন্য বিবেচিত হওয়ার নিষেধাজ্ঞায় ছিলেন ২০১৮ সাল পর্যন্ত।

নিষেধাজ্ঞার প্রথম তিন বছর ঘরোয়া লিগেও খেলতে না পারা আশরাফুল হতাশ হয়ে পড়েন বেশ ভালোভাবে। হতাশা চূড়ান্ত রূপ নিয়ে নিজেকে শেষ করে দেবার কথাও ভেবেছিলেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক।

ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে চাননি বলে টেপ টেনিস খেলার ডাক আসলেও সাড়া দিয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান। আর টেপ টেনিস ক্রিকেটে তাকে ভালোবেসে খেলা দেখতে আসা দর্শকরাও ক্রিকেটে ফিরতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বলে জানান আশরাফুল।

গতকাল (১৪ মে) সাংবাদিক নোমান মোহাম্মদের ইউটিউব চ্যানেলে লাইভ সেশনে অংশ নিয়ে আশরাফুল নিজেকে শেষ করতে চাওয়ার প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাকে একজন বলছিলেন যে করোনায় আমরা যে এখন ঘরবন্দি। আপনার কাছে কেমন লাগছে? আমি বললাম, দেখেন আমার কাছে ততটা কঠিন মনে হচ্ছে না। কারণ, আমি এর থেকেও কঠিন সময় কাটিয়েছি আমার ওই নিষেধাজ্ঞার সময়ে। এমনও আমার মাথার মধ্যে এসেছিল, হয়তো আমি বেঁচে থাকবো কীনা, নিজেকে শেষ করবো কীনা। এই ধরনের চিন্তাও আমার মধ্যে এসেছিল।’

‘যেহেতু আমি তখন সুপারস্টার। আমি কীভাবে মানুষের কাছে মুখ দেখাব। আমার পরিবার কীভাবে থাকবে। আমি কিন্তু এটা নিয়ে খুব মানসিকভাবে চাপে ছিলাম। তারপর আল্লাহর রহমতে আমি হজ্ব করতে গেলাম ২০১৩ সালে। হজ্ব করার পর অনুধাবন করলাম। আমার দুলাভাই কিছু ইতিবাচক কথা বলেছিল। ক্রিকেট বোর্ডের সিইও সুজন ভাই (নিজাম উদ্দিন চৌধুরী) উনারা আমাকে প্রচুর সমর্থন করেছেন। বলতেন, তোমার এখন বাজে সময় যাচ্ছে। সময়ই তোমাকে সব বদলে দেবে। সুতরাং এই সময় তুমি ধৈর্য ধরো।’

নিষেধাজ্ঞার প্রথম তিন বছর আইসিসি স্বীকৃত কোন ম্যাচ খেলার সুযোগ না পেলেও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অস্বীকৃত টুর্নামেন্ট খেলতে পারতেন আশরাফুল। আমেরিকায় কিছু লিগের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে খেলেছেন ম্যাচ। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে তাকে ডাকা হত নিয়মিতই, খেলেছেন টেপ টেনিস ক্রিকেটেও।

নিষেধাজ্ঞার সময়টায় কীভাবে ক্রিকেটের সাথে ছিলেন জানাতে গিয়ে টাইগারদের সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘ঐ সময়টায় আমার প্রাইভেট খেলাগুলোর অনুমতি ছিল। আমি আমেরিকায় দুই বছর খেলেছি। একবার নিউ ইয়র্কে আরেকবার নিউ জার্সিতে। আর বাংলাদেশে সিলেট আমাকে ঐ তিনটা বছর অনেক সাহায্য করেছে। কারণ সিলেটে এত খেলা হয়। আর ঐ সময়টায় আমি সত্যি কথা বলতে টেপ টেনিস খেলতেও চলে যেতাম। অনেকে হয়তো বলবে আশরাফুল কি পাগল নাকি। আসলে আমি চেয়েছি মানুষ যাতে আমাকে একদম ভুলে না যায়।’

টেপ টেনিস ক্রিকেট দেখতে আসা ভক্তরাই তাকে ক্রিকেটে থাকতে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করেছে উল্লেখ করে আশরাফুল আরও যোগ করেন, ‘যেহেতু তিন বছর আমি তিন বছর খেলতে পারবোনা তাই টেপ টেনিসেও চলে যেতাম। টেপ টেনিসের ওসব খেলায়ও দেখা যেত ৫, ৭ বা ১০ হাজার লোক চলে আসতো খেলা দেখতে। আমিতো অবাক হয়ে যেতাম যে মানুষের ভালোবাসা এখনো আছে। মানুষের এই ভালোবাসা থেকেই আমি চিন্তা করলাম চেষ্টা করি। ছেড়ে দিলেইতো শেষ, ফিরে আসার কোন সুযোগ থাকবেনা।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

‘মনে হয়েছিল খেলাটা একদম মোয়া, নামবো আর একশ করবো’

Read Next

চড়া মূল্যে মুশফিকের ব্যাট কিনে নিলেন আফ্রিদি

Total
12
Share