বিশ্বকাপে সাকিবের তিনে নামা, নেপথ্যে ডি ভিলিয়ার্স

সাকিব আল হাসান এবি ডি ভিলিয়ার্স
Vinkmag ad

২০১৮ এশিয়া কাপ থেকেই সাকিব আল হাসান ব্যাটিং অর্ডারে তিন নম্বরে নিয়মিত হতে শুরু করেন। এরপর ২০১৯ বিশ্বকাপে তিন নম্বরে খেলেই গড়েছেন ইতিহাস, ব্যাট হাতে কাটিয়েছেন ক্যারিয়ারের সেরা সময়। ৮ ইনিংসে ৮৬.৫৭ গড়ে ২ সেঞ্চুরির সাথে ৫ ফিফটিতে ৬০৬ রান করেছেন বাংলাদেশ অলরাউন্ডার। অথচ তার তিন নম্বর পজিশনে ব্যাট করা নিয়ে দোটানা ছিল টিম ম্যানেজমেন্ট, সতীর্থ খেলোয়াড়দের মধ্যেও। সাকিব নিজে অনড় ছিলেন আর অধিনায়ক মাশরাফির সমর্থন পেয়েছেন বলে শেষ পর্যন্ত ব্যাট করেছেন পছন্দমত পজিশনেই।

বিশ্বকাপের তিন নম্বর পজিশনে ব্যাট করা নিয়ে বাংলাদেশের পোস্টারবয় কথা বলেছেন প্রোটিয়া তারকা ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্সের সাথেও। ডি ভিলিয়ার্সের ধ্যান ধারণাই সাকিবকে আরও বেশি উৎসাহী করে তিন নম্বরে নেমে দলে অবদান রাখার ব্যাপারে। ম্যাচের আগেরদিনও নিজে নিশ্চিত কিনা এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে সাকিবকে যা বাড়তি চাপ ও চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখেছেন টাইগার অলরাউন্ডার।

সাকিবের তিন নম্বরে খেলা নিয়ে দ্বিমত ছিল তামিম ইকবালেরও। জাতীয় দলের বর্তমান ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম নিজেই জানিয়েছেন সেটি। দিন কয়েক আগে ফেসবুক লাইভে সদ্য বিদায়ী ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফির সাথে আড্ডার ফাঁকে তামিম বলেন, ‘আমি অ্যাকচুয়ালি মনে করি নাই যে ওর তিনে খেলা উচিৎ ছিল। কারণ আমার কাছে মনে হচ্ছিল যদি ধরেন আমি আর ও একসাথে আউট হয়ে যাই তাহলে টিমের ওপর অনেক বড় প্রেশার পড়বে। বাট আপনি একজন ছিলেন, আর সাকিব অবশ্যই অনেক কনফিডেন্ট ছিল। ও তিনে ব্যাট করতে চেয়েছিল। আর আপনি (মাশরাফি বিন মর্তুজা) ওকে সাপোর্ট করেছেন, আমার মনে আছে।’

তিন নম্বরে ব্যাট করার ক্ষেত্রে নিজের ভাবনা জানাতে গিয়ে সাকিব আল হাসান ডয়েচে ভেলে বাংলার (ডিডব্লিউ) লাইভ আড্ডায় বলেন, ‘বিশ্বকাপের আগে যখন বিপিএল হলো তখন আমি ডি ভিলিয়ার্সের সাথে কথা বলছিলাম। এমনিই সাধারণ কথা হচ্ছিলো। সে সময় ও আমাকে বলে যে, ওর মনে হয় সবসময় সে পরের দিকে ব্যাটিং করেছে। সে যদি ৩ এ ব্যাটিং করতো তাহলে দলের জন্য আরও অবদান রাখতে পারত এবং রান করতে পারত। দলের কথা ভেবে ওকে সবসময় ৪, ৫, ৬ এ খেলতে হয়েছে।’

‘ওর তত্ত্ব ছিল মিডল অর্ডারে খেলে সে ৭০-৮০ করছে, এতে দলের লাভ হচ্ছে আবার মাঝে মাঝে কাজে আসছে না। কিন্তু তিনে খেললে ১০০-১২০ করতে পারবে, দলকে জেতাতে পারবে। পরে চাপ নিতে হবে না। চিন্তা থাকতো ২-৩ উইকেট পড়ে গেলে হাল ধরবো বা দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। ওর ক্ষেত্রেও জিনিসগুলো এমন ছিল। ও সে সময় বলছিল, ওপরে খেললে বড় রান করতে পারতাম, পরের ব্যাটসম্যানরা চাপে পড়তো না। দুই ভাবেই চিন্তা করার জায়গা আছে, কোনটা ঠিক কোনটা ভুল এটা আমি বলবো না। দুইটাই ঠিক, দুইটাই ভুল। ব্যাপারটা হচ্ছে আপনি যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেন আপনার নিয়তটা হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

‘ভালোর জন্য নিচ্ছেন না খারাপের জন্য। যদি ভালোর জন্য নেন এবং সবাই এটাকে বিশ্বাস করে, জিনিসটা ভুল হলেও ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু ভালো চিন্তা না করে ঠিক সিদ্ধান্ত নিলেও কেউ বিশ্বাস না করলে সেটা ভুল হয়ে যাবে। বিষয়গুলো এমন। তখন থেকেই আমার এমন চিন্তা ছিল, যেহেতু আমি টি-টোয়েন্টিতে ওপরে ব্যাটিং করেছি, আমি মনে করেছি আমি দলের জন্য আরও অবদান রাখতে পারি ব্যাটিং দিয়ে। যেটা আমি করতে পারছি না। এরপরেই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে উপরে ব্যাটিং করবো।’

তিন নম্বরে বাংলাদেশ দলে স্থায়ী কেউ ছিলনা বলেই সাকিব ঝুঁকি নিয়েছেন উল্লেখ করে যোগ করেন, ‘এই পজিশনেও আমাদের নির্দিষ্ট কেউ ছিল না, তাই ভাবলাম একটা চেষ্টা করে দেখি। যেহেতু বিশ্বকাপ ছিল চ্যালেঞ্জটা অনেক বড় ছিল। এমনকি ম্যাচের আগের দিন রাতেও ফোন এসেছে, শিওর? আমি করবো কি করবো না? জিনিসগুলা অনেক সংকটপূর্ণ এবং চাপও বলতে পারেন। আপনার যখন আসলেই কল আসে এবং জিজ্ঞেস করে করব কি করব না? করাটা ঠিক হবে কিনা, মনে হচ্ছে না ঠিক হবে।’

‘সবাই যেভাবে বলেছে বা চিন্তা করেছে আসলে ঠিক হচ্ছে না বা ঠিক হবে না। সবাই যখন দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকে তখন আপনার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়াটা আরও কঠিন হয়ে যায়। সবাই আপনার সাথে থাকলে, তখন একটা আলাদা বিষয়। আমার জন্য অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ ছিল, তাদের কষ্ট, অবদান, ত্যাগ, সবার বিশ্বাস এই সময় অনেক বেশি কাজে এসেছে।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

রাজনীতিতে আসার প্রশ্নে সাকিবের উত্তর

Read Next

সাকিব মনে করেন ক্রিকেটারদের দাবির বেশিরভাগই পূরণ হয়েছে

Total
175
Share