নির্বাচক হবার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন পাইলট

খালেদ মাসুদ পাইলট
Vinkmag ad

দেশের ক্লাব ক্রিকেটে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার খবর নতুন কিছু নয়। ক্রিকেটার তৈরির প্রথম ধাপগুলোর একটি প্রথম বিভাগ ক্রিকেট, সেখানেও ক্লাবের প্রভাব বিস্তার, আম্পায়ারদের পক্ষপাতিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠে প্রতিবছরই। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ (ডিপিএল)। সাবেক টাইগার অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট এবার অনিয়মের অভিযোগ এনে আঙ্গুল তুললেন ডিপিএলের দিকে। ফিরিয়ে দিয়েছেন বিসিবির নির্বাচক হবার প্রস্তাব।

সাবেক উইকেট রক্ষক এই ব্যাটসম্যান এতটাই বিরক্ত যে, সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পরিবেশ ঠিক না হলে আর ঢাকা লিগে কোচিংই করাবেন না।

প্রায় এক যুগের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে যতি পড়ে ২০০৭ সালে। দেশের অন্যতম সেরা এই উইকেট রক্ষক এরপর ঘরোয়া লিগে নিয়মিত ছিলেন ২০১১ সাল পর্যন্ত। সবধরণের ক্রিকেট ছেড়ে কোচিং পেশায় যুক্ত হন খালেদ মাসুদ, ঢাকা লিগেও করিয়েছেন কোচিং। ঢাকা লিগের গত আসরে কাজ করেছেন প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের কোচ হিসেবে। কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্ট নয়, লিগের পরিবেশের উপরই ক্ষোভ পাইলটের। এবারে আসরে তাই যুক্ত হননি কোন দলের সাথে।

জাতীয় দৈনিক মানবজমিনকে খালেদ মাসুদ পাইলট বলেন, ‘ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে কোচিং করানোর মত পরিবেশ দেখিনা। এখানে সব কিছুই সাজানো থাকে। এখানে কে চ্যাম্পিয়ন হবে সেটাও আগেই ঠিক হয়ে থাকে। সেখানে দেওয়ার মত কিছু নেই, এমন জায়গায় কাজ করে কি লাভ? যেখানে আমার দলকে আমি চ্যাম্পিয়ন করাতে পারবো না সেখানে কোচিং করানো দরকার কি? গত বছর প্রাইম ব্যাংকে কাজ করেছি। তাদের ম্যানেজমেন্ট ভালো। তবে লিগে যে পরিবেশ হয়েছে এখানে আম্পায়াররাও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনা। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি এমন পরিবেশে আর কোচিং করাবো না।’

সাবেক এই ক্রিকেটরা বর্তমানে বিসিবির কোন কিছুর সাথেই যুক্ত নেই। মাঝে জাতীয় দলের ম্যানেজার হিসেবে কিছুদিন কাজ করলেও বর্তমানে নিজ শহর রাজশাহীতে একাডেমি নিয়েই ব্যস্ত পাইলট। ভবিষ্যতে ঢাকা লিগে কোচিং করানোর পরিবেশ তৈরি হলে কাজ করতে পারেন বলেও জানান ৪৪ বছর বয়সী এই সাবেক ক্রিকেটার,

‘কোচিং করাবো কিনা সেটি নির্ভর করে পরিবেশের উপর। যদি মনে হয় না, সব কিছু ঠিক আছে তাহলে ফিরতেও পারি। তার আগে নিজের একাডেমি নিয়েই থাকবো।’

বিসিবির নির্বাচক হওয়ার প্রস্তাব পেয়েও শেষ পর্যন্ত যোগ দেননি আর্থিক বনিবনা না হওয়ায়। বিসিবির প্রদান করা পারিশ্রমিক পর্যাপ্ত মনে হয়নি পাইলটের, ‘নির্বাাচক হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলাম। বিসিবি তাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমার দিক থেকে আপত্তি ছিল নির্বাচকদের যে পারিশ্রমিক দেওয়া হয় তা নিয়ে। আমি মনে করি সেটা একদমই পর্যাপ্ত নয়।’

‘বাংলাদেশের টাকার হিসেবে করলে অনেক বেশি। কিন্তু আমি মনে করি না এতে জীবন চালানোর নিশ্চয়তা আছে। দল খারাপ করলেই বাদ দিয়ে দিবে। তখন কি করবো? কারণ এখানে আমি আমার সব কিছু বাদ দিয়ে এত পরিশ্রম করেও যদি মানসম্মত সম্মানী না পাই তাহলে কাজ করে লাভ কি?’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

ফেরার চেষ্টারত মুন্না শোনালেন সংগ্রামের গল্প

Read Next

মা দিবসে বাবর আজমের আবেগী বার্তা

Total
11
Share