‘ওয়াসিম আকরামের সঙ্গে ঝামেলা লেগেই থাকত’

খালেদ মাহমুদ সুজন ওয়াসিম আকরাম
Vinkmag ad

১৯৯৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ পেসার খালেদ মাহমুদ সুজনের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ঐতিহাসিক পাকিস্তান বধ সম্ভব হয়। নিজের স্বল্প গতি আর দক্ষতা নিয়েও দিনের পর দিন লড়াকু মানসিকতা নিয়ে খেলে যাওয়া একজন খালেদ মাহমুদ। সাবেক এই অধিনায়ক পাকিস্তানের বিপক্ষেও সেদিন নিজের আগ্রাসী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ করেন। তার আগ্রাসী রূপের কিছুটা দেখেন পাকিস্তানি বাঁহাতি কিংবদন্তী পেসার ওয়াসিম আকরাম। পরে যা দুজনের লড়াইয়েও পরিণত হয়, সুজনকে ‘ছোটু’ নামেও ডাকতেন ওয়াসিম।

বিশ্বকাপের পর এশিয়া কাপ খেলতে এসে বাউন্সার দিয়ে আঘাত করতে সুজনকে খুঁজেছেনও পাকিস্তানি এই তারকা পেসার। মজার এক গল্পও প্রচলিত আছে সুজন-ওয়াসিমকে ঘিরে। তামিম ইকবালের ফেসবুক লাইভ আড্ডায় এসে গতকাল (১০ মে) সেটিই পুনরায় শোনালেন বর্তমান ক্রিকেট পরিচালক ও কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন। আড্ডায় তার সঙ্গী ছিল তার দুই সাবেক সতীর্থ বিসিবি পরিচালক নাইমুর রহমান দুর্জয় ও জাতীয় দলের নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন।

তামিমের অনুরোধে ওয়াসিমের সাথে মজার সেই ঘটনা নিয়ে বলতে গিয়ে সুজন জানান, ‘আমি তিন উইকেট পেয়ে গেছি (১৯৯৯ বিশ্বকাপ), পাকিস্তান চাপে আছে। আমাদেরতো কঠিন পরিশ্রম ছাড়া আর কিছুই ছিলনা সত্যি কথা। ওয়াসিম আকরাম আমার একটা ওভার মোকাবেলা করেছে, ঐ ওভারে আমি একটা চারও খেয়েছি। এরপর আমি ওর চোখের দিকে তাকিয়েছি। এর পেছনে কারণ হল আমাদের তখন একজন পেস বোলিং কোচ ছিল নামটা ঠিক মনে নাই। তো একদিন নেটে আমি বিদ্যুৎকে (শাহিরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ) বল করেছিলাম সে একটা ভালো শট খেলায় আমি বলেছি গুড শট।’

‘তখন সে (বোলিং কোচ) আমাকে বলেছে তুমি কি ম্যাচে গিয়েও এরকম বলবা? আমি বললাম না অসম্ভব। তখন সে আমাকে বলল তুমি গালি দেওয়ার দরকার নাই শুধু চোখ গরম কইরো। আমি বললাম ঠিক আছে। তো ম্যাচে গিয়ে আমি ওয়াসিম আকরামকে চোখ রাঙিয়েছি। সে আমার উপর গরম হয়ে গেছে, বলল এই ছোটু! এটা নিয়ে আকরাম ভাইকেও বিচার দিয়েছে যে এই ছোটুকে সাবধান কর। এরপর অবশ্য নান্নু ভাইয়ের বলে আউট হয়ে গেল।’

‘এরপর এশিয়া কাপে পাকিস্তানের সাথে খেলা আমাদের ঢাকায়। আমি, দুর্জয়, পাইলটতো পর পর যেতাম (ব্যাটিং অর্ডারে), ৬,৭,৮ এরকম। আমি ৭ এ গেছি, দুর্জয় ৬ এ গেছে সম্ভবত। তো আমরা দ্রুত আউট হয়ে গিয়েছি (৮৭ রানে অলআউট)। আমি আজহার মাহমুদের বলে আউট (৪) হয়ে চলেও এসেছি। তো শেষের দিকে যারা গিয়েছে একজনকে ওয়াসিম জিজ্ঞেস করলো এই তোমাদের ছোটু কই? আজ খেলছেনা সে? তো আমাদের ঐ ব্যাটসম্যান জবাব দিল সে খেলছেতো, আউট হয়ে চলেও গিয়েছে। তখন সে বলল কখন চলে গেছে? আমি আরও ভাবলাম ও আসলে ওকে বাউন্সার মারবো।’

সুজন জানান, ঝামেলা লেগেই থাকত ওয়াসিমের সঙ্গে।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

তামিমের দুঃখ প্রকাশ, করোনা টেস্টে ‘পজিটিভ’ নন জাভেদ ওমর

Read Next

‘সবাই আগে নেট বোলার ছিল, চাচা পরে নেট বোলার হয়েছে’

Total
4
Share