নিষিদ্ধ হয়ে তাসকিনের প্রশ্ন ছিল- ‘কি এমন করলাম!’

তাসকিন আহমেদ
Vinkmag ad

২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জন্য হতাশার সংবাদ কম ছিলনা। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের পর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই অবৈধ বোলিং অ্যাকশন সন্দেহে নিষিদ্ধ হন পেসার তাসকিন আহমেদ ও বাঁহাতি অর্থোডক্স বোলার আরাফাত সানি। তাসকিন-সানিবিহীন ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ১ রানের সেই হার এখনো হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করে কোটি টাইগার ভক্তের। সব মিলিয়ে তাসকিনের নিজের জন্য সময়টা বিষাদে পরিপূর্ণ ছিল, নিজে নিষিদ্ধ হলেন, হোটেলে বসে দেখলেন দলের সেই ১ রানের হারা ম্যাচ।

সময় পেরিয়েছে, সব বাঁধা পেছনে ফেলে তাসকিন ফিরে এসেছেন। অদম্য ইচ্ছেশক্তির সাথে পরিশ্রমের মিশেলে ২২ গজে ঝড় তুলেছেন। কিন্তু মাঝের সময়টা ক্যারিয়ারের বড় এক শিক্ষা হয়েই এসেছে ডনহাতি এই পেসারের। তামিম ইকবালের নিয়মিত লাইভ আড্ডার অতিথি হয়ে এসে গতকাল (৮ মে) তাসকিন শোনালেন সেই কঠিন সময়টা পাড়ি দেওয়ার গল্প। তাকে সঙ্গ দেওয়া, সঠিক নির্দেশনা দিয়ে ফিরে আসতে সাহায্য করাদের অবদানও স্বীকার করেছেন এই পেসার।

অবৈধ বোলিং অ্যাকশন সন্দেহে নিষিদ্ধ হওয়ার সময়টা কেমন ছিল জানতে চেয়ে তামিমের করা প্রশ্নের জবাবে তাসকিন বলেন, ‘পাকিস্তান (২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ) ম্যাচের পরের ম্যাচটাই ছিল ভারতের সাথে। ঐ ম্যাচের আগেই আমাকে নিষিদ্ধ করলো। সেটা ব্যাঙ্গালোরে, ভারতের বিপক্ষে সবাই ম্যাচ খেলতে গেছে আমি একাই হোটেলে। ম্যাচটা আমরা ১ রানে হেরেছি। ঐ ম্যাচটা হারের পর আমরা প্রায় সবাই কান্না করেছি। আমার খুব কষ্ট লেগেছিল। একেতো ব্যান হলাম আবার ম্যাচটাও হারলাম। ঐ ম্যাচটা দোয়া করেছি অনেক। হয়নি, পরেতো একা একা এসে পড়েছি দেশে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের আগেই।’

‘প্লেনে অনেক কান্না পেয়েছিল, এয়ারপোর্টে, বাসায় আসার পরেও খুব খারাপ লাগছিল। কি এমন করলাম যে আমাকে ব্যান করা হল! এরপর ৬ মাস কোন আন্তর্জাতিক খেলা ছিলনা। বিষয়টা এমন ছিল আমি যদি আবার পরীক্ষা দিয়ে ব্যর্থ হই তবে ১ বছর খেলতে পারবোনা। দ্বিতীয়বার ধরা খেলে ২ বছর খেলতে পারবোনা আর তৃতীয় বার একই ব্যাপার হলে আজীবন নিষিদ্ধ।’

তখনকার পেস বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিক ও বিসিবির পেস বোলিং কোচ মাহবুব আলি জাকির নিরলস পরিশ্রমে তাসকিন নিজেকে বৈধ প্রমাণ করেছেন। পরীক্ষার আগে নিজের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে জানাতে গিয়ে ২৫ বছর বয়সী এই পেসার বলেন,

‘এরপর যখন সবাই দেশে আসলো, হিথ স্ট্রিক চলে যাবে যাওয়ার আগে মাহবুব আলি জাকি স্যার আমার প্রজেক্টটা তার হাতে দিল। আমি দিন-রাত ড্রিল করতাম, একাডেমিতে গিয়ে জাকি স্যারের সাথে অনুশীলন করতাম।’

‘উনি ঐ সময়টা আমাকে না বলেই বাসায় আসতো দেখার জন্য যে আমি ড্রিলগুলো ঠিকঠাক করছি কিনা। তখন নামাজ পড়ে আমার একটাই শুধু দোয়া থাকতো আল্লাহ আমাকে তুমি এই বিপদ থেকে উদ্ধার কর। পরে আমি যখন অস্ট্রেলিয়াতে যাই পরীক্ষা দিতে তার আগেরদিনও রোজা রাখছিলাম। এরপর তো পাশ করলাম।’

নিষিদ্ধ হওয়ার ৬ মাস পর নিজেকে বৈধ প্রমাণ করে তাসকিন মাঠে নামেন দেশের মাটিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে। তামিম ইকবালের ৮০ রানের ইনিংস খেলা ঐ ম্যাচে বাংলাদেশ জিতে ৭ রানে। বল হাতে ৫৯ রান খরচায় তাসকিন ৪ উইকেট তুলে নিয়ে প্রত্যাবর্তনটা রাঙান ভালোভাবেই।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

‘ওয়ার্ন শচীনের সামর্থ্যকে ঘৃণা করতেন’

Read Next

আফ্রিদির চোখে সর্বকালের সেরা বিশ্বকাপ একাদশ

Total
1
Share