একসাথে ৩২ কোটি গালি খেয়েছিলেন তামিম!

তামিম ইকবাল ২০১৫ বিশ্বকাপ
Vinkmag ad

২০১৫ বিশ্বকাপে অ্যাডিলেডে রুবেল হোসেনের দুর্দান্ত ইয়র্কারে জিমি অ্যান্ডারসনের স্টাম্প যখন বাতাসে উড়ছে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ তখন বুক থেকে পাথর সরে যাওয়ার স্বস্তিতে মেতে উঠেছিল। তবে ঐ জয়ের পর নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বেশি স্বস্তি পেয়েছেন একজন, বাংলাদেশ জাতীয় দলের বর্তমান ওয়ানডে কাপ্তান তামিম ইকবাল। ইংলিশদের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দেওয়া ম্যাচটি বাংলাদেশ হারতেও পারতো। আর তার বড় দায়টা যে নিতে হত তামিমকেই।

হাতে দুই উইকেট নিয়ে জয়ের জন্য ইংলিশদের প্রয়োজন ১৫ বলে ২০ রান, ক্রিজে সেট ব্যাটসম্যান ক্রিস ওকস। তাসকিন আহমেদের করা ৪৮ তম ওভারের চতুর্থ বলে মিড অনে ওকসের সহজ ক্যাচ ছাড়লেন তামিম ইকবাল। পুরো বাংলাদেশই যেন থমকে যাওয়ার উপক্রম, হাতের মুঠোয় এনেও তবে কি আরও একবার স্বপ্ন ভঙ্গের সাক্ষী হবে টাইগাররা। না, ক্রিকেট বিধাতা সেদিন রুবেল হোসেনকে বানিয়েছিলেন ত্রানকর্তা।

রুবেলের ৪৯ তম ওভারেই ইংলিশরা অলআউট, অ্যান্ডারসনকে বোল্ড করে পাগলের মত ছুটছেন পেসার রুবেল হোসেন। তার পেছন ছুটছে বাকী সতীর্থরা,অধিনায়ক মাশরাফি লুটিয়ে পড়েছেন অ্যাডিলেডের সবুজ গালিচায়। রুবেলের পেছনে ছোটাদের মধ্যে তামিম ছিলেন অন্যতম। দলের এমন অর্জনের পাশাপাশি নিজেকে অপরাধী ভাবা তামিম যে রক্ষা পেলেন রুবেলের কল্যাণে।

করোনা ভাইরাসের কারণে চলমান গৃহবন্দী জীবনে সময়টাকে উপভোগ্য করতে তামিম নিয়মিত লাইভ আড্ডা দিচ্ছেন সতীর্থদের সাথে। গতকাল (৮ মে) তামিমের অতিথি হিসেবে ছিলেন তাসকিন আহমেদ ও রুবেল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন নাসির হোসেনও। আর সেখানেই ঐ ক্যাচ মিসের পর তামিমের অনুভূতি কি ছিল জানতে চান অলরাউন্ডার নাসির।

তামিমের জবাব, ‘আমি ওই মুহূর্তে ৩২ কোটি গালি খেয়েছি। কারণ বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ একটা করে তো দেয় নাই, দুইটা করে গালি দিয়েছে। রুবেল মা শা আল্লাহ যে বোলিং করলো দুইটা উইকেট নিয়ে নিল। ওই ম্যাচের হাইলাইটস দেখলে দেখবি যে সবাই রুবেলের পেছনে দৌড়ায়। সবাই রুবেলের পেছনে দৌড়েছে কারণ ম্যাচ জিতে গেছি। আমি রুবেলের পেছনে দৌড়েছি কারণ আমি বেঁচে গেছি। যদি ওই ম্যাচ হারতাম আমার আর বাংলাদেশে আসা লাগতো না।’

মজার ছলে রুবেলের পাল্টা প্রশ্ন, ‘ভাই দেশে না আসলে কোন দিকে যেতেন?’

তামিমের জবাব, ‘যেকোন এক জায়গায় চলে যেতাম তবে বাংলাদেশে আসতাম নারে ভাই। দেশে ফিরলে মানুষ আমাকে মেরেই ফেলতো।’

ওকসের ক্যাচ মিস করে তামিমের তাৎক্ষণিক মানসিক অবস্থা কি ছিল জানিয়েছেন সেটিও, ‘সবারই মনে আছে, ২০১৫ বিশ্বকাপে আমি ওকসে ক্যাচটা ছেড়েছিলাম। যখন খেলাটা ক্লোজ হয়ে গিয়েছিল। তাসকিনের বলে। ক্যাচটা ছাড়ার পর আমার কাছে মনে হচ্ছিলো মাটি ফাঁক হয়ে যাক আমি ভিতরে ঢুকে যাই আমাকে কেউ আর দেখার দরকার নাই।’

২০১৫ বিশ্বকাপে ক্রিস ওকসের ক্যাচ, ২০১৯ বিশ্বকাপে রোহিত শর্মার ক্যাচ মিস করেছিলেন তামিম ইকবাল। তামিম বলেন, বিশ্বকাপ আসলেই ক্যাচ মিস করেন তিনি! যদি ২০২৩ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পান তাহলে সব পুষিয়ে দেবেন তিনি।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

লাইভ সেশনের সার্থকতা খুঁজে পেলেন তামিম

Read Next

তাসকিন-নাসির শোনালেন রুবেলের দাঁত পড়ে যাবার কাহিনী!

Total
8
Share