ইটের রাস্তা দিয়ে বনশ্রী গিয়েছিলেন শচীন-হরভজনরা

হরভজন সিং শচীন টেন্ডুলকার মোহাম্মদ আশরাফুল
Vinkmag ad

বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলের সাথে ভারতীয় কিংবদন্তী ক্রিকেটার ব্যাটিং ঈশ্বর খ্যাত শচীন টেন্ডুলকারের নিবিড় সম্পর্কের কথা সবারই জানা। ২০০৯ সালে টেন্ডুলকারের চাওয়াতে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে আশরাফুলের আইপিএলও খেলা হয়। ২০১০ সালে বাংলাদেশ সফরে এসেতো আশরাফুলের বাসায়ও গিয়েছেন টেন্ডুলকার। সতীর্থ হরভজন সিংকে নিয়ে সাবেক টাইগার অধিনায়কের বাসায় খাওয়ার সময়ের একটি ছবিতো ইন্টারনেটে বেশ ভালোভাবেই ছড়িয়ে পড়ে।

করোনা প্রভাবে গৃহবন্দী সময় কাটাতে হচ্ছে ক্রিকেটারদের। মাঠে খেলা না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ আড্ডায় মেতে উঠেছেন বেশিরভাগ ক্রিকেটারই। সাংবাদিক নোমান মোহাম্মদের ইউটিউব চ্যানেল, ‘নোমান নট আউটে’ গতকাল (১৪ মে) অতিথি ছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রথম বৈশ্বিক নায়ক সেখানেই ভক্তদের জন্য তুলে ধরেন শচীন টেন্ডুলকারের তার বাসায় আসার আগে ও পরের কাহিনী।

আশরাফুলের বাসায় যেতে হরভজন, টেন্ডুলকারের আগ্রহঃ

‘২০০৯ এ মুম্বাইয়ে খেললাম তো এরপর ২০১০ এ বাংলাদেশে একটা সিরিজ ছিল ভারতের। ওয়ানডেতে শচীন ভাই খেলতে আসেনি, টেস্টে এসেছে। তো প্রথম টেস্টটা চট্টগ্রামে ছিল আমাদের। হরভজন ছিল, সে বলতেছে কি আশরাফুল আমাদেরকে তোমার বাসায় নিবানা? আমি বললাম নিবনা মানে? আমিতো অপেক্ষা করছিলাম টেন্ডুলকার কখন আসবে। টেন্ডুলকার, হরভজন আর মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের কম্পিউটার এনালিস্ট এই তিনজনের আসার কথা।’

‘আমি এখন রামপুরা বনশ্রীতে যে বাসাটায় আছি এ বাসাটাতেই এসেছিল। তখন আমাদের বাসাটা পুরোপুরি কমপ্লিট হয়নি। বাড়ির কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়াতে আমাদের গেটটা ছিল টিনের। রামপুরা ব্রিজ থেকে আমাদের বাসার যে রাস্তাটা সেটা ছিল ইটের রাস্তা।’

‘মজার ঘটনা হল যেদিন আমাকে বলছিলো (হরভজন) বাসায় নিবানা সেদিন ছিল বৃহস্পতিবার। আমরা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছি, প্লেন থেকে নেমে সোনারগাঁও হোটেলে চলে যাই। তারপর বলল তোমার বাসায় যেতে কতক্ষণ লাগে? আমি বললাম শুক্রবার গেলে ১৫ মিনিট অন্যদিন গেলে এক ঘন্টা। তাহলে কালকে যেহেতু শুক্রবার কালকেই যাবো। আমি বললাম আচ্ছা ঠিক আছে।’

‘এরপর আমি আমার আব্বা ও ভাইয়াকে ফোন করে জানালাম উনারা আসবে তো আয়োজন করেন। ঐ শুক্রবারে আবার ভারতীয় হাইকমিশনে ভারতীয় দলের একটা অনুষ্ঠান ছিল রাতের বেলা। তো টেন্ডুলকার আর হরভজন বলছে যে তোমরা আমাদেরকে ওখান থেকে নিয়ে আইসো। সুজন ভাই (খালেদ মাহমুদ), জাভেদ ভাই (জাভেদ ওমর বেলিম), সাকিব ও তামিম ছিল টেন্ডুলকার, হরভজনের সাথে। তো আসার পথে ইটের রাস্তা দেখে হরভজন বলতেছে তুম ইয়ে কিদার রেহতে হো (তুমি এটা কোন জায়গায় থাকো?) ( হাসি)।’

আজ আমাকে যা দিবা তাই খাবোঃ

‘মজার বিষয় হল ওইদিন যত্তগুলো আইটেম করেছি…। আমার ফেভারিট হল চালের রুটি গরুর মাংস, মুরগীর মাংস বা গরুর ভুড়ি আমার অনেক প্রিয়। যেহেতু ওরা আসছে চালের রুটিটাও ছিল, ইলিশ মাছ বা অন্য যা ছিল। আমরা সবাইতো অবাক, ওয়াহেদুল গনি স্যারও ছিল, উনিও বসেছে ওদের সাথে খাওয়ার জন্য। যত আইটেম ছিল সবগুলো টেন্ডুলকার খেয়েছে, চেষ্টা করেছে। খাওয়া শেষে মিষ্টি, দই দেওয়া হল ওগুলোও খাচ্ছে সে। সবাই অবাক হয়েছে যে এতবড় একজন খেলোয়াড় কীভাবে সব খাচ্ছে?’

‘পরে সে নিজেই অবশ্য বলেছে আমার একটা সময় থাকে যখন একটা রুটি খেয়ে সারাদিন কাটিয়ে দেই আবার একটা সময় থাকে যখন সামনে যা পাই তাই খাই। এখন আমার সেই সময়টা যা দিবা তাই খাবো। ওকে বললাম আমরাতো খুশি যে যা দিচ্ছি তাই খাচ্ছ।’

‘দুই ঘন্টা ছিল একটুও বিরক্ত হয়নি। আমরা নিজেরাইতো কোথাও গেলে কেউ ছবি তুললে বেশিক্ষণ হয়ে গেলে বিরক্ত হয়ে যাই। কিন্তু সে এক ফোঁটাও বিরক্ত করেনাই। আমিতো এলাকার কাউকে বলিনি কিন্তু পুলিশের গাড়ির আওয়াজে লোকজন বুঝে গেছে এ বাসায় কেউ আসছে। দুই ঘন্টা পর যখন নামলো দেখি রাস্তা ভর্তি মানুষ। তামিম আর সাকিব নামলো নেমে দেখে মানুষ তারা দৌড় দিয়ে চলে আসছে আবার দোতলায়। এসে বলতেছে আশরাফুল ভাই এত্ত মানুষ। কিন্তু টেন্ডুলকার নামলো দেখলো এত মানুষ, সবাইকে হাই , হ্যালো বলে আস্তে করে গাড়িতে উঠে গেল।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

করোনায় আক্রান্ত আরো এক সাবেক ক্রিকেটার

Read Next

‘মনে হয়েছিল খেলাটা একদম মোয়া, নামবো আর একশ করবো’

Total
9
Share