সাকিব মনে করেন ক্রিকেটারদের দাবির বেশিরভাগই পূরণ হয়েছে

সাকিব আল হাসান
Vinkmag ad

গতবছর আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় পড়ার আগে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে দেশের ক্রিকেটে বড়সড় এক আন্দোলনের ডাক দেন জাতীয় দল ও প্রথম শ্রেণির শ’খানেক ক্রিকেটার। ক্রিকেটাররা খুব কাছাকাছি থাকা ভারত সফর বাতিলের হুমকিও দিয়েছিলেন ১১ দফা (পরবর্তীতে ১৩ দফা) দাবি উত্থাপন করে। বোর্ড-ক্রিকেটারদের বৈঠকের পর বিসিবির দেওয়া আশ্বাসে সবকিছু স্বাভাবিক হয়, ক্রিকেটাররা মাঠে ফেরে। কিন্তু তথ্য গোপনের অভিযোগে সাকিব আল হাসানের ওপর আরোপ হয় আইসিসির নিষেধাজ্ঞা।

সময়ের চোরা স্রোতে ইতোমধ্যে কেটে গেছে ৬ মাসের বেশি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বেতন, ম্যাচ ফি বাড়ানো, জাতীয় দলের চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারের সংখ্যা বাড়ানোসহ নানা দাবির কতটুকুই পূরণ করেছে বোর্ড? বেশ কিছু জায়গায় পরিবর্তন হয়েছে, বিসিবি অঙ্গিকার পালনও করেছে। আবার গুরুত্বপূর্ণ কিছু জায়গা আগেরমতই রয়ে গেছে।

যার নেতৃত্বে এই আন্দোলন সেই সাকিব আল হাসান কি খবর রাখছেন সবকিছু ঠিকঠাকভাবে পূরণ হচ্ছে কিনা? আজ (১১ মে) ডয়েচে ভেলে বাংলার (ডিডব্লিউ) খালেদ মহিউদ্দিনের সঙ্গে লাইভ আড্ডায় সাকিবকে করা হয় এমন প্রশ্ন। সাকিব বলছেন মূল দাবি দাওয়ার বেশিরভাগই হয়েছে পূরণ তবে যেসব হয়নি সেসবের জন্য লাগবে সময়। সাকিবের কথায় রয়েছে বাস্তবতাও, কিছু দাবি দাওয়া পূরণ সময় সাপেক্ষই, বিশেষ করে একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই করতে হয়ে।

এ প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে প্লেয়াররা সবাই সবার সাথে তো আলোচনা করেই। আমার কাছে যেটা মনে হয় প্লেয়ারদের বেসিক যে চাওয়া-পাওয়া ছিল তার সবগুলাই ফুলফিল হয়েছে। দুই-একটা যেগুলো হয়নি সেগুলো হতে অবশ্য সময়ও লাগবে, যেটার জন্য আসলে অপেক্ষা করতে হবে। আর, বাকি বেশিরভাগ চাওয়া-পাওয়াই আমার মনে হয় ফুলফিল হয়ে গিয়েছে।’

‘একারণে আমার মনে হয় প্লেয়াররাও সবাই খুশি, তারা এখন চায় যতবেশি খেলা হোক এবং মাঠে থাকতে। যদিও করোনা এসে সবকিছুই এলোমেলো করে দিয়েছে। আমি আশা করি খুব তাড়াতাড়ি এই অবস্থা বাংলাদেশ ও পুরো বিশ্বে ঠিক হবে এবং সবাই মাঠে ফিরতে পারবে।’

গতবছর অক্টোবরে ক্রিকেটারদের আন্দোলনে যে ১৩ দফা দাবি উঠে আসে সেগুলো হল-

১. কোয়াবের বর্তমান কমিটিকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। প্রফেশনাল ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

২. প্রিমিয়ার লিগ আগের মত করতে হবে। নিজেদের ডিল করতে দিতে হবে।

৩. এ বছর (২০১৯) না হোক, তবে পরের বছর থেকে আগের মত বিপিএল হতে হবে, স্থানীয় ক্রিকেটারদের দাম বাড়াতে হবে।

৪. প্রথম শ্রেণির ম্যাচ ফি বাড়াতে হবে, বেতন বাড়াতে হবে, ১২ মাস কোচ ফিজিও দিতে হবে, প্রতি বিভাগে অনুশীলনের ব্যবস্থা করতে হবে।

৫. রিমিউনারেশন বাড়াতে হবে। ভালো সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

৬. চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারের সংখ্যা ও তাঁদের বেতন বাড়াতে হবে।

৭. দেশি সব স্টাফদের বেতন বাড়াতে হবে, কোচ থেকে গ্রাউন্ডসম্যান, আম্পায়ার সবার বেতন বাড়াতে হবে।

৮. ঘরোয়া ওয়ানডে লিগ বাড়াতে হবে, বিপিএলের আগে আরেকটি টি-টোয়েন্টি লিগ করতে হবে।

৯. ঘরোয়া ক্যালেন্ডার আগে থেকেই ঠিক করতে হবে।

১০. সব লিগে ক্রিকেটারদের পাওনা টাকা সময়ের মধ্যে দিতে হবে।

১১. ফ্রাঞ্চাইজি লিগ দুইটার বেশি খেলা যাবে না-এমন নিয়ম তুলে দিতে হবে। সুযোগ থাকলে সবাই খেলবে।

১২. বিসিবির যে রেভিনিউ জেনারেট হচ্ছে তার একটা অংশ ক্রিকেটারদের দিতে হবে।

১৩. বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের জন্যও একই রকম নিয়ম প্রযোজ্য হবে। ক্রিকেটাররা মনে করে নারী ক্রিকেটাররাও সমান অধিকার ডিজার্ভ করে।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

বিশ্বকাপে সাকিবের তিনে নামা, নেপথ্যে ডি ভিলিয়ার্স

Read Next

আকবররা আশাবাদী করেছে সাকিবকে

Total
13
Share