ভারতীয় কোচিং স্টাফকে ধুয়ে দিলেন যুবরাজ

যুবরাজ সিং
Vinkmag ad

ভারতের সাবেক চ্যাম্পিয়ন অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং ভারতের টি-টোয়েন্টি খেলোয়াড়দের নির্দেশনায় ব্যাটিং কোচ বিক্রম রাঠোড়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। গত বছর সঞ্জয় বাঙ্গারের স্থলাভিষিক্ত হন বিক্রম রাঠোড়।

‘সে (রাঠোড়) আমার বন্ধু। আপনাদের কি মনে হয় সে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বর্তমান প্রজন্মকে সহায়তা করছে? সে কী ঐ লেভেল পর্যন্ত ক্রিকেট খেলেছিল?’ নয়াদিল্লীতে এক ইন্সটাগ্রাম সেশনে এ কথাগুলো তুলে ধরেন যুবরাজ।

রাঠোড় ১৯৯৬ এবং ১৯৯৭ সালের মধ্যে ৬টি টেস্ট ও ৭টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেন।

যুবরাজের মতে একজন খেলোয়াড়কে নিজের ব্যক্তিত্ব ও সক্ষমতা অনুযায়ী বিবেচনায় আনা উচিত।

‘যদি আমি কোচ হতাম, তাহলে বুমরাহকে রাত ৯টায় ঘুমাতে বলতাম এবং রাত ১০টায় হার্দিককে নিয়ে পান করতে যেতাম। এভাবে আপনাকে তাদের ব্যক্তিসত্তার সাথে মিশে যেতে হবে।’

গত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া যুবরাজ ভারতের বর্তমান মুখ্য কোচ রবি শাস্ত্রীরও তীব্র সমালোচনা করেন।

‘বর্তমানে ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বা শলাপরামর্শ করেন না। যদি এটা শাস্ত্রীর দায়িত্বে না পড়ে, তবে তিনি হয়ত অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন’’ যুবরাজ জানান।

‘যাই হোক,আপনি সবসময় সবাইকে বলতে পারেন না যে যাও এবং খেলা দেখিয়ে নিজের সক্ষমতা প্রকাশ করো। এসবের বহিঃপ্রকাশ আপনি শেবাগের মত অভিজ্ঞকে বলতে পারেন, কিন্তু এটি পূজারার ক্ষেত্রে খাটবে না। তাই এসব বিষয়গুলো কোচিংয়ে নিয়োজিত কর্তাদের ধারণায় আসা উচিত।

যুবরাজ অবশ্য তার রেকর্ড ভাঙার ব্যাপারে হার্দিক পান্ডিয়াকে নিয়ে আশাবাদী।

‘হার্দিক পান্ডিয়াই হতে পারে সেই ব্যক্তি যে আমার রেকর্ড ভাঙতে পারবে। সে সত্যিই দুর্দান্ত অলরাউন্ডার। তবুও দলে একজন রাখা দরকার যে তাকে পরিচালনা করবে।

আইপিএল নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের হয়ে তার অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না, সেটাও উল্লেখ করেন।

‘কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের থেকে আমি সরে যেতে চেয়েছিলাম। পরিচালকেরা আমাকে পছন্দ করতো না। আমি তাদের কিছু জিজ্ঞেস করলে তারা কোন জবাব দিতো না। যখন আমি বিদায় নিলাম,তারা ঐসকল খেলোয়াড় কিনলো যাদের আমি দলে চেয়েছিলাম। পাঞ্জাবকে আমি ভালোবাসি কিন্তু তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজিকে না’।

গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দল নির্বাচন নিয়ে তিনি কোহলি ও তার সহযোদ্ধাদেরও তীব্র সমালোচনা করেন।

‘২০১৯ বিশ্বকাপের দল নির্বাচন ছিল আশ্চর্যজনক। এমন একজন খেলোয়াড়কে মিডল অর্ডারের নির্বাচন করা হয়েছে যারা সর্বসাকুল্যে তখন ৫টি ওয়ানডে খেলা হয়েছিল। নির্বাচকদের নিজেদের মনে তখন প্রশ্ন জাগেনি যে তারা কেমন সিদ্ধান্ত নিলো?’

২০১৪ টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২১ বলে মাত্র ১১ রান করেন যুবরাজ, যা তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খারাপ দিনগুলোর একটি। নিজেকে ঐ ম্যাচ হারার জন্য দায় দেন তিনি।

‘ফাইনালে হারার জন্য আমি নিজেই সম্পূর্ণ দায়ী। বল মারতে পারছিলাম ন, শ্রীলঙ্কাও ভালো বোলিং করেছিল। অন্যান্য ব্যাটসম্যানরাও ভালো খেলেনি তবে মিডিয়ার কাছে আমি খলনায়কে পরিণত হলাম।’

‘চন্ডিগড়ে আমার বাড়িতে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। বাড়িতে ফিরে আসার পর ভারতের টুপি ও ছয় বলে ছক্কা মারা ব্যাটটা দেখে উপলব্ধি করলাম আমার সময় শেষ।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

সেরার প্রশ্নে আদিল রশিদের কণ্ঠে ইশ সোধির সুর

Read Next

বিগ ব্যাশের চেয়ে যেকারণে পিএসএল-আইপিএলকে এগিয়ে রাখলেন ওয়াটসন

Total
62
Share